১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

চাকরি ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করার দাবি কুষ্টিয়া আদালতের বেঞ্চ সহকারীদের

নেতারা জানান, তারা তিন দফা দাবিতে স্মারকলিপি প্রদানসহ নানা কর্মসূচি পালন করছেন।

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 14 Aug 2024, 02:57 PM

Updated : 26 Aug 2026, 10:15 AM

কুষ্টিয়ায় নিম্ন আদালতের বেঞ্চ সহকারীরা চাকরি ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করার দাবি জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার বিকালে কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালত চত্বরে বাংলাদেশ বিচার বিভাগীয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয়ে এক সভায় এই দাবি উত্থাপন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের জেলা সভাপতি ফজলুর রহমান।

নেতারা জানান, তারা তিন দফা দাবিতে স্মারকলিপি প্রদানসহ নানা কর্মসূচি পালন করছেন। তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- কর্মচারীদের বাংলাদেশ বিচার বিভাগের সহায়ক কর্মচারী হিসেবে গণ্য করে বেতন-ভাতা নির্ধারণ করতে হবে। ব্লক পদ বিলুপ্ত করে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পদোন্নতি ও উচ্চতর গ্রেড দিতে হবে। এবং সব কর্মচারীর জন্য এক ও অভিন্ন নিয়োগবিধি প্রণয়ন করতে হবে।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও কুষ্টিয়ার জেলা জজ আদালতের স্টেনোগ্রাফার তারিক আহাম্মেদ রিংকু বলেন, “দেশে ২০ হাজারের মত আদালত-সহায়ক কর্মচারী ত্রিমুখী কর্তৃত্বের যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছেন। নিম্ন আদালতের কর্মচারীরা বিচারিক কাজের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও অতি আবশ্যক হলেও তাদের বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস বেতন স্কেলের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি আজও। সেই কারণে নিম্ন আদালতের কর্মচারীরা বঞ্চিত।”

বেঞ্চ সহকারী রিজিয়া খাতুনের দাবি, “প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে সরকারি অন্যান্য দপ্তরের কর্মচারীরা চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী যেসব সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন আমাদের তার বালাই নেই। আমার স্যার যদি কখনও অফিস টাইমের বাইরে অধিক সময় কাজ করেন তাহলে তিনি চাকরিবিধি অনুযায়ী ওভারটাইম সুবিধা পান। স্যার যতক্ষণ অফিস করেন আমাকেও ততক্ষণ অফিসে থাকতে হয়। অথচ আমি এই অতিরিক্ত সময়ের কোনো ওভারটাইম পাই না। এই বিদ্যমান বৈষম্যের অবসান চাই।” 

জেলা সভাপতি ফজলুর রহমান বলেন, “হাই কোর্ট বিভাগের অনুমোদন নিয়ে নিম্ন আদালতের বিচারকদের নিয়োগ ও পদোন্নতি দিয়ে থাকে আইন মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে সহায়ক কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দিয়ে থাকে আইন মন্ত্রণালয়, বদলি করে হাই কোর্ট বিভাগ। নিম্ন আদালতের সহায়ক কর্মচারীদের নিয়োগ ও পদোন্নতি দেন জেলা জজ। আবার তাদের আন্তঃজেলা বদলি আদেশ করে হাই কোর্ট বিভাগ। আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বেতন-ভাতাদি পরিশোধ করা হলেও নিয়ম-কানুন অনুসরণ করা হয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের। বিচার বিভাগের জন্য পৃথক পে-স্কেল করা হলেও সহায়ক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরকে সেই পে-স্কেলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। 

“এক কথায় বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের পর বিচারকদের জন্য যেসব সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে, বিপরীতে বঞ্চিত করা হয়েছে সহায়ক কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে। বিচারকদের জন্য বিচারিক ভাতা থাকলেও বিচার সহায়ক কর্মচারীদের জন্য সেই ভাতা নেই। এমনভাবে নানামুখী বৈষম্যের যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছেন নিম্ন আদালতের কর্মচারীরা।” 

অবিলম্বে এসব বৈষম্যের নিরসন দাবি করেন ফজলুর রহমান।