১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

লালমনিরহাটে ঝড়-শিলাবৃষ্টিতে ফসল ও ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি

অনেক জায়গায় ভুট্টা, তামাক, পেঁয়াজ, রসুন ও বাদাম ক্ষেত মাটিতে মিশে গেছে।

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 28 Mar 2026, 07:19 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:15 PM

লালমনিরহাটে ঝড় ও তীব্র শিলাবৃষ্টিতে ঘরবাড়িসহ উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। 

ভুক্তভোগীরা জানান, শুক্রবার মধ্যরাতে পাঁচ উপজেলার ওপর দিয়ে ঝড় বয়ে যায়। এ সময় শিলাবৃষ্টি হয়। এতে বিস্তীর্ণ জনপদ ক্ষতির মুখে পড়েছে। 

তারা জানান, মাঝরাতে হঠাৎ আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায়। এর কিছুক্ষণ পরেই শুরু হয় প্রচণ্ড ঝড়ো বাতাস ও শিলাবৃষ্টি। ঝড়ে অনেক ঘরবাড়ির চাল ও বেড়া উড়ে গেছে। বিশাল আকৃতির শিলার আঘাতে ঘরের টিন ছিদ্র হয়ে আসবাবপত্র ও গৃহস্থালি সামগ্রী ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে।

শনিবার সকালে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ঝড়ে উপড়েপড়া গাছপালা পড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে। ঘর হারিয়ে অনেক পরিবার খোলা মাঠে বা পলিথিন টাঙিয়ে আশ্রয় নিয়েছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে কৃষি খাতে। যেদিকে ঝড় হয়েছে সেখানে জেলার প্রধান অর্থকরী ফসল ভুট্টা, তামাক, পেঁয়াজ, রসুন ও বাদাম ক্ষেত মাটিতে মিশে গেছে।

কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী এলাকার কৃষক আজিজুল ইসলাম বলেন, “ঋণের টাকায় চার বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেছিলাম। মোচা আসা গাছগুলো সব মাটিতে শুয়ে পড়েছে। এখন ঋণের টাকা কীভাবে শোধ করব আর কী খেয়ে বাঁচব, তা ভেবে কূল পাচ্ছি না।”

একই আক্ষেপ তামাক চাষি শাহ আলমের। তিনি জানান, শুকোতে দেওয়া তামাক পাতার পাশাপাশি খেতের তামাকও শিলার আঘাতে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে, যা বাজারমূল্য হারিয়েছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় জানায়, ঝড়ে সদর উপজেলার হারাটি ও খুনিয়াগাছ, কালীগঞ্জের ভোটমারী ও কাকিনা এবং আদিতমারীর সারপুকর ও মহিষখোচা ইউনিয়নসহ তিস্তা চরাঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ বলেন, তার ইউনিয়নে প্রায় ১০০ পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে।

এদিকে, ঝড়ে বিভিন্ন স্থানে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা সংযোগ সচল করতে কাজ করছেন বলে জানা গেছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মীর ফয়সাল আলী বলেন, “ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির কাজ মাঠ পর্যায়ে চলছে। আমরা এরই মধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করেছি। সরকারি বরাদ্দ হাতে পেলেই পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।”