Published : 02 Sep 2026, 12:51 PM
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা, ঝোপ-ঝাড় ও পানি জমে থাকায় মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সন্ধ্যা নামলেই ক্যাম্পাসজুড়ে শুরু হয় মশার উৎপাত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোর প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় মশার উপদ্রব বেশি বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। মশা তাড়াতে কয়েল জ্বালিয়েও স্বস্তি মিলছে না তাদের।
এদিকে গত ২৯ অগাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ তিতুমীর হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের মো. ফেরদৌস সালামসহ তিন শিক্ষার্থী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এতে আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডেঙ্গু নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, ক্যাম্পাস ও আবাসিক হলের আশপাশে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা, মশার ওষুধ ছিটানো এবং মশার প্রজনন ক্ষেত্রগুলো ধ্বংস করা জরুরি। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আরও শিক্ষার্থী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
তবে মশার বিস্তার রোধে মঙ্গলবার একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. সোহেল হাসান।
তিনি বলেন, “ক্যাম্পাসে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা ও ফগার মেসিন দিয়ে স্প্রে করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা গোপালগঞ্জ পৌরসভা ও স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে কথা বলেছি। এছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমরা সচেতনতামূলক র্যালি করেছি।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক বিভাগ থেকে জানা গেছে, বর্তমানে ৩০টি বিভাগে ৯ হাজার ৩২০ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। এর মধ্যে শহীদ তিতুমীর, বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, বনলতা ও অপরাজিতা হলে প্রায় ১ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী আবাসিক হিসেবে থাকছেন।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একটি অংশ ক্যাম্পাসের কোয়ার্টারে বসবাস করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, আবাসিক হলগুলোর পাশের ড্রেনে দীর্ঘদিনের ধরে নোংরা ও স্থির পানি জমে রয়েছে। হলসংলগ্ন খেলার মাঠের পাশে পড়ে রয়েছে ময়লার স্তূপ। এসব স্থানে জমে থাকা পানি ও ময়লার কারণে মশার প্রজনন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন স্থানে ঝোপঝাড় বেড়েছে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউ মার্কেটের দুটি স্থানে আবর্জনা দেখা গেছে।
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ডা. লিখন চন্দ্র বালা বলছিলেন, “এখানে ডেঙ্গু পরীক্ষা হয় না।”
তিনি বলেন, “এ কেন্দ্র থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আমরা রোগীকে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ বা ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে রেফার করি। এখান থেকে ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত করা সম্ভব নয়। এ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানতে পেরেছি।”
অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের ফাইনাল বর্ষের ছাত্র এবং বিজয় দিবস হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সজিব হোসেন বলেন, “হলের পেছনে ময়লা আবর্জনা ও পানি জমে আছে। মশার ওষুধ স্প্রে করা হলেও কোনো কাজ হয় না। সন্ধ্যা নামলেই মশার ভ্যান-ভ্যানীতে টেকা যায় না। কয়েল জ্বালিয়েও মশার উপদ্রব থেকে রক্ষা মেলে না।”
তিনি বলেন, “ঝোপঝাড় ও জমে থাকা পানি পরিষ্কার করার পাশাপাশি মশার প্রজনন ক্ষেত্রগুলো নিয়মিত ধ্বংস করতে হবে। তাহলেই মশার বিস্তার রোধে সুফল পাওয়া যেতে পারে।”
স্বাধীনতা দিবস হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্স ২০১৮-১৯ বর্ষের ফারুক খন্দকার বলেন, “আক্রান্তরা বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করেন। কখনো ঢাকা, কখনো খুলনা, আবার কখনো বাড়িতে যান। হয়তো সেখান থেকেই তারা আক্রান্ত হয়েছেন। ডেঙ্গু নিয়ে ক্যাম্পাসে আতঙ্ক নেই। তবে মশা বেড়েছে। এটি দমন করতে হবে।”
শহীদ তিতুমীর হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শাহজাহান ইসলাম বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঝোপঝাড় পরিষ্কার করা শুরু করেছে। পাশাপাশি আবর্জনা অপসারণ ও মশার প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস করা হচ্ছে। এসব কার্যক্রম অব্যাহত রাখলে মশার উপদ্রব কমবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বণলতা হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থী জানান, বণলতা ও অপরাজিতা হল মেয়েদের হল। এখানে তুলনামুলক মশার উপদ্রব কম। কারণ এখানে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন পরিবেশ আছে। ছেলেদের হলের আশপাশে নোংরা পরিবেশ, তাই মশার উপদ্রব বেশি। এই হলে কেউ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়নি। তাই মেয়েদের মধ্যে ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্ক নেই বললেই চলে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এস এম আহসান বলেন, “ক্যাম্পাসে মশা প্রতিরোধের লক্ষ্যে মশা বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করেছি। মশার লার্ভা ধ্বংসসহ কার্যকর পদক্ষেপ আমরা ইতোমধ্যে শুরু করেছি। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণকারী শিক্ষার্থীদের মশারি ব্যবহার করতে বলেছি।”
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত শিক্ষার্থীদের খোঁজ-খবর রাখা হচ্ছে; তারা এখন সুস্থ আছেন বলে জনিয়েছেন তিনি।