ক্ষমতাবানেরাই পরিবেশ দূষণে দায়ী: রেহমান সোবহান
বাংলাদেশে পরিবেশ বিপর্যয় রোধে ‘রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার' পরামর্শ দেন তিনি।
বাংলাদেশে সমগ্র জনগোষ্ঠীর কল্যাণে আইন হচ্ছে না। অনেক সময়েই বিশেষ ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থেও আইন তৈরি হচ্ছে। যাদের হাতে পয়সা আছে, যাদের হাতে রাজনৈতিক ক্ষমতা আছে, ক্ষমতার এক্সেস আছে, প্রভাব আছে, তারা পরিবেশ দূষণের জন্য দায়ী বা চিহ্নিত হলেও সত্যিকার অর্থে তাদের বিরুদ্ধে কিছুই করা সম্ভব হয় না।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্ক’ (বেন) এর ২৫ বছর পূর্তি উৎসবে এসব কথা বলেন অধ্যাপক রেহমান সোবহান।
শনিবার নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত এ উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত এ অর্থনীতিবিদ।
বাংলাদেশে পরিবেশ বিপর্যয় রোধে ‘রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার' পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণের দুই মেয়র ভোটের আগে যে ধরনের অঙ্গিকার করেছিলেন তার বাস্তবায়ন আমরা দেখতে পাচ্ছি না। রাজনীতিকরা সোচ্চার হলেই জলবায়ু পরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে যে ভয়ংকর পরিস্থিতির আশঙ্কা করা হচ্ছে তা থেকে জনগোষ্ঠী এবং জনপদকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।”
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পরিকল্পনা কমিশনের এই সদস্য বলেন, “পরিবেশ সুরক্ষায় নিউ ইয়র্ক সিটি মেয়রের অফিস যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সেগুলোর সাথে ঢাকার মেয়রদের পরিচিত হওয়া দরকার। আমি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণের মেয়রকে নিউ ইয়র্কে দেখতে চাই। জানতে চাই যে, তারা নিউ ইয়র্কের মেয়রের অভিজ্ঞতার আলোকে রাজধানী ঢাকার পরিবেশ সুরক্ষায় ২-৩ বছরের একটি পরিকল্পনা হাতে নিচ্ছেন। সেই পরিকল্পনার মেয়াদ ৫ কিংবা ১০ বছর পর্যন্ত হতে পারে।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রওনক জাহান বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন গরিব জনগোষ্ঠী এবং তাদের কন্যারা। বাস্তুচ্যুত হওয়ায় তারা স্কুল থেকে ঝরে পড়ছে। অপুষ্টিকর খাদ্য তাদের স্বাভাবিক জীবন-যাপনে বাধা দিচ্ছে। এমন অবস্থায় অনেক পিতা-মাতা অল্প বয়সে তাদের বিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগেই সন্তান ধারণ করায় সেসব তরুণী বধূরাও নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।”
নজরুল কবীর, নুপুর চৌধুরী এবং উর্বি সাবিনা হাইয়ের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন জাতিসংঘের উন্নয়ন গবেষণা দলের প্রধান এবং বেনের প্রতিষ্ঠাতা নজরুল ইসলাম, বেনের বৈশ্বিক সমন্বয়ক খালেকুজ্জামান, জাকির হোসেন এবং নিউ ইয়র্ক সিটি মেয়রের পরিবেশ বিষয়ক প্রতিনিধি।
উৎসবে নানা আয়োজনের মধ্যে ছিল- ‘তুমি নির্মল কর’ নামে গীতি-আলেখ্য, ‘আমাদের সুন্দর পৃথিবী’ শিরোনামে ছবি আঁকা প্রতিযোগিতা, পুঁথিপাঠ ও র্যালি।
