১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ময়মনসিংহে বাস-মাহিন্দ্রার সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৮, আরেক দুর্ঘটনায় ৩ মৃত্যু

জেলা পুলিশ সুপার কাজী আখতার উল আলম বলেন, বেপরোয়া গতি ও চালকদের অদক্ষতার কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে।

ময়মনসিংহে বাস-মাহিন্দ্রার সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৮, আরেক দুর্ঘটনায় ৩ মৃত্যু
ময়মনসিংহের ফুলপুরে বাস-মাহেন্দ্রা সংঘর্ষে আটজন নিহত হয়েছেন। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়।

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 21 Jun 2025, 10:10 AM

Updated : 26 Aug 2026, 01:14 PM

ময়মনসিংহের দুই উপজেলার সড়কে দুর্ঘটনায় প্রাণ ঝরলো ১১ জনের। এর মধ্যে ফুলপুরে বাস-মাহেন্দ্রা সংঘর্ষে আটজন এবং তারাকান্দায় অ্যাম্বুল্যান্স- অটোরিকশা সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। 

ফুলপুর উপজেলায় শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে কুরিয়ার ব্রীজ সংলগ্ন স্থানে ও তারাকান্দা উপজেলায় বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে রামচন্দ্রপুর এলাকায় হিমালয় ফিলিং স্টেশনের সামনে দুর্ঘটনাগুলো ঘটে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার কাজী আখতার উল আলম।

ফুলপুরে নিহত ৮ জনের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন- ফুলপুর উপজেলার কাজিয়াকান্দা গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে ফরিদ মিয়া (৩৮), নিশুনিয়াকান্দা গ্রামের ময়েজ উদ্দিনের ছেলে জহর আলী (৭০), বাট্টা গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের স্ত্রী হাসিনা খাতুন (৫০), পার্শ্ববর্তী হালুয়াঘাট উপজেলার কয়ারহাটি গ্রামের মৃত হাজী জবান আলীর ছেলে শামসুদ্দিন (৬৫) ও রংপুরের আজিম উদ্দিন (৩৫)। তারা সবাই মাহেন্দ্রার যাত্রী।

অন্যদিকে তারাকান্দায় নিহতরা হলেন- জেলার ধোবাউড়া উপজেলার বরাটিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল বারেকের স্ত্রী জবেদা খাতুন (৮৫), ফুলপুর উপজেলার মদীপুর সুতারপাড়া গ্রামের জামাল উদ্দিনের ছেলে রাকিবুল হাসান (১৫) এবং  ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের শুইলাম বুধবারিয়া গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলম (৩৫), তিনি সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক ছিলেন।

ফুলপুর থানার ওসি মো. আব্দুল হাদি যায়, রাতে হালুয়াঘাট থেকে ছেড়ে আসা শ্যামলী বাংলা পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি দ্রুতগতিতে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। ফুলপুর থেকে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী মাহেন্দ্রা হালুয়াঘাটের দিকে যাচ্ছিল। 

রাত পৌনে ৯টার দিকে বাসটি কুরিয়ার ব্রিজ সংলগ্ন স্থান পর্যন্ত আসতেই বিপরীত দিক থেকে আসা মাহেন্দ্রার সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মাহেন্দ্রায় থাকা চার পুরুষ ও এক নারী নিহত হন। এসময় গুরুতর আহত হন আরও ৬ জন। 

তাদের মধ্যে একজনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও ৫ জনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আরও দুজনের মৃত্যু হয়। 

ওসি আরও বলেন, দুর্ঘটনার পরপরই বাসের চালক, সহকারী পালিয়ে যান। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা বাসে আগুন ধরিয়ে দিলে একঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ারসার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।

তারাকান্দা থানার ওসি মোহাম্মদ টিপু সুলতান বলেন, বিকালে যাত্রীবাহী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ময়মনসিংহের দিকে যাচ্ছিল। সাড়ে ৫টার দিকে ময়মনসিংহ-শেরপুর আঞ্চলিক সড়কে উপজেলার রামচন্দ্রপুর এলাকায় হিমালয় ফিলিং স্টেশনের সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অ্যাম্বুল্যান্সের সঙ্গে অটোরিকশাটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায়।

ঘটনাস্থলেই অটোরিকশার যাত্রী এক নারী ও এক শিশু নিহত হয়। এসময় অটোরিকশার চালক ছাড়াও আরও তিন যাত্রী আহত হন। এছাড়াও আহত হয় অ্যাম্বুল্যান্সের হেলপারসহ আরও একজন। 

পরে আশপাশের লোকজন তাদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অটোরিকশার চালক মোহাম্মদ আলম মারা যান।

ওসি টিপু সুলতান আরও বলেন, অ্যাম্বুল্যান্সটি পার্শ্ববর্তী হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের। গাড়িতে কোনো রোগী ছিল না। দুর্ঘটনার পরপরই চালক পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

এদিকে দুর্ঘটনার পরপরই ফুলপুরে ছুটে যান জেলা পুলিশ সুপার কাজী আখতার উল আলম। 

তিনি দুঃখপ্রকাশ করে বলেন, বেপরোয়া গতি ও চালকদের অদক্ষতার কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে। 

এ-সময় আহতদের চিকিৎসা সহযোগিতার কথা জানিয়ে দুর্ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।

আরও পড়ুন

ময়মনসিংহে বাস-মাহিন্দ্রার সংঘর্ষে ছয়জন নিহত