Published : 07 Jan 2025, 12:11 AM
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার এক স্কুল শিক্ষককে আটক রেখে মারধর করে চাঁদা আদায় ও ফাঁকা স্ট্যাম্পে সই নেওয়ার অভিযোগ দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
ঘটনার দুই দিন পর সোমবার এ ঘটনায় জড়িত দুইজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানান উপজেলার তাহেরপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই সোহাইল হোসেন।
গ্রেপ্তাররা হলেন- তাহেরপুর চৌকিরপাড়া গ্রামের শাহিনুর ইসলাম (২৯) এবং একই এলাকার আলমগীর হোসেন (২৫)।
এসআই সোহাইল হোসেন বলেন, “ওই শিক্ষকের কাছ থেকে লুট করা টাকা, স্বর্ণ ও চেক উদ্ধারের পাশাপাশি অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”
মারধরের শিকার আক্কাছ আলী উপজেলার হামিরকুৎসা ইউনিয়নের অর্জুনপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তিনি স্ত্রীসহ তাহেরপুর চৌকিরপাড়ায় বসবাস করেন।
এসআই সোহাইল হোসেন বলেন, “শনিবার রাতে শাহিনুর ও আলমগীরসহ আট থেকে ১০ যুবক আক্কাছকে তুলে নিয়ে যান। তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ঘরে আটক রেখে তাকে মারধর করা হয়।
“এক পর্যায়ে আক্কাছের কাছে থাকা ১৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে বিকাশের মাধ্যমে তার স্বজনদের কাছ থেকে আরও ১২ হাজার টাকা আদায় করা হয়। এ ছাড়া দুই ভরি সোনা, ৬০০ টাকা মূল্যের দুটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প এবং ফাঁকা চেকে সই নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।”
তিনি বলেন, ছাড়া পাওয়ার পর আক্কাছ বিষয়টি পুলিশকে জানান। পরে রোববার তিনি সাতজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ জানায়, স্কুল শিক্ষক আক্কাছ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ৫ অগাস্টের পর তিনি প্রকাশ্যে চলাফেরা করতেন না। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল একটি চক্র।
আক্কাস আলীকে তুলে নিয়ে চাঁদা আদায়ে জড়িত যুবকরা ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। যা তারা নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালিয়ে আসছেন।
তবে চাঁদা আদায়ের ঘটনায় জড়িতরা ছাত্রদলের সঙ্গে জড়িত নয় বলে দাবি করেছেন তাহেরপুর পৌরসভা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আরিফুল ইসলাম আরিফ।
তিনি বলেন, “চক্রটি ৫ অগাস্টের আগে ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত ছিল। রাতারাতি তারা আবার ছাত্রদল সাজতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালাচ্ছে। কিছু মিটিং-মিছিলে অংশ নিয়ে দলের দু-একজন নেতার সঙ্গে ছবি তুলে ফেইসবুকে দিয়েছেন তারা।”