Published : 26 Jul 2026, 10:44 AM
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে এসে রোগীদের এখন রোগের পাশাপাশি আরেকটি ভয় নিয়ে থাকতে হচ্ছে। তা হচ্ছে- যেকোনো সময় ছাদের অংশ ভেঙে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আতঙ্ক।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের বিভিন্ন ভবনের ছাদে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। হাসপাতালের প্রথম ও দ্বিতীয় তলার বিভিন্ন স্থানে ছাদের পলেস্তারা, সিমেন্ট ও সুরকি খসে পড়েছে।
কোথাও কোথাও ফাটল এতটাই স্পষ্ট যে নিচ দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে রোগী ও স্বজনরা বারবার ছাদের দিকে তাকাচ্ছেন। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো এড়িয়ে চলার চেষ্টা করলেও চিকিৎসাসেবা নিতে গিয়ে অনেককে বাধ্য হয়েই ওই পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে।
তবে শুধু ভবন নয় দীর্ঘদিন ধরে জনবল ও চিকিৎসাসামগ্রীর সংকটেও ভুগছে মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি।
৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে ৪০ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র ১৮ জন। ১৯২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিপরীতে দায়িত্ব পালন করছেন ১১৬ জন।
রয়েছে নার্স সংকট। অ্যানেস্থেসিয়া বিশেষজ্ঞ না থাকায় সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ রয়েছে। হাসপাতালের নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্স নেই। এক্স-রে মেশিনসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন যন্ত্রপাতিরও ঘাটতি রয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. গোলাম রায়হান বলেন, ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ভবন সংস্কারের পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য জনবলের সংকটও রয়েছে। সীমিত সক্ষমতার মধ্যেই আমরা চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাচ্ছি।
মতলব উত্তর উপজেলার ইন্দুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছানাউল্লাহ বলেন, “মেয়েকে নিয়ে তিন দিন হাসপাতালে ছিলাম। দ্বিতীয় তলা থেকে ওষুধ আনতে নামার সময় বারবার ছাদের দিকে তাকিয়ে হাঁটতে হয়েছে।
“মাঝেমধ্যেই বড় বড় সিমেন্ট-সুরকি খসে পড়ে। এমন আতঙ্কের মধ্যে হাসপাতালে থাকা যায় না। ভয়ে সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে যাবে।”
বরদিয়া এলাকার রোগী শাহনাজ বেগম বলেন, “মানুষ হাসপাতালে আসে সুস্থ হওয়ার জন্য। কিন্তু এখানে এসে সব সময় ভয় নিয়ে থাকতে হয়। কখন মাথার ওপর ছাদ ভেঙে পড়ে, সেই দুশ্চিন্তা থাকে।
“আবার এ হাসপাতালে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষারও অনেক ব্যবস্থা নেই। ভবন সংস্কার ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি দ্রুত দেওয়া উচিত।”
রোগীর স্বজন ফারজানা বলেন, “এক ঘণ্টা ধরে চিকিৎসকের কক্ষের সামনে অপেক্ষা করেছি। কিন্তু আমাদের সবার নজর ছিল ছাদের দিকে। কখন পলেস্তারা খসে পড়ে, সেই ভয়েই সময় কাটাতে হয়েছে।”
হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. রাজিব কিশোর বনিক বলেন, “মানুষকে সতর্ক করতে বিভিন্ন স্থানে সতর্কীকরণ নোটিশ টানানো হয়েছে। আমরা ঝুঁকির মধ্যেই নিয়মিত চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছি।”
এ বিষয়ে মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম ইশমাম বলেন, হাসপাতালের ভবনের পলেস্তারা খসে পড়ার বিষয়টি জেনেছি। দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলা হবে।