Published : 18 Oct 2022, 04:49 PM
শীতপ্রধান দেশে ‘ফল সিজন’ মানে ঝরা পাতার ঋতু। এসময় গাছের পাতা লাল, হলুদ, কমলা রঙে নিজেকে রাঙিয়ে তোলে। অপরূপ হয়ে ওঠে প্রকৃতি। গাছের নিচে ঝরা পাতার রঙিন মাদুর বিছানো থাকে।
প্রকৃতির এই অপরূপ শোভা দেখে বিস্মিত হয় সবাই। এর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে কবি-সাহিত্যিকরা রচনা করেছেন কবিতা আর গান। ইম্প্রেশনিস্ট চিত্রকররা এঁকেছেন বিখ্যাত সব ছবি, কিন্তু এর পেছনে যে আছে বৃহত্তর স্বার্থে এক করুণ আত্নত্যাগের কাহিনি, এ বিষয়টি আমরা কেউ চিন্তা করি না। আমরা মেতে থাকি আনন্দ বৈভবে। পাতার আত্মত্যাগ আর গাছের স্বার্থপরতার বিষয়টি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাসহ একটু খোলাসা করে বলি।
গাছের পাতায় প্রচুর পরিমানে ক্লোরোফিল থাকে। পাতার ক্লোরোফিল গাছের পানি আর সূর্যের আলোর সংস্পর্শে এসে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য উৎপাদন করে এবং সে খাদ্য শিরা-উপশিরার মাধ্যমে গাছের বিভিন্ন অংশে পৌঁছায়। ক্লোরোফিলের আধিক্যের কারণে গাছের পাতার রং সবুজ দেখায়।
এই রূপ দেখে আলবেয়ার কামু বলেছিলেন, ‘অটাম ইজ অ্যা সেকন্ড স্প্রিং হোয়েন এভ্রি লিফ ইজ অ্যা ফ্লাওয়ার’। আমরাও প্রকৃতির এই বর্ণিল রূপ দেখতে প্রতিবছর বেরিয়ে পড়ি অন্টারিওর কোন না কোন প্রান্তে।
শীতপ্রধান দেশগুলোতে ফল সিজনের শেষের দিকে যখন দিনের দৈর্ঘ্য, সূর্যের আলোর পরিমাণ এবং তাপমাত্রা কমতে থাকে তখন গাছের পাতা পর্যাপ্ত খাদ্য উৎপাদন করতে পারে না, একসময় এ খাদ্য উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পাতা এবং শাখা প্রশাখার সংযোগস্থলে গাছ পাতলা কাঠের স্তর তৈরি করে যাতে গাছের ভেতরের মজুত খাদ্য ও পানি পাতায় যেতে না পারে। যে পাতা পুরো সময়জুড়ে গাছের জন্য খাদ্য উৎপাদন করেছে সে পরে যায় বিপদে। একসময় পানির অভাবে পাতার ক্লোরোফিল বিবর্ণ হয়ে যায় এবং বাদামি বর্ণ ধারণ করে ঝরে পড়ে। শীতের শুরুতে যে কারণে প্রতিটি গাছ পাতাশূন্য হয়ে পড়ে ।
গাছের পাতায় আরও দুটি পিগমেন্ট থাকে- ‘ক্যারোটিন’ যা কমলা রং এবং ‘জ্যান্থোফিল’ যা হলুদ রং বহন করে। ক্লোরোফিল বিবর্ণ হওয়ার সাথে সাথে যে গাছে ক্যারোটিনের প্রাধান্য থাকে সে পাতা হয়ে যায় কমলা আর যে গাছের পাতায় জ্যান্থোফিল প্রাধান্য থাকে সে গাছের পাতা হয়ে যায় হলুদ। ম্যাপল লিফের বিভিন্ন প্রজাতির গাছে এ দুটি পিগমেন্ট বেশি থাকে বিধায় ম্যাপল লিফের দেশ কানাডায় ফল কালারের সৌন্দর্য বেশি দৃষ্টিগোচর হয়।
পুরো সামার-জুড়ে গাছের পাতা শর্করা জাতীয় খাদ্য উৎপাদন করে। এ খাদ্য শিরা-উপশিরার মাধ্যমে গাছে সরবরাহ করে। পাতা এবং গাছের সংযোগস্থলে পাতলা কাঠের পর্দার কারণে এ চিনি জাতীয় খাদ্য আর গাছে যেতে পারে না। চিনির আধিক্যের কারণে কোন কোন গাছের পাতা রক্তলাল হয়ে ওঠে। গাছ থেকে পাতায় পানির প্রবাহ না থাকার কারণে এ পাতাও কিছুদিন পর ঝরে পড়ে। পাতা এবং গাছের শাখা প্রশাখার সংযোগস্থলে কাঠের পাতলা আবরণ তৈরি না হলে শীতে পানি এবং খাদ্যকণা বেরিয়ে গিয়ে গাছ শুষ্ক আর নিস্তেজ হয়ে মারা যেতো। গাছ বেঁচে থাকার স্বার্থে শীতের শুরুতে পাতার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে।
যতোই স্বার্থপরতা আর আত্মত্যাগের করুণ কাহিনি থাকুক না কেন এসময় প্রকৃতি অপরূপ রূপে উদ্ভাসিত হয়। এই রূপ দেখে আলবেয়ার কামু বলেছিলেন, ‘অটাম ইজ অ্যা সেকন্ড স্প্রিং হোয়েন এভ্রি লিফ ইজ অ্যা ফ্লাওয়ার’। আমরাও প্রকৃতির এই বর্ণিল রূপ দেখতে প্রতিবছর বেরিয়ে পড়ি অন্টারিওর কোন না কোন প্রান্তে। অন্টারিওর ফল কালার দেখার সবচেয়ে সুন্দর স্থান হলো মাসকুকা ডিস্ট্রিকের ‘অ্যালগোনকুইন প্রভিন্সিয়াল পার্ক’।

ছোটবড় প্রায় পনেরশ লেক আছে এ অ্যালগোনকুইন পার্কে। এই লেকের ধারে বসে লেকের স্বচ্ছজলে লাল, হলুদ, সবুজ বৃক্ষের যে প্রতিবিম্ব পড়ে তা দেখে কাটিয়ে দেওয়া যায় পুরো একটা দিন।
এ পর্যায়ে অ্যালগোনকুইন সম্পর্কে মনে হয় খানিকটা ধারণা দেওয়া দরকার। মাসকুকার অ্যালগোনকুইন পার্ক হলো কানাডার সবচেয়ে প্রাচীন এবং অন্টারিও প্রদেশের সবচেয়ে বড় প্রভিন্সিয়াল পার্ক। দুই মিলিয়ন একর জুড়ে প্রাচীন ম্যাপল ওক, পাইন, বার্চ ট্রি সামারে দৃষ্টিসীমায় সবুজের পরশ বুলিয়ে দেয়। পার্কের ভেতর দিয়ে চুয়ান্ন কিলোমিটার দীর্ঘ যে রাস্তা চলে গিয়েছে সে রাস্তার উপমা যদি দেই মাথার সিঁথির মতো, তা মনে হয় ঠিক মানানসই হবে না। বরং বলা যায় বনের ভেতর সাপের মতো এঁকেবেঁকে চলে গিয়েছে সে রাস্তা।
ছোটবড় প্রায় পনেরশ লেক আছে এ অ্যালগোনকুইন পার্কে। এই লেকের ধারে বসে লেকের স্বচ্ছজলে লাল, হলুদ, সবুজ বৃক্ষের যে প্রতিবিম্ব পড়ে তা দেখে কাটিয়ে দেওয়া যায় পুরো একটা দিন। পার্কের ভেতর দিয়ে চলে যাওয়া রাস্তায় ড্রাইভ করলে নির্মল বাতাসে সবুজের ছোঁয়ায় মনে অফুরান প্রাণশক্তি এনে দেয় আর এই ফল সিজনে একই রাস্তায় ড্রাইভ করলে পুরো পার্কের লাল, হলুদ, গোলাপি রঙের আভায় চিত্ত চঞ্চল হয়ে ওঠে। ড্রাইভকে মনে হয় স্বপ্নজগতের বিচরণ।
এবার আমাদের ফল কালার দর্শনের কাফেলা বেশ বড়। আমার শ্যালিকা পাপড়ির বড় মেয়ে লিমিসা এখানে পড়াশোনা শেষ করে চাকরি করছে ব্যাংকে, ছোটমেয়ে তানিশাও এসেছে পড়াশোনা করতে। শ্যালিকা থাইল্যান্ড থেকে এসেছে মেয়েদের সাথে সময় কাটাতে। ওকে নিয়ে এবার আমাদের ফল কালারের আনন্দভ্রমণ বেশ মধুর। গাইবান্ধার কাজল আমার কৈশোরের বন্ধু। জহুরুল-কাজল এই প্রবাসে আমাদের সবচেয়ে কাছের পারিবারিক বন্ধু এবং প্রতিবছরের ফল কালার দর্শনের সাথী। গাইবান্ধার লোনা আপা, তাজুল ভাই থাকেন কানাডার আরেক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি ব্রিটিশ কলম্বিয়ার কেলোনাতে। তাজুল ভাই ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলম্বিয়ায় অ্যাকাউন্টিং পড়ান। করোনাভাইরাসের প্রভাবে এখনও তিনি ক্লাস নেন অনলাইনে। সে কারণেই তারা থাকতে পারছেন টরন্টোতে মেয়েদের সাথে। চার পরিবারের দশজন সদস্য নিয়ে এবার আমাদের আনন্দদর্শন।
অ্যালগোনকুইন পার্ককে ঘিরে এর আশপাশের শহরগুলোতে গড়ে উঠেছে অজস্র হোটেল, মোটেল, কটেজ এবং রিসোর্ট। আছে পার্কের নিজস্ব ক্যাম্পসাইট। ফল কালারের এই পিক সিজনে এসব স্থাপনা হয়ে যায় ‘ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই ছোট্ট এ তরী’। সংক্ষিপ্ত সময়ের পরিকল্পনায় চার পরিবারের দশ সদস্যের জন্য চারটি ডবল বেডের রুম সংগ্রহ অসম্ভব হয়ে যায়। রুমুর অক্লান্ত পরিশ্রমে শেষ পর্যন্ত তা পাওয়া গেলো অ্যালগোনকুইন পার্ক থেকে ১৩০ কিলোমিটার দূরে তিনহাজার আইল্যান্ড ঘিরে থাকা লেক হুরনের উপকূলে আর এক রূপের শহর পেরিসাউন্ডে।
অ্যালগোনকুইন পার্কের ভেতর দিয়ে যে হাইওয়ে ৬০ চলে গিয়েছে, সে হাইওয়ে ধরে পার্কের ভেতর ড্রাইভ করে যাওয়ার জন্য টিকিট কাটার কোন প্রয়োজন নেই। পার্কের ভেতর বিভিন্ন লেক এবং দর্শনীয় স্থানে পার্ক কানাডা তৈরি করেছে বেঞ্চ, পার্কিং স্পট, ওয়াশরুম। সেসব জায়গায় গাড়ি পার্ক করে বাড়ি থেকে নিয়ে আসা খাবার খেয়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। এর জন্য প্রতি গাড়ির জন্য ১৮ ডলারের একটি টিকেট কেটে নিতে হয়।

জিপিএস আমাদেরকে অ্যালগোনকুইন পার্কের মূল গেট দিয়ে নিয়ে গেল না। ঘন বনের ভেতর দিয়ে রাস্তা। কিছুক্ষণ পর শুরু হলো গ্রাভেল বিছানো রাস্তা। সে রাস্তায় কিছুক্ষণ ড্রাইভ করার পর আমাদের বকের পালকের মতো ধবধবে সাদা মার্সিডিজ ধুলোয় একাকার।
মাঝপথে এসে সেটি মনে হওয়ায় পার্ক গেটে ফোন করে জানা গেল সব পার্কিং পারমিট বিক্রি হয়ে গিয়েছে। টিম রিভার সংলগ্ন স্পটে এখনও কিছু পারমিট অবিক্রিত আছে। এই টিম রিভার কোথায় তা যাচাই বাছাই না করে গাড়িতে বসে তিন গাড়ির জন্য তিনটি পারমিট কিনে ফেলা হলো অনলাইনে। মাঝপথের যাত্রা বিরতির স্থান বেরির ‘অনরুট’ নামক স্থানে তিনটি গাড়ির জিপিএস-এ টিম রিভারের ঠিকানা সেট করে রওনা দিয়েছিলাম।
জিপিএস আমাদেরকে অ্যালগোনকুইন পার্কের মূল গেট দিয়ে নিয়ে গেল না। ঘন বনের ভেতর দিয়ে রাস্তা। কিছুক্ষণ পর শুরু হলো গ্রাভেল বিছানো রাস্তা। সে রাস্তায় কিছুক্ষণ ড্রাইভ করার পর আমাদের বকের পালকের মতো ধবধবে সাদা মার্সিডিজ ধুলোয় একাকার। কানাডার অনেক এলাকায় ভ্রমণ করেছি, প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়েছি, কোথাও এমন রাস্তার দেখা পাইনি। কিছুক্ষণ পর চলে গেল ফোনের নেটওয়ার্ক। গুগল ম্যাপস কাজ করছে না। অগত্যা রাস্তার পাশের সাইন দেখে এগিয়ে চলছি সামনে।
২৫-৩০ কিলোমিটার ড্রাইভ করার পর বন আরও গভীর হলো। খানিকটা ভয়ভয়ও লাগছে, জনমানবশূন্য, অন্য কোন গাড়ির যাওয়া আসা নেই। অগত্যা রাস্তার পাশে থেমে বাকি দুটো গাড়ির অপেক্ষা করছি। কিছুক্ষণ পর তারাও এসে গেলো। সিদ্ধান্ত হলো এখান থেকেই ফিরে যাবে। আমার মন সায় দিচ্ছিল না। টিম রিভারের শেষ পয়েন্টটা দেখা দরকার। জিপিএস কাজ না করায় সেটি কতদূর তাও জানা সম্ভব হচ্ছিল না।
বাকি সদস্যদের অপেক্ষা করতে বলে আমরা অগ্রসর হয়েছিলাম। কাঁচা রাস্তা, খানাখন্দের ভেতর দিয়ে মিনিট পাঁচেক ড্রাইভ করার পর আমরা পেয়ে গেলাম সেই পয়েন্ট। পার্কিং লটে ৮/১০ টি গাড়ি পার্ক করা, কোন লোকজন নেই। দূরে দেখলাম পার্ক কানাডার স্টিকার লাগানো একটি ট্রাক, সে ট্রাকের ভেতর বসে আছেন একজন মহিলা। তার কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করে জানলাম এটি মূলত যারা গভীর অরণ্যে হাইকিং কিংবা শিকার পছন্দ করে তারাই মূলত আসে এ পয়েন্টে। আমাদের দলের কোন সদস্যেরই সে সক্ষমতা কিংবা আগ্রহ নেই।

১৯১২-১৪ সালের মধ্যে এ অ্যালগোনকুইন পার্ক আবিষ্কার করেছিলেন টম থমসন নামের একজন কানাডিয়ান। তার উপর বিস্তারিত তথ্য আছে আর্ট সেন্টারের বাইরের অংশে।
দলের অন্য সদস্যদের কাছাকাছি আসতেই দেখলাম বনের ভেতর থেকে বেরিয়ে এসেছেন আদিবাসীদের মতো একজন, তার মুখে চুরুট, কাঁধে ঝোলানো বন্দুক, পাশেই দাঁড়িয়ে আছে মাঝারি আকারের একটি কুকুর। হাতে সদ্য শিকার করা একটি বড়সড় হাঁস। বনের ভেতর এমন আগন্তুক দেখলে ভয় পাওয়ার কথা, কিন্তু আমাদের বাকি সদস্যদের দেখলাম তার সাথে দিব্যি আলাপ করতে।
শেষ পয়েন্টের অভিজ্ঞতা শুনে সবাই হোটেলে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। লোনা আপাকে দেখলাম খানিকটা অসন্তুষ্ট। যতো দোষ নন্দ ঘোষ, তাই আমার দিকে তাকিয়ে বললেন - কোথাও যাওয়ার পরিকল্পনা করার সময় সে জায়গা সম্পর্কে ভালভাবে খোঁজ করে আসা উচিত ছিলো। ফেরার পথে রাস্তার পাশে গাড়ি পার্ক করে লোনা আপার নিয়ে আসা খিচুড়ি আর মাংস খেয়ে নিয়েছিলাম। লোনা আপার উপর খানিকটা মন খারাপ হয়েছিল, এমন সুস্বাদু খিচুড়ি খাওয়ার পর তা উবে গেলো।
প্যারি সাউন্ডের হোটেলে বসে সবাই পরের দিন বাসায় ফেরার পরিকল্পনা করছে। অ্যালগোনকুইন এর ফল কালার না দেখে বাড়ি ফিরে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল আমি। অগত্যা সবাই সে পথে হাঁটা শুরু করলো। তবে হোটেলে বসে লোনা আপার অভিমত ছিলো এর চেয়ে ভাল ফল কালার তাদের কেলোনাতে। সেই লোনা আপা যখন হাইওয়ে ৬০ ধরে অ্যালগোনকুইন করিডোরে প্রবেশ করলো তখন তার উচ্ছ্বাস আর ধরে না। ফল কালারের রং লেগে গেল তার মনে। ছবির পর ছবি তুলে যাচ্ছেন তিনি। তাল মেলাতে গিয়ে বেচারা তাজুল ভাইয়ের অবস্থা বেগতিক।
ততোক্ষণে কাজল এবং লোনা আপার পরিবার বিদায় নিয়েছে। আমরা থেকে গিয়েছি তখনও। মাঝেমধ্যে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে চোখ জুড়িয়ে নিচ্ছি, ছবি তুলছি। অ্যালগোনকুইনের ভেতর দিয়ে চলে যাওয়া হাইওয়ে ৬০ ধরে ড্রাইভ করতে করতে রাস্তার ডানপাশে চোখে ‘অ্যালগোনকুইন আর্ট সেন্টার’। কৌতূহলবশত ঢুকে পড়লাম সেখানে। অ্যালগোনকুইনের জীববৈচিত্র, পরিবেশ তুলে ধরা হয়েছে পেইন্টিং আর ভাস্কর্যের মাধ্যমে। ১৯১২-১৪ সালের মধ্যে এ অ্যালগোনকুইন পার্ক আবিষ্কার করেছিলেন টম থমসন নামের একজন কানাডিয়ান। তার উপর বিস্তারিত তথ্য আছে আর্ট সেন্টারের বাইরের অংশে। ভেতরে সুদৃশ্য ফ্রেমে ক্যানভাসের উপর একটি অ্যাক্রিলিক পেইন্টিং-এ চোখ আটকে গেল। বনের ভেতর ক্যাম্পফায়ারের জীবন্ত ছবি। সামর্থের মধ্যে হলে কিনবো এমন মনোভাব নিয়ে কাছে গিয়ে চোখ ছানাবড়া। মূল্য লেখা আছে পঁয়ত্রিশ হাজার ডলার। সুদৃশ্য সেই আর্ট সেন্টারে ভালো লাগার অনেক কিছুই আছে। এটি অ্যালগোনকুইনে আসা পর্যটকদের মাঝে নিঃসন্দেহে ভিন্নমাত্রা যোগ করবে।
গতবছর এসেছিলাম অক্টোবরের নয় তারিখে। তখন অ্যালগোনকুইন ছিলো পুরোটাই রঙিন। কিছু গাছের পাতা ঝরে গিয়েছিল। সেই ঝরাপাতার কঙ্কালসার গাছ দেখে খারাপ লেগেছিল। এবার এসেছি তার এক সপ্তাহ আগে। এবারের রঙটা আরও আকর্ষণীয়। আবহাওয়া ছিলো চমৎকার, রৌদ্রকরোজ্জ্বল। সবুজ, হলুদ, লাল আর গোলাপির মিশ্রনে পার্কে এক অভূতপূর্ব দৃশ্য, পুরো অ্যালগোনকুইনকে মনে হলো ষোড়শী, যার ভেতর অফুরন্ত উচ্ছ্বাস।
সেই উচ্ছ্বাসের রঙ লেগেছে আমাদের মনেও। কর্মব্যস্ত জীবনে এই উচ্ছ্বাসটুকুর জন্য প্রতিবছর বেরিয়ে পড়ি ফল কালারের বর্ণিল সৌন্দর্যের খোঁজে।