Published : 19 May 2026, 05:57 PM
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় মসজিদে বন্দুক হামলার ঘটনা সেখানকার কয়েক হাজার বাংলাদেশি প্রবাসীর মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে।
তারা বলছেন, সান ডিয়েগোর বাসিন্দারা এর আগে কখনো এ ধরনের পরিস্থিতির মুখে পড়েনি।
সোমবার ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়াগোর একটি মসজিদে বন্দুক হামলা হয়। এতে এক নিরাপত্তা রক্ষীসহ নিহত হন তিনজন। পরে লাশ পাওয়া যায় সন্দেহভাজন দুই হামলাকারীর। তারা দুজনই কিশোর।
পুলিশের ধারণা, নিজেদের গুলিতেই ওই দুই কিশোরের মৃত্যু হয়েছে।
সান ডিয়েগোতে কয়েক হাজার বাংলাদেশি প্রবাসী বসবাস করেন। তবে হতাহতের তালিকায় কোনো বাংলাদেশি থাকার খবর পাওয়া যায়নি।
মসজিদের পাশের এলাকায় থাকেন বাংলাদেশি লেখক মোহাম্মদ আলম পান্না।
তিনি টেলিফোনে বিডিনিউজ টোয়োন্টিফোর ডটকমের এ প্রতিনিধিকে বলেন, “ঘটনার আকস্মিকতায় সবাই ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছেন।
“কারণ, হামলার সময় মসজিদ প্রাঙ্গণে অবস্থিত আল রশিদ স্কুলে পাঠদান চলছিল। ইংরেজি ও আরবি ক্লাসের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকানরাও ছিল। তবে হতাহতের মধ্যে কোনো বাংলাদেশি নেই।”
পান্না বলেন, “সান ডিয়েগোর এই মসজিদ ঘিরে আশপাশের এলাকায় বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের মুসলমান পেশাজীবী রয়েছেন। কারণ এই মসজিদে প্রচলিত শিক্ষার পাশাপাশি আরবি শেখানোর অনুমতিও মিলেছে স্থানীয় শিক্ষা দপ্তর থেকে। তবে এমন দুঃখজনক ঘটনার অবতারণা কখনো হয়নি।”
সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় পুলিশ বলেছে, দুই সন্দেহভাজনের মধ্যে একজনের মা ঘটনার ঘণ্টা দুয়েক আগে পুলিশকে ফোন করেছিলেন।
ওই মা জানিয়েছিলেন, তার ছেলে বাড়ি থেকে তিনটি বন্দুক নিয়ে দৌঁড়ে বের হওয়ার পর গাড়ি নিয়ে চলে গেছে। তার ছেলেটি আত্মহত্যাপ্রবণ বলে উল্লেখ করেছিলেন ওই মা।
সান ডিয়াগোর পুলিশ প্রধান স্কট ওয়ালের তথ্য অনুযায়ী, ওই মা জানিয়েছিলেন, তার ছেলের সঙ্গে একজন সঙ্গী আছে এবং তারা উভয়েই ছদ্মবেশী পোশাক পরে ছিল। এসব খবর পেয়ে পুলিশ এই কিশোরদের খুঁজতে শুরু করে আর পূর্ব সতর্কতা হিসেবে নিকটবর্তী একটি শপিং মলে ও ওই ছেলেদের হাইস্কুলে টহল দল পাঠায়। এর পরই মসজিদ থেকে গুলির খবর আসে।
সেখানে গিয়ে পুলিশ তিনটি মৃতদেহ খুঁজে পায়। কর্মকর্তাদের ধারণা, নিহত নিরাপত্তারক্ষী সম্ভবত আরও রক্তপাত থামাতে ভূমিকা রেখেছেন।
এর কিছুক্ষণ পর পুলিশ দুই কিশোরের মৃতদেহ খুঁজে পায়। তাদের একজনের বয়স ১৭ ও অপরজনের ১৮। এক রাস্তার মাঝখানে থেমে থাকা গাড়িতে তাদের মৃতদেহগুলো ছিল।
নিজেদের গুলিতে জখম হওয়ার পর তারা মারা গেছেন বলে ধারণা পুলিশের।
বাড়ি থেকে অস্ত্র নিয়ে বের হয়ে যাওয়ার পর ওই ছেলেটির মা একটি লেখা খুঁজে পেয়েছিলেন, ওয়াল এমনটি জানালেও ওই নোটে কী লেখা ছিল তা প্রকাশ করতে রাজি হননি।
ঈদুল-আযহার কয়েকদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রে এই হামলার ঘটনাটি ঘটল।
ইসলামিক সেন্টারের পরিচালক ও ইমাম তাহা হাসান সাংবাদিকদের বলেছেন, “এর আগে এ ধরনের শোচনীয় ঘটনার কোনো অভিজ্ঞতা আমাদের হয়নি। একটি প্রার্থনার স্থানকে লক্ষ্যস্থল করা অত্যন্ত ভয়ানক কাজ।”