সিডনির মঞ্চে রবীন্দ্রনাথের ‘রক্তকরবী’, ১০০ বছর পরের যক্ষপুরী
মূল নাটকের দর্শনকে অক্ষুণ্ন রেখে একে ১০০ বছর পরের যক্ষপুরী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।
যন্ত্রসভ্যতার যক্ষপুরী থেকে ১০০ বছর পরের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রেক্ষাপট—এই ভাবনায় সিডনির মঞ্চস্থ হয়ে গেল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাটক ‘রক্তকরবী’র ছায়া অবলম্বনে নির্মিত প্রযোজনা ‘রেড ওলিয়ান্ডার্স’।
রোববার সন্ধ্যায় ব্রায়ান ব্রাউন থিয়েটার অ্যান্ড ফাংশন সেন্টারে ‘আঙ্গিক থিয়েটার’-এর পরিবেশনায় এবং রাহুল গাঙ্গুলীর নির্দেশনায় নাটকটি প্রবাসীদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
১৯২৪ সালে প্রকাশিত রবীন্দ্রনাথের প্রতীকী নাটক ‘রক্তকরবী’র মূল ভাবনা যক্ষপুরীর সোনা-কেন্দ্রিক শোষণ, যন্ত্রসভ্যতা ও মানুষের স্বাধীন সত্তার প্রশ্ন, আজও সমসাময়িক। তবে সিডনির এ প্রযোজনার আকর্ষণ ছিল মূল নাটকের দর্শনকে অক্ষুণ্ন রেখে একে ১০০ বছর পরের যক্ষপুরী হিসেবে উপস্থাপন করা, যা দর্শকদের মাঝে নতুন ভাবনার খোরাক জুগিয়েছে।
নাটকটির নন্দিনী চরিত্রে অভিনয় করেছেন আফসানা রুচি। তার বাচিক ও আঙ্গিক অভিনয় যক্ষপুরীর যান্ত্রিকতার বিপরীতে জীবন ও ভালোবাসার প্রতীককে ‘জীবন্ত’ করে তুলেছে বলে মন্তব্য করেছেন দর্শকরা।
এছাড়া নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন টিম কিশোর, সায়ান রাহা, অপু সাহা, সুব্রত সরকার, তাসলিম আহমেদ বাপ্পি, স্বপ্না মজুমদার, অরিন্দম কাঞ্জিলাল, রঞ্জিত দাস, সন্দীপ কাঞ্জিলাল, দেবাশিস চক্রবর্তী, সাইমন পাল, অরিজিৎ বড়ুয়া শাওন, ফয়সাল সিদ্দিকী, প্রতীত ফয়সাল ও প্রমিত ফয়সাল।
নাটকের কারিগরি ও নান্দনিক দিকটিও নজর কাড়ে দর্শকদের। এর সেট ডিজাইন করেছেন অরিজিৎ সেন, আলোকসম্পাদনায় ছিলেন প্রমিত চৌধুরী ও তাসনিম আহমেদ এবং শব্দ নিয়ন্ত্রণে অরিন্দম ব্যানার্জী ও সৌনক মিত্র। স্লাইডস ও প্রজেকশনের দায়িত্বে ছিলেন কানিশ মজুমদার, কস্টিউমে শর্মিষ্ঠা সরকার এবং মেকআপে মানালি রায়। দর্শকদের ব্যবস্থাপনায় যুক্ত ছিলেন শাকিল চৌধুরী ও সৌমিত্র মুখার্জী।
অমৃতা পাল চৌধুরী ও আকাঙ্ক্ষিতা চৌধুরীর নৃত্য পরিচালনায় মঞ্চে অংশ নেয় একদল তরুণ শিল্পী। এছাড়া রবীন্দ্রসংগীতের পাশাপাশি লালন ও হাসন রাজার গানের সংযোজন প্রযোজনাটিকে ভিন্ন মাত্রা দেয়।
