২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল, এবার প্রথম সোহাগ

পদ্মা সেতুর উপরে সব যানবাহনের সর্বোচ্চ গতিসীমা ৬০ কিলোমিটার। মোটরসাইকেলের জন্যও একই গতিসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল, এবার প্রথম সোহাগ

ইতিহাসের সাক্ষী হবার জন্য সোহাগ বুধবার রাত ২টা থেকে মাওয়ায় পদ্মা সেতুর টোল প্লাজার সামনে অপেক্ষা করছিলেন।

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 20 Apr 2023, 09:46 AM

Updated : 20 Apr 2023, 04:10 PM

দীর্ঘ প্রায় সাড়ে ৯ মাস প্রতীক্ষার পর পদ্মা সেতুতে ফের মোটরসাইকেল চলাচল শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার ভোর থেকে এই সেতুতে মোটরসাইকেল চলাচল শুরু হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা ৫৫ মিনিটে পদ্মা সেতুর নতুন লেন দিয়ে মুন্সীগঞ্জ টোল প্লাজার ৭ নম্বর বুথে টোল দিয়ে প্রথম সেতুতে ওঠেন চট্টগ্রাম থেকে আসা সোহাগ। 

Image

অসংখ্য মোটরসাইকেল বুধবার রাত থেকে মাওয়া পদ্মা সেতুর টোল প্লাজার সামনে অপেক্ষা করছে।

তিনি প্রথম স্বপ্নজয়ের এই পদ্মা সেতুতে উঠে ইতিহাসের সাক্ষী হবার জন্য বুধবার রাত ২টা থেকে মাওয়ায় পদ্মা সেতুর টোল প্লাজার সামনে অপেক্ষা করছিলেন বলে জানান। 

Image

সেতুতে উঠে নির্দিষ্ট লেন মেনে পদ্মা পাড়ি দিচ্ছেন মোটরসাইকেল চালকরা।

সোহাগের মতো এমন অসংখ্য মোটরসাইকেল বুধবার রাত থেকে মাওয়া পদ্মা সেতুর টোল প্লাজার সামনে অপেক্ষা করছে। এছাড়া কেউ সাহরী খেয়ে বা কেউ ভোর থেকেই মাওয়া পদ্মা সেতুর টোল প্লাজার সামনে অপেক্ষা করছেন। 

ভোরের আগেই সহস্রাধিক মোটরসাইকেল পদ্মা পাড়ি দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়। পরে চলাচল শুরুর তাদের জন্য নির্ধারিত বুথে ১০০ টাকা টোল দিয়ে উঠে যাচ্ছেন সেতুতে।

পদ্মা উত্তর থানার ওসি আলমগীর হোসাইন জানান, সকাল থেকে বাইকের ভিড় দেখে অবাক তিনি। শৃঙ্খলা রক্ষায় তারা কাজ করছেন। তবে বাইকারদের শৃঙ্খলা দেখেও অবাক এই কর্মকর্তা।

Image

একটি লেন দিয়ে ঢুকে দুইটি বুথে টোল দিয়ে সেতুতে প্রবেশ করছেন মোটরসাইকেল আরোহীরা।

তিনি বলেন, “বাইকাররা ধৈর্যের পরিচয় দিচ্ছেন। এখানে শর্ত মেনেই সকাল থেকে তারা বাড়ি ফিরছেন। সবার মাথায় হেলমেট রয়েছে। অনেক নারীও যাচ্ছেন বাইকে চড়ে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বাইকে ঈদযাত্রা তাদের ঈদ আনন্দে ভিন্ন মাত্রা যুক্ত করেছে।” 

তিনি জানান, পদ্মা উত্তর থানার পূর্ব পাশে মোটরসাইকেলগুলো জড়ো করা হয়েছে। সেখান থেকে সিরিয়াল অনুযায়ী বাইকগুলো ছাড়া হচ্ছে। চাপের কারণে এখন একটি লেন দিয়ে ঢুকে দুইটি বুথে টোল দিয়ে সেতুতে প্রবেশ করছেন বাইকাররা। টোল প্লাজায় এসে যাতে জটলা সৃষ্টি না হয় সেজন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক রয়েছেন। 

এ ছাড়া টোলপ্লাজায় দায়িত্ব পালন করছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। 

দায়িত্বরত লৌহজং থানার ইউএনও আব্দুল আউয়াল বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর মহানুভবতায় পদ্মা সেতুতে বাইক চলছে। তারা যদি নিয়ম মেনে চলে তাহলে এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। আমরা এখানে আছি। যদি কেউ আইন ভঙ্গ করে তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” 

পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী রজ্জব আলী বলেন, পদ্মা সেতুর উপর মোটরসাইকেল চলাচলের জন্য সার্ভিস লেন করা হয়েছে। সার্ভিস রোড দিয়ে নিয়ম মেনে বাইক চললে কোনো সমস্যা হবে না আশা করা যায়। 

“২.৩০ মিটার প্রশস্ত সার্ভিস লেন দিয়ে পদ্মা সেতু পার হচ্ছে মোটরসাইকেলগুলো। তারা যদি নির্দেশনা মেনে সেতু পার হন তাহলে অনাকাঙ্ক্ষিত কোনও দুর্ঘটনা ঘটবে না। সবাই স্বাচ্ছন্দ্যে বাড়িতে যেতে পারবেন।” 

Image

অসংখ্য মোটরসাইকেল বুধবার রাত থেকে মাওয়া পদ্মা সেতুর টোল প্লাজার সামনে অপেক্ষা করছে।

তিনি আরও বলেন, পদ্মা সেতুর উপরে সব যানবাহনের সর্বোচ্চ গতিসীমা ৬০ কিলোমিটার। মোটরসাইকেলের জন্যও একই গতিসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। কোনও যানবাহন ৬০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে চললে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যবস্থা নেবে। 

রজ্জব আলী জানান, ফেরিতে ১৫০ টাকা টোল দিতে হচ্ছে।  আর সেতুতে টোল নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০ টাকা। প্রতি মিনিটে এক লেনে ৪টি বাইক টোল পরিশোধ করতে পারবে। 

এই প্রকৌশলী আরও জানান, পদ্মা সেতুর দুই প্রান্তেই লেন রয়েছে। মোটরসাইকেল পারাপারে তিনটি বুথ নতুন করে করা হয়েছে । সেতুর ২ প্রান্তে ১২টি বুথ ছিল এখন বুথ ১৫টি। এর মধ্যে মাওয়া প্রান্তে একটি ও জাজিরা প্রান্তে ২টি বুথ নতুন করা হয়েছে।