Published : 17 Mar 2026, 05:08 PM
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ১০ বছর বয়সী এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। নির্দয় পাশবিকতার শিকার শিশুটি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিটে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।
এ ঘটনায় শিশুটির মায়ের করা মামলায় মাদ্রাসার সুপার মাওলানা সাইদুর রহমানসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভেড়ামারা থানার ওসি মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান।
গ্রেপ্তার সাইদুর রহমান ভেড়ামারা পৌর ৮নং ওয়ার্ড কুঠিবাজার এলাকার জামিলাতুন্নেছা মহিলা মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও তত্ত্বাবধায়ক। সোমবার বিকালে স্থানীয় একটি মসজিদে এতেকাফরত অবস্থা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, “গত রোববার সকাল ১০টার দিকে শিশুটিকে স্বাস্থ্য কেন্দ্রের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে পরিবার। এ সময় শিশুটি অচেতন অবস্থায় ছিল।
“প্রথমে পায়ে ব্যথা পেয়েছে, হাঁটতে পারছে না, এমন অসুবিধার কথা জানায় পরিবার। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক পরীক্ষায় জানতে পারেন যে শিশুটি যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে।
“পরে বিষয়টি বুঝতে পেরে ওয়ান স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে”, বলেন তিনি।
শিশুর পরিবারের বরাতে পুলিশ জানায়, ৮ মাস আগে শিশুটিকে জামিলাতুন্নেসা মহিলা মাদ্রাসায় তৃতীয় শ্রেণিতে আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে ভর্তি করা হয়। ভাড়া নেওয়া দ্বিতল ভবনের দোতলায় মাদ্রাসা এবং নীচ তলায় মাদ্রাসার সুপার মাওলানা সাইদুর রহমান পরিবারসহ বসবাস করতেন।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে থাকা শিশুটির মা মোবাইলে বলেন, রোববার মাদ্রাসা ছুটি হওয়ায় শিশুকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি মাদ্রাসায় যান। সেখানে গিয়ে শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় পান।
“এ সময় সুপারের স্ত্রী আমাকে জানায়- মেয়ের জ্বর এসেছে। একথা শুনে আমি মেয়েকে নিয়ে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যাই। সেখানে চিকিৎসক দেখার পর পরিস্থিতি খুব খারাপ হওয়ায় দ্রুত মেয়েকে রাজশাহী মেডিকেলে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন।”
শিশুটির মা আরও বলেন, “আমরা এ্যাম্বুলেন্স ঠিক করে দ্রুত রাজশাহীতে নিয়ে আসি একটা নারী নির্যাতন প্রতিরোধ সেলের মাধ্যমে। এখন চিকিৎসকরা আমার মেয়েকে আইসিইউতে ভর্তি করে চিকিৎসা দিচ্ছেন।”
মায়ের অভিযোগ, “আমার মেয়েকে যখন ভর্তি করি ওই সময় মাদ্রাসায় ৪০-৪৫ জন শিক্ষার্থী থাকলেও এখন সেখানে ৬-৭ জন আছে। মাদ্রাসায় পুরুষ শিক্ষক হিসেবে একমাত্র সুপারই থাকতেন। শিক্ষক নামের ওই পাষণ্ড আমার নিষ্পাপ শিশু বাচ্চাকে শেষ করে দিয়েছে। আমি এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
শিশুটির বাবা বলেন, “অনেক আশা ভরসা করে মেয়েকে কোরআন শেখানোর জন্য মাদ্রাসায় দিয়েছিলাম। কিন্তু জানোয়ারের বাচ্চা কি সর্বনাশটা করল? আমি এর বিচার চাই। মাদ্রাসা শিক্ষকের এই জঘন্য কাজকে একজন নারী হিসেবে তার স্ত্রী কিভাবে গোপন করে রাখে? আমি তারও বিচার চাই।”
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিটের ইনচার্জ আবু হেনা মোস্তফা কামাল মোবাইলে বলেন, “শিশুটিকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।”
ভেড়ামারা থানার ওসি মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান বলেন, “রোববার উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ওয়ান স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে সংবাদ পাই যে পৌর এলাকার একটি মাদ্রাসার শিশু ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছে।
“এ ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে মাদ্রাসার তত্ত্বাবধায়ক মাওলানা সাইদুর রহমান ও তার স্ত্রীসহ অপর এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।”
এর মধ্যেই পুলিশ মামলার এজাহার নামীয় তিনজনকেই গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে বলেও জানান ওসি।