টাঙ্গাইলে সেতুতে রডের বদলে বাঁশ: তদন্তে কমিটি ও ঠিকাদারকে ‘শোকজ’
সেতুতে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের অভিযোগ তোলেন স্থানীয়রা। পরে তাদের ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলায় সেতু নির্মাণে রডের বদলে বাঁশের কঞ্চি দেওয়ার অভিযোগ তদন্ত তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ও ঠিকাদারকে শোকজ করা হয়েছে।
একদিনের মধ্যেই তদন্ত কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইকবাল হোসেন জানিয়েছেন মঙ্গলবার দুপুরে।
১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি অফিস ভায়া মাইজখাড়া জিপিএস সড়কের ৯০ দশমিক ০৬ মিটার দীর্ঘ গার্ডার সেতুটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইউনুছ আল মামুন-মেসার্স জাকির এন্টারপাইজ (জেবি)।
ঠিকাদার এস এম জাহাঙ্গীর বলেন, “নোটিসের বিষয়ে আমি অবগত নই। তবে রেলিংয়ের পাশে ফুটপাত স্ল্যাবে চার ইঞ্চি ঢালাই রয়েছে। স্লাবের নিচে একটা শার্টারিং করতে হয়। ওই শার্টারিংটি আর সেখান থেকে সরানো যাবে না। শার্টারিংটি এমনিতেই নষ্ট হয়ে যাবে। এই শার্টারিংটি করতে হয় বাঁশ অথবা কাঠ দিয়ে।
“রডের খাঁচা ও পলিথিন দিয়ে এটার ওপর ঢালাই করা হয়। আমরা যখন বাঁশ দিয়ে শার্টারিং করেছি, এতে এলাকার কিছু লোকজন উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মিডিয়াতে ভাইরাল করেছে।”
এর আগে সেতুতে রডের পরিবর্তে বাঁশ ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তোলেন স্থানীয়রা। তাদের ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
পরে রোববার সেতুর পরিদর্শনে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পান ইউএনও মো. ইকবাল হোসেন।
মঙ্গলবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি জানান, এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত) মো. আহাদি হোসেনকে আহ্বায়ক ও বাসাইল পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী রবিউল আলম এবং উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আলতাব হোসেনকে সদস্য করা হয়েছে।
এছাড়া উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কারণ দর্শানো নোটিশসহ রেকটিফিকেশন করণ ও গাফিলতির জন্য কৈফিয়ৎ তলব করা হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান বলেন, যেসব জায়গায় নিম্নমানের কাজ হয়েছে সেগুলো ভেঙে ফেলা হচ্ছে। দ্রুতই কাজগুলো আবার করা হবে।
