২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

সিরাজগঞ্জে চিকিৎসককে হত্যার ১৫ বছর পর ২ আসামির যাবজ্জীবন

অপর আসামি এক চিকিৎসক হাইকোর্টে ফৌজদারি রিভিশন করায় তার বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 24 Jun 2026, 06:40 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:29 PM

সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা চিকিৎসক বাকী মির্জাকে হত্যার ১৫ বছর পর দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। 

এ মামলার অপর আসামি এক চিকিৎসক হাইকোর্ট বিভাগে ফৌজদারি রিভিশন করায় তার বিরুদ্ধে কার্যক্রম স্থগিতাদেশ রয়েছে।

বুধবার দুপুরে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ লায়লা শারমিন এক আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) মো. শামসুজ্জোহা (শাহানশাহ)।

দণ্ড পাওয়ারা হলেন- সদর উপজেলার খাগা গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে আনোয়ার হোসেন কিরণ এবং শহরের জানপুর মহল্লার জেল হকের ছেলে ও ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি জাকারিয়া মাসুদ ওরফে জাকারিয়া। মামলার অপর আসামি হলেন চিকিৎসক আব্দুল লতিফ। 

মামলার বরাতে পিপি শামসুজ্জোহা বলেন, ২০১১ সালের ১৫ এপ্রিল রাতে সিরাজগঞ্জ আদালত ভবনের ভেতর অবস্থিত সরকারি ব্যাচেলর কোয়ার্টারের দ্বিতীয় তলার আট নম্বর কক্ষে চিকিৎসক বাকী মির্জাকে হাত-পা বেঁধে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় বাকী মির্জার ভাই আব্দুল লতিফ মির্জা বাদী হয়ে সদর থানায় হত্যা মামলা করেন বলে জানান তিনি। 

তিনি বলেন, মামলার তদন্ত চলাকালে আনোয়ার হোসেন কিরণ ও রুহুল আমিন বাবুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। এর মধ্যে রুহুল আমিন মারা গেলে তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। 

মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ এক চিকিৎসকসহ তিনজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র প্রদান করেন বলে জানান পিপি শামসুজ্জোহা।

সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে দুই আসামিকে যাবজ্জীবনের পাশাপাশি এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়; যা অনাদায়ে তাদের আরও ছয় মাস করে কারাবাসে থাকতে হবে বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুজ্জোহা।

তিনি বলেন, রায় ঘোষণার সময় আনোয়ার হোসেন কিরণ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আর জাকারিয়া পলাতক রয়েছেন।

মামলার অপর আসামির বিষয়ে শামসুজ্জোহা বলেন, চিকিৎসক আব্দুল লতিফ হাইকোর্ট বিভাগে ফৌজদারী রিভিশন করায় তার বিরুদ্ধে কার্যক্রম স্থগিতাদেশ দিয়ে অপর আসামিদের জন্য মামলার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

“আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধে মামলা নিষ্পত্তির এই পর্যায়ে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি। পরবর্তীতে হাইকোর্ট বিভাগের আদেশের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে মামলাটি পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে”, বলেন তিনি।