১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

টেকনাফে জালে উঠল ১১২ মণ ‘নাগু’ মাছ, ২০ লাখে বিক্রি

“মাছগুলো সাধারণত ২ থেকে ১২ কেজি ওজনের হয়ে থাকে। সাগরে যে এলাকায় প্রবাল রয়েছে মাছগুলো সেখানে বিচরণ করে থাকে।”

টেকনাফ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Feb 2026, 01:10 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:50 PM

কক্সবাজারের টেকনাফে সেন্টমার্টিন সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে এক মাঝির জালে ধরা পড়েছে নাগু মাছ।

শনিবার সকালে সাহে আহম্মদের মালিকানাধীন একটি মাছ ধরার ট্রলারে ধরা পড়া মাছগুলোর ওজন প্রায় ৪ হাজার ৪৮০ কেজি বা ১১২ মণ। পরে এসব মাছ ২০ লাখ ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়।

ট্রলারটি সন্ধ্যায় টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালী বোটঘাট সংলগ্ন ফিশারিতে এসে পৌঁছায়। পরে ট্রলার থেকে নাগু মাছগুলো নামিয়ে ফিশারিতে তোলা হয়।

টেকনাফ উপজেলা জ্যেষ্ঠ সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা উমূল ফারা বেগম তাজকিরা বলছেন, জালে ধরা পড়া মাছগুলো উপকূলীয় সামুদ্রিক সুস্বাদু ‘মৌরি মাছ’ নামে পরিচিত। স্থানীয়ভাবে এ মাছ নাগু নামে পরিচিত।   

ট্রলারের মালিক সাহে আহম্মদ বলেন, গত ২৭ জানুয়ারি সকালে কায়ুকখালী বোটঘাট থেকে তার ট্রলারটি সাগরের উদ্দেশে যাত্রা করে। সেন্টমার্টিনের পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরে জাল ফেলে ট্রলারটি নোঙর করা হয়।

শনিবার সকালে হঠাৎ করে একটি বড় নাগু মাছের ঝাঁক জালে আটকে পড়ে। মাছের পরিমাণ বেশি হওয়ায় পরে আরেকটি ট্রলারের সহায়তায় সেগুলো ঘাটে আনা হয়।

তিনি বলেন, “ফিশারিতে তোলার পর মাছগুলোর মোট ওজন দাঁড়ায় ৪ হাজার ৪৮০ কেজি। পরে কয়েকজন মাছ ব্যবসায়ীর কাছে এসব নাগু মাছ ২০ লাখ ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। বিক্রির পর মাছগুলো বরফ দিয়ে ফিশারিতে সংরক্ষণ করা হয়।”

ট্রলারটির মাঝির দায়িত্বে থাকা রহিম উল্লাহ বলেন, মাছ ধরা অভিযানে মোট ২২ জন মাঝি ও মাল্লা অংশ নেন। বড় অঙ্কের মাছ ধরা পড়ায় ট্রলারের শ্রমিকদের মধ্যে আনন্দ বিরাজ করছে।

এদিকে খবরটি ছড়িয়ে পড়লে টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালী ফিশারিতে মাছ ব্যবসায়ী এবং সাধারণ ক্রেতাদের ভিড় জমেছে। অনেকেই এত বড় পরিমাণ নাগু মাছ একসঙ্গে দেখতে ফিশারিতে আসছেন।

মাছ ব্যবসায়ীরা প্রতি কেজি ৪০০–৪৫০ টাকা দরে নাগু মাছ বিক্রি করছেন।

মাছ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলম বলেন, “সালেহ আহম্মদের মালিকাধীন ট্রলারে বিপুল পরিমাণ নাগু মাছ ধরা পড়েছে। ফিশারিতে আনা হলে তার কাছ থেকে মাছগুলো কিনে নেওয়া হয়। পরে পিস হিসাবে বিক্রি করা হয়।” 

স্থানীয়রা বলছেন, চলতি মৌসুমে এমন বড় আকারের নাগু মাছ ধরা পড়া জেলেদের জন্য ‘আশাব্যঞ্জক’। এতে যেমন জেলেদের লাভ হচ্ছে, তেমনি স্থানীয় মাছ বাজারেও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

টেকনাফের মৎস্য কর্মকর্তা উমূল ফারা বেগম তাজকিরা বলেন, “মাছটির বৈজ্ঞানিক নাম হচ্ছে Alectis ciliaris;। মাছগুলো সাধারণত ২ থেকে ১২ কেজি ওজনের হয়ে থাকে। সাগরে যে এলাকায় প্রবাল রয়েছে মাছগুলো সেখানে বিচরণ করে থাকে।”

তিনি বলেন, “বঙ্গোপসাগরে সামুদ্রিক মাছ ও ইলিশের প্রজনন বাড়াতে ২০১৯ সাল থেকে (৬৫ দিন) মাছ ধরা ও বিপণনে নিষেধাজ্ঞা জারি করে সরকার। মাছ ধরা বন্ধ থাকার কারণে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের প্রজনন ও আকৃতি বেড়েছে অনেক গুণ।”