Published : 03 Jul 2024, 06:50 PM
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র ও দুধকুমার নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সাময়িক বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
এতে নিম্নাঞ্চলে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন।
বুধবার দুপুরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জেলার উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রাফসান জানি বলেন, “কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র নদ নুনখাওয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৮ সেন্টিমিটার এবং চিলমারী নৌবন্দর পয়েন্টে ১৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
অপরদিকে দুধকুমার নদী পাটেশ্বরী রেলওয়ে সেতু পয়েন্টে বিপৎসীমার এক সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানান প্রকৌশলী।
এদিকে পানি বেড়ে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় উলিপুর, চিলমারী ও ফুলবাড়ি উপজেলার মানুষ বেশি দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে। ঘরের ভিতর চৌকি উঁচু করে এবং মাচা বানিয়ে আশ্রয় নিয়েছে বানভাসি মানুষ।
চৌকিতে রান্নাবান্না, চৌকিতেই রাত কাটছে তাদের। বাড়ির চারপাশে থই থই পানিতে অসহায় দিন কাটছে নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধী মানুষের।
উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের বালাডোবা গ্রামের আসমত মিয়া ও নূর বানু দম্পতি জানান, তিন দিন ধরে তারা পানিবন্দি। ছেলেমেয়েকে উঁচু জায়গায় স্বজনদের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন। নিজেরা গরু-ছাগল পাহারা দিচ্ছেন।
তবে বুধবার পর্যন্ত কেউ তাদের খোঁজ-খবর নিতে আসেনি বলে আক্ষেপ করেন এই দম্পতি।
একই ইউনিয়নের ফকিরের চর গ্রামের রমিচন বিবি বলেন, “ঘরে পানি। রান্না করতে সমস্যা হচ্ছে। গরুকেও কিছু খাইতে দিতে পারছি না। বাচ্চারা কান্নাকাটি করছে।”
একই রকম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন বলে জানান ফকিরের চর গ্রামের ফরিদা। তিনি বলেন, “চারটে ভাত ফুটাচ্ছি। তরকারি নাই। লবণ দিয়া খাইতে হইবো।”
ফকিরের চরে একটি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ৮০টি পরিবার আশ্রয় নিলেও তারা বিশুদ্ধ পানি ও টয়লেট সমস্যায় আছেন বলে জানিয়েছেন।
সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল গফুর বলেন, “আমার ইউনিয়নে দেড় হাজার মানুষের বাড়িঘর তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া আট হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছে।”
উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল হামিদ শেখ বলেন, “আমার ওয়ার্ডে দেড়শ ঘরে পানি উঠেছে। এ ছাড়া এই ইউনিয়নে প্রায় ৮০০ পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় আছে।”
উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতাউর রহমান বলেন, “বিষয়টি জেনে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের লোকজনকে জানানো হয়েছে। বন্যার্তদের সহায়তায় কাজ করা হচ্ছে।”
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরিফ বলেন, বন্যা কবলিত সদর, চিলমারী, উলিপুর ও নাগেশ্বরীতে খোঁজ-খবর নেওয়ার পাশাপাশি এক হাজার ২০০ পরিবারকে ১০ কেজি করে চালসহ অন্যান্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
এর মধ্যে উলিপুর উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নে ১০০ জনের মাঝে ১০ কেজি হারে চাল বিতরণ চলছে। চিলমারী উপজেলার রমনা, নয়ারহাট ও চিলমারী প্রত্যেকটি পয়েন্টে ৬০০ মানুষের মধ্যে ১০ কেজি হারে মোট ছয় মেট্রিক টন চাল বিতরণ হয়।
সদর উপজেলার চরভগবতীপুর, খেয়ার আলগা, কালীর আলগা, পোরার চরে ১৫০ প্যাকেট ত্রাণ বিতরণ করা হয়।
নাগেশ্বরী উপজেলার গরুভাসার চর, ফকিরগঞ্জ, নুনখাওয়ার চরকাপনা ও নুনখাওয়া পয়েন্টে ২০০ পরিবারের মাঝে পরিবার ১৫০ প্যাকেট ত্রাণ (প্রতি প্যাকেটে ১০ কেজি চাল, এক কেজি ডাল, এক লিটার তেল ও এক কেজি লবণ) বিতরণ হয়।
এ ছাড়া ফুলবাড়ী উপজেলার বড়ভিটায় ১৫০ পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয় বলে জেলা প্রশাসক সাইদুল আরিফ জানান।