Published : 03 Sep 2025, 07:00 PM
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার কামারপাড়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বের অবসান হয়েছে।
উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের হামিন্দপুর গ্রামের এই মন্দির চত্বরের একটি অস্থায়ী ঘরে দুর্গোৎসবের জন্য বানানো প্রতিমায় সোমবার গভীর রাতে কে বা কারা অগ্নিসংযোগ করে। এতে পাঁচটি প্রতিমা পুড়ে যায়।
এই অবস্থার মধ্যে মঙ্গলবার রাতে মন্দির কমিটির দুটি পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম।
বুধবার বিকালে তিনি বলেন, “দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব সমাধান করে দেওয়া হয়েছে। মন্দিরের বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত করে প্রভাত চন্দ্র অধিকারীকে সভাপতি, দীলিপ কুমার সরকারকে সাধারণ সম্পাদক এবং মৃণাল কান্তি মিন্টুকে কোষাধ্যক্ষ করে ১১ সদস্যবিশিষ্ট নতুন কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। এ কমিটিতে উভয় পক্ষের লোকজনকে রাখা হয়েছে।”
উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সাদুল্লাপুর থানার ওসি তাজউদ্দিন খন্দকার, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি প্রভাত চন্দ্র অধিকারী, সহসভাপতি দীলিপ কুমার সরকার, মন্দির কমিটির সভাপতি কুন্তল কান্তি দাস, সাধারণ সম্পাদক বিজয় চন্দ্র, কোষাধ্যক্ষ কার্তিক চন্দ্র সরকার, সাবেক সভাপতি অনুকূল চন্দ্র সরকার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক চন্দন মহন্ত, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্ট্রান ঐক্য পরিষদের উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিবেকানন্দ, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্ট্রান ঐক্য ফ্রন্টের উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক সন্দীপ সরকার, সদস্যসচিব প্রভাত চন্দ্র মহন্ত উপস্থিত ছিলেন।
গাইবান্ধায় দুর্গোৎসবের প্রতিমায় অগ্নিসংযোগ
মন্দির কমিটির নতুন সভাপতি প্রভাত চন্দ্র অধিকারী বলেন, “আমাদের মধ্যে আর কোনো ভেদাভেদ নেই। আমারা সবাই একসঙ্গে আসন্ন দুর্গোৎসব উদযাপন করব।”
সাদুল্লাপুর থানার ওসি তাজউদ্দিন খন্দকার বলেন, “ধারণা করা হচ্ছে, দুই পক্ষের এই দ্বন্দ্বে মধ্যে কে বা কাহারা প্রতিমায় অগ্নিসংযোগ করেছে।”
স্থানীয়রা জানান, মন্দির কমিটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এর জেরে দুটি পক্ষ আলাদাভাবে পূজার আয়োজন করে।
একটি পক্ষের প্রতিমা তৈরি হচ্ছে বর্তমান কমিটির কোষাধ্যক্ষ কার্তিক চন্দ্র সরকারের বাড়িতে। বিরোধের জেরে শনিবার তিনি মন্দিরের ফটকে তালা দেন। অপরপক্ষ মন্দিরের পাশে খোলা চত্বরে অস্থায়ী মন্দির তৈরি করে পাঁচ-ছয় দিন ধরে প্রতিমা তৈরি করছিলেন।
এই অবস্থার মধ্যে রাতের আঁধারে দুর্গা, লক্ষ্মী, কার্তিক, গনেশসহ পাঁচটি প্রতিমায় অগ্নিসংযোগ করা হয়।