১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

তিস্তার ঢলে কৃষকের সর্বনাশ, বেশি ক্ষতি বাদামের

প্রায় সোয়া কোটি টাকা বাদামের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলে ধারণা করেছন কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক।

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 20 May 2025, 07:21 PM

Updated : 26 Aug 2026, 12:45 PM

পাহাড়ি ঢল আর ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চলের ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। ধান, বাদাম, কাউন, শাকসবজি, মরিচ, ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসল তলিয়ে ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষক।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, কোটি টাকার উপরে শুধু বাদামের ক্ষতি হয়েছে।

কুড়িগ্রাম খামারবাড়ির অতিরিক্ত উপ-পরিচালক আসাদুজ্জামান বলেন, জেলার নদ-নদী অববাহিকায় নিম্নাঞ্চলের ফসল তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে বাদাম, কাউন, ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসল রয়েছে।

চলতি মৌসুমে ৯৫০ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও অর্জিত হয়েছে ৯১২ হেক্টর। এরমধ্যে সোমবার পর্যন্ত জেলায় নিমজ্জিত হয়েছে ৫২ হেক্টর বাদাম ক্ষেত। যার ফলন হওয়ার কথা প্রায় দুই হাজার ২৭৫ মণ। 

প্রতি মণ পাঁচ হাজার টাকা হলে বর্তমান বাজার মূল্যে প্রায় সোয়া কোটি টাকা ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলে ধারণা করেছন উপ-পরিচালক। 

ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলাসহ জেলার প্রধান প্রধান নদীর পানি হঠাৎ বৃদ্ধি পেয়ে রাজারহাট, কুড়িগ্রাম সদর, উলিপুর, চিলমারী, রৌমারী, নাগেশ্বরী, রাজিবপুরের চরের ফসলি জমি তলিয়েছে বলে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে। 

কুড়িগ্রামে রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের তৈয়ব খাঁ গ্রামের বাসিন্দা আমিনুর ইসলাম জানান, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে তিনি তিস্তা নদীর চরে ১০ বিঘা জমিতে বাদাম আবাদ করেন। ভারি বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলের কারণে অপরিপক্ক এসব বাদামের ক্ষেত এখন পানির নিচে। দিশেহারা হয়ে কিছুটা বাদাম তুলতে পারলেও খরচ তো উঠবে না। এখন ঋণ পরিশোধের জন্য দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তার।

উলিপুর উপজেলার দলদলিয়া ইউনিয়নের চর গোড়াই পিয়ার গ্রামের বাহার আলী জানান, তার প্রায় এক একর জমির বাদাম ক্ষেত পানির নীচে। আরও প্রায় এক একর জমিতে লাগানো ভূটা, বেগুন ও মরিচের ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। আকষ্মিক তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এ সর্বনাশ হয়েছে। 

“৫০ হাজার টাকা মহাজনের কাছ থেকে দাদন নিয়ে লাভের আশায় ফসল করেছিলাম। এখন সব শেষ। সামনে ঈদ। বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে গেল।”

বাহার আলী, আমিনুল ইসলামের মত হাজারো কৃষক একই ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। 

কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চলের ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। 

কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চলের ফসলি জমি তলিয়ে গেছে।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর বলেন, “বন্যায় চরে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। চরাঞ্চলের দিনমজুররা এখন বেকার হয়ে গেছে।” 

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের পাশে সহায়তার হাত বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। 

কুড়িগ্রাম চর উন্নয়ন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, “হাজার কোটি টাকার ফসল উৎপাদন হয়ে থাকে তিস্তা নদীর চরে। অথচ তিস্তা নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে প্রতিবছর শত শত কোটি টাকার ফসলহানি হলেও কর্তৃপক্ষের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। 

“তিস্তা পারের মানুষের ভাগ্যোয়ন্নের জন্য স্থানীয়দের দাবিমত তিস্তা নদীর খননসহ তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে। এ জন্য আমরা চরবাসী মানুষের ভাগ্য উন্ননয়নে চাই আলাদা মন্ত্রণালয়।”