১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

আনন্দ মোহন কলেজের অধ্যক্ষের অপসারণ দাবি, কক্ষে তালা

তিনি আওয়ামী লীগের ‘দোসর’ বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

আনন্দ মোহন কলেজের অধ্যক্ষের অপসারণ দাবি, কক্ষে তালা
ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. সাকির হোসেনের অপসারণ দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ।

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 12 Aug 2025, 06:56 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:34 PM

ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজের সদ্য ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করা অধ্যাপক মো. সাকির হোসেনের অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তিনি আওয়ামী লীগের ‘দোসর’ বলে অভিযোগ আন্দোলনকারীদের।

বিক্ষোভের এক পর্যায়ে অধ্যক্ষ বেরিয়ে গেলে শিক্ষার্থীরা তার কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

মঙ্গলবার দুপুর ২টা থেকে বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন বলে জানান ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাকির হোসেন আওয়ামী লীগের ‘দোসর’। তার ছোট ভাই রাকিব হোসেন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। রাকিব বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সাগর হত্যা মামলার আসামি। তাই অধ্যক্ষের অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন তারা। 

আনন্দ মোহন কলেজের শিক্ষার্থী মোহন হোসেন বলেন, “কলেজে আমরা কোনো ফ্যাসিস্টকে দেখতে চাই না। সাবেক অধ্যক্ষ আমান উল্লাহর বদলি হওয়ার পর তিনি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পান। তার অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।”

আরেক শিক্ষার্থী অনিক আহমেদ তকি বলেন, “জুলাই-অগাস্টের উসকানিদাতা সাগর হত্যা মামলার আসামির ভাইকে আমরা এই ক্যাম্পাসে চাই না। ৩৭ হাজার শিক্ষার্থীর একটাই দাবি তার অপসারণ। 

“এই চেয়ার সাকির স্যারের জন্য নয়। তার অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও তালা ঝুলিয়ে আন্দোলন করছি। প্রয়োজনে আরও কঠোর আন্দোলন করা হবে।”

আনন্দ মোহন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. সাকির হোসেন বলেন, “আমি আওয়ামী লীগের ‘দোসর’ নই। আমি কি আপনারা সবাই জানেন। শিক্ষার্থীরা তাদের সুবিধার জন্য আমাকে চাপপ্রয়োগ করছে। 

“আমরা ভাই সাগর হত্যা মামলার আসামি হলেও এর দায়ভার আমার নয়। আমার নামাজে যাওয়ার সুযোগ নিয়ে শিক্ষার্থীরা কক্ষে তালা দিয়েছে। তাদের বুঝানোর জন্য শিক্ষক প্রতিনিধিরা কাজ করছে। আশা করছি দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।”

শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছেন বলে জানান ওসি শিবিরুল ইসলাম।

এর আগে ৩ আগস্ট আনন্দ মোহন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে অধ্যাপক মো. সাকির হোসেন দায়িত্বগ্রহণ করেন। তারও এক মাস আগে ৩ জুলাই উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক সাকির উপাধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন।