Published : 31 Jan 2026, 10:21 PM
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বসেছিল পাখি মেলা; যেখানে প্রাণহীন বিভিন্ন প্রজাতির পাখি প্রদর্শন করা হয়। এ ছাড়া শিশুদের পাখির চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীর ব্যবস্থা রাখা হয়।
‘পাখি দেখি-পাখি ভালোবাসি-পাখি রক্ষা করি’ স্লোগানে শুক্রবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী চত্বরে দিনব্যাপী এ মেলার আয়োজন করা হয়।
‘রাবি বার্ড কনজারভেশন ক্লাবের’ আয়োজনে মেলার উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) ফরিদ উদ্দিন খান।
এ মেলায় সহযোগী হিসেবে ছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, প্রাণিবিদ্যা বিভাগ, বার্ডশাহী এবং ভ্যালেন্ট টেক লিমিটেড।
মেলায় আলোকচিত্রের পাশাপাশি তুর্কিবাজ, টিয়া, লক্ষ্মীপেঁচা, গরিয়াল, মাছরাঙা, পাতি তিলি হাঁস, কোয়েল, পাঁতি কাক, নিশি বক, বালি হাঁস, চোখাচোখি, সাতভাই, নিশিবক, খয়রা চখাচখি ও ছোট পানকৌরিসহ বেশ কিছু পাখির মমিও প্রদর্শন করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক সালেহ রেজা বলেন, “পাখি আমাদের পরিবেশেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পরিবেশের কোনো একটি উপাদান নষ্ট হলে পুরো ব্যবস্থার ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়।
“মানুষকে সচেতন করতে প্রতিবছর এ ধরনের আয়োজন করা হয়, যাতে পাখি ধরা, শিকার করা কিংবা খাওয়া থেকে মানুষ বিরত থাকে এবং পাখিরা শান্তিপূর্ণভাবে বেঁচে থাকতে পারে।”
সেভ ওয়াইল্ড লাইফ অ্যান্ড ন্যাচারের (সোয়ান) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাকিয়া ইসলাম বলেন, “পাখি মেলার মূল উদ্দেশ্য হল- পাখির গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা।
“পরিবেশ দূষণসহ নানা কারণে পাখিসহ বিভিন্ন প্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। আমরা চাই এ মেলার মাধ্যমে মানুষ পাখি সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করুক।”
উপ-উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, “শিশুদের প্রকৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার এটি একটি চমৎকার উদ্যোগ। ষড়ঋতুর এ দেশে নানা প্রজাতির পশুপাখি রয়েছে। পাখির কিচিরমিচির ডাকে আমাদের সকাল শুরু হয়, সন্ধ্যা নামে।
“শহরে বেড়ে ওঠা শিশুদের কাছে সেই অনুভূতি ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে। এই অনুভূতি ফিরিয়ে আনা এবং সচেতনতা বাড়াতে এ ধরনের আয়োজন করা দরকার।”