Published : 25 May 2026, 12:03 PM
নিউ ইয়র্কে ‘৩৫তম আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা’য় বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য ‘মুক্তধারা-জিএফবি সাহিত্য পুরস্কার’ পেয়েছেন ঔপন্যাসিক ও গবেষক আবদুন নূর।
রোববার সন্ধ্যায় বইমেলার মূলমঞ্চে তার হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও পুরস্কারের অর্থমূল্য তিন হাজার ডলার তুলে দেন বইমেলার আয়োজক কমিটির আহবায়ক নজরুল ইসলাম এবং জিএফবি গ্রুপের চেয়ারপার্সন গোলাম ফারুক ভূইয়া।
গত কয়েক বছর ধরে সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্যে এই পুরস্কার দিচ্ছে ‘আন্তর্জাতিক বইমেলা’ কমিটি। আর পুরস্কারের পুরো অর্থ দেয় নিউ জার্সিভিত্তিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান জিএফবি গ্রুপ।
বিশ্ব ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে অবসরে যাওয়া আব্দুন নূরের বয়স এখন ৮৭ বছর। গত বছর ৩৪তম আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলায় তিনি ‘আজীবন সম্মাননা’ পেয়েছিলেন। এ বছর ‘আজীবন সম্মাননা’ পেয়েছেন অধ্যাপক রেহমান সোবহান।
১৯৬০ এর দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত হন আব্দুন নূর। তার উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে 'পেগাসাস', 'শূন্যবৃত্ত', 'বিচলিত সময়', 'ঢাকা শহর ঘিরে' এবং 'চার দেয়াল' । প্রবাসে বাঙালির আত্মপরিচয়ের সঙ্কট, ব্রিটিশ আমলে চুক্তিবদ্ধ দাস প্রথা ও বাঙালিদের জীবনযাত্রার ইতিহাসের পাশাপাশি মানবাধিকারের প্রশ্নটি জোরালোভাবে উঠে এসেছে তার উপন্যাসে।
চারদিনব্যাপী আন্তর্জাতিক বইমেলার তৃতীয় রাতে ‘মুক্তধারা স্মারক বক্তব্য’ উপস্থাপন করেন লেখক-সাহিত্যিক-নাট্যকার ইমদাদুল হক মিলন। তিনি বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির লালন ও বিকাশে প্রবাসী বাঙালিদের অদম্য আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরেন তার বক্তব্যে।
মিলন বলেন, “৩৫ বছর ধরে নিউ ইয়র্কের এই বইমেলা সকল প্রবাসীকে এক ছাতার নিচে একত্রিত রেখেছে–এটি অত্যন্ত গৌরবের ব্যাপার। তবে আমি আশা করছি, বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির ইতিহাস প্রজন্ম যাতে ধারণ করতে সক্ষম হয়, সেজন্যে ভালো বইগুলো ইংরেজিতে অনুবাদ করা দরকার। তা না হলে ক্রমান্বয়ে বাংলা সংস্কৃতি বহুজাতিক সমাজে হারিয়ে যাবার আশঙ্কা প্রবল হবে।”
আয়োজনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন বৃষ্টি বাগড়া দিলেও আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আবৃত্তি পর্বে উপস্থিতির কমতি ছিল না। নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণে নাচ ও গানের অনুষ্ঠানও ছিল জমজমাট।
‘প্রবাস জীবন-বাঙালিকে দিয়েছে বাণিজ্যিকতা, কেড়ে নিয়ে আন্তরিকতা’ শীর্ষক বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীরা দারুণ মুন্সিয়ানার মধ্য দিয়ে প্রবাস-জীবনের আনন্দ-বেদনাকে উপস্থাপন করেন। হাসি-ঠাট্টার বক্তব্য, আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের আবগে উপস্থিত সকলেই দারুণভাবে উপভোগ করেন। এই বিতর্কে বিষযের পক্ষে অংশ নেন কাবেরি মৈত্রেয়, শামীম রেজা ও মোহাম্মদ নাকিবউদ্দিন; বিপক্ষে ছিলেন ড. বিরুপাক্ষ পাল, বাবু কামরুজ্জামান এবং নাজনীন আহমেদ।
‘হৃদয়ে রবীন্দ্রনাথ ও চেতনায় নজরুল’ শীর্ষক নৃত্যানুষ্ঠানে পুরো অডিটরিয়ামকে মাতিয়ে রেখেছিল শিশু শিল্পীরা। সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘আড্ডা’র উদ্যোগে এবং আল্পনা গুহ ও সুমিত্রা সেনের পরিকল্পনায় এ নৃত্যানুষ্ঠান হয়।