১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

মেহেরপুরে চালককে হত্যা করে ইজিবাইক ছিনতাই: বন্ধুর প্রাণদণ্ড

“বাচ্চু পেছন থেকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে ফাঁস দিয়ে জামালকে হত্যার পর ইজিবাইক এবং মোবাইল ছিনতাই করে পালিয়ে যায়।”

মেহেরপুরে চালককে হত্যা করে ইজিবাইক ছিনতাই: বন্ধুর প্রাণদণ্ড
মেহেরপুরে রায় ঘোষণা শেষে আসামিকে কারাগারে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

মেহেরপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 28 Jul 2025, 05:47 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:28 PM

মেহেরপুর সদর উপজেলায় ইজিবাইক চালককে হত্যা মামলায় এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।

সোমবার মেহেরপুর জেলা ও দায়রা জজ এ এস এম নাসিম রেজা আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) এ এস এম সাইদুর রাজ্জাক।

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া বাচ্চু মিয়া (৪০) উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের শোলমারী গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে। 

নিহত জামাল হোসেন (৫৪) কাথুলি ইউনিয়নের রামকৃঞ্চপুর ধলা গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে।

পিপি সাইদুর রাজ্জাক বলেন, জামালের সঙ্গে বাচ্চু মিয়ার বন্ধুত্ব ছিল। কাজের ফাঁকে দুইজন একসঙ্গে মাদক সেবন করতেন। বাচ্চু মিয়ার দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ছিল জামালের ইজিবাইকটি ছিনতাই করার।

“২০২২ সালের ৮ সেপ্টেম্বর উপজেলার মল্লিক পাড়ার হাশেম মিয়ার লিচু বাগানে জামালকে নিয়ে যান বাচ্চু মিয়া। সেখানে দুজন মাদক সেবন করেন। মাদক সেবনে জামাল অস্বাভাবিক হয়ে পড়লেন। সেই সময় বাচ্চু মিয়া তার পাওনা ১৫০০ টাকা জামালকে দিতে বলেন। 

“টাকা নেই বললে জামালের গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর তার ইজিবাইক এবং মোবাইল ফোন ছিনতাই করে পালিয়ে যান বাচ্চু মিয়া। পরে জামালের পকেটে থাকা আইডি কার্ড দেখে মৃতদেহ শনাক্ত করে পুলিশ।”

তিনি বলেন, ঘটনার পরদিন জামালের ভাই আলঙ্গীর হোসেন সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। এ ঘটনায় বাচ্চু মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পরে বাচ্চু মিয়া হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে জানান পিপি সাইদুর রাজ্জাক।

সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়; যা অনাদায়ে তাকে আরও দুই বছরের কারাবাসে থাকতে হবে বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবী।

রায় ঘোষণার পর আদালতে স্ত্রী ও ছেলেকে দেখে বাচ্চু মিয়া তাদের জড়িয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন বলে জানান পিপি।

এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আবেদন করা হবে বলে জানান আসামিপক্ষের আইনজীবী।

বাচ্চু মিয়ার ছেলে ফিরোজ হোসেন বলে, সে সপ্তম শ্রেণিতে পড়েন। পাশাপাশি একটি ওয়ার্কশপে কাজ করে। পরিবারের আয়ের বোঝা তার মাথায় চেপে বসেছে। তাই এখন ঠিকমত পড়াশুনা ও স্কুলে যেতে পারে না। যখন তার সাত বছর বয়স তখন থেকে তার বাবা জেলে আছেন।