১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

আদালত প্রাঙ্গণে শাজাহান খান-গোলাপের মুক্তির দাবিতে স্লোগান, ফুলের মালা

১৫ মিনিটের শুনানি শেষে দুজনকেই কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়, বলেন আদালত পুলিশের পরিদর্শক।

মাদারীপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 24 Nov 2024, 09:42 PM

Updated : 26 Aug 2026, 10:59 AM

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যা মামলায় সাবেক দুই সংসদ সদস্য শাজাহান খান ও আবদুস সোবহান গোলাপকে প্রথমবারের মত মাদারীপুরের আদালতে হাজির করা হয়। 

এর আগে রোববার সকাল থেকেই আদালত চত্বরে ভিড় করেন আওয়ামী লীগের কয়েকশ নেতাকর্মী। 

তাদের দুই নেতার মুক্তির দাবি জানিয়ে স্লোগান তাদের গলায় ফুলের মালাও পড়িয়ে দেন।

রোববার বেলা ১১টার দিকে শাজাহান খান ও আবদুস সোবহানকে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির করা হলে বিচারক আসামিদের জামিন নাকচ করে কারাগারে পাঠান বলে আদালত পুলিশের পরিদর্শক আনিসুর রহমান জানান। 

শাজাহান খান মাদারীপুর-২ (রাজৈর ও সদরের একাংশ) আসনের ও সোবহান মাদারীপুর-৩ (কালকিনি ও সদরের একাংশ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। তারা দুজনেই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রভাবশালী নেতা।

এদিন বেলা সাড়ে ১১টায় পুলিশের কড়া নিরাপত্তার মধ্যে একটি প্রিজন ভ্যানে শাজাহান খান ও গোলাপকে আদালতে নিয়ে আসে পুলিশ। 

তখন ভ্যানটিকে ঘিরে ধরে তাদের অনুসারীরা। 

ভ্যান থেকে নামার পর শাজাহান খান ও আবদুস সোবাহান গোলাপকে ফুলের মালা পরিয়ে দেন তারা। 

তবে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কোনো নেতাকর্মীকে সেখানে দেখা যায়নি।

শাজাহান খান ও সোবহানকে আদালতের তৃতীয় তলার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে নেওয়া হলে সেখানেও তাদের অনুসারীদের ভিড় করতে দেখা গেছে। 

দুই আসামিকে আদালতের কাঠগড়ার পাশে দুটি কাঠের চেয়ারে বসতে দেওয়া হয়।

পরে শুনানি শুরু হলে দুজনই দাঁড়িয়ে বিচারকের কাছে নিজেদের নির্দোষ দাবি করে মুক্তির আকুতি জানান।

আদালতে কমপক্ষে ৩০ জন আইনজীবী শাজাহান খান ও সোবহানের পক্ষে জামিনের আবেদন জানান। 

১৫ মিনিটের জামিন শুনানি শেষে দুজনকেই কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত। 

কাঠগড়া থেকে শাজাহান খান ও গোলাপকে নামানোর সময়েও তাদের ঘিরে মুক্তির দাবি জানান নেতাকর্মীরা।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আত্মগোপনে চলে যান আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য শাজাহান খান। 

তবে গত ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার ধানমন্ডি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

অন্যদিকে, ২৫ অগাস্ট রাজধানীর নাখালপাড়ার একটি বাসা থেকে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপকে গ্রেপ্তার করে ঢাকার তেজগাঁও থানার পুলিশ। 

পরে আওয়ামী লীগ সরকারের আলোচিত দুই নেতাকে ঢাকার বিভিন্ন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। 

ছাত্র আন্দোলনে মাদারীপুরে নিহত দীপ্ত দে ও তাওহীদ সন্ন্যামাত হত্যা মামলায়ও তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

সদর মডেল থানার ওসি আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, আগামী শুনানিতে তারা এই দুই আসামির রিমান্ডের জন্য আদালতে আবেদন জানাবেন। 

আসামিপক্ষের আইনজীবী নাফিজ ইকবাল বলেন, শাজাহান খান ও আবদুস সোবহান গোলাপকে মাদারীপুরে দুটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। অথচ সেসময় তারা মাদারীপুরে ছিলেনই না। রাজনৈতিক কারণে তাদের আসামি করা হয়।