Published : 08 Feb 2026, 06:26 PM
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জিয়াউল হক মৃধা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন এমন একটি বিজ্ঞপ্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে।
সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগর উপজেলার ২ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
ভোটের প্রচারের শেষ মুহূর্তে এসে রোববার জিয়াউল হক মৃধা স্বাক্ষরিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে তিনি নিজেকে ভোট থেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেন।
এ ব্যাপারে সরাসরি কথা বলার জন্য জিয়াউল হক মৃধার মোবাইলে কয়েকবার ফোন দিলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
পরে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় উপ-মহাসচিব রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া বিকালে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বিষয়টি আমি অনেকের কাছেই শুনেছি। তবে দলীয়ভাবে এমন কোনো সিদ্ধান্তের কথা আমার জানা নেই।”
ছড়িয়ে পড়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জিয়াউল হক মৃধা বলেন, “৫ অগাস্ট পরবর্তী সময়ে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য ও প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে আমাকে তিনটি মামলায় আসামি করে নিজ এলাকা থেকে বিতাড়িত করা হয়। যদিও ওই সকল মামলার ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো প্রকার সম্পৃক্ততা ছিল না। এমনকি মামলায় উল্লিখিত সময়ে আমি সংসদ সদস্য পদেও অধিষ্ঠিত ছিলাম না।
জাপা প্রার্থী বলেন, “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমাকে আমার দল জাতীয় পার্টি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিলে, আমার আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে সশরীরে উপস্থিত হয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করা সম্ভব হয়নি। আমার পক্ষে জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীরা মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।
“আমার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণার পর আনুষ্ঠানিক নির্বাচনি প্রচার শুরু হলে আমাকে ও আমার নেতাকর্মীদেরকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিভিন্ন মহল থেকে ভয়-ভীতি ও গ্রেপ্তারের হুমকি প্রদর্শন শুরু করে, যা অদ্যাবধি চলমান। যার ফলে আমি অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মত সম্পূর্ণ স্বাধীন ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে নির্বাচনি প্রচারণা চালাতে পারছি না। এমন প্রতিকূল পরিবেশে আমি আমার দলের সব নেতাকর্মীর সিদ্ধান্তক্রমে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর মতো কঠিন সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি।”
জিয়াউল হক মৃধা ভোটার, শুভাকাঙ্ক্ষী, আত্মীয়-স্বজন ও নেতা-কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং এই ‘অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির’ জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
জিয়াউল হক মৃধা ২০০৮ ও ২০১৪ সালে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৮ ও ২০২৪ সালে নির্বাচন করলেও জয়ী হতে পারেননি।