২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

মালদ্বীপে ছয় মাসে ৪৫ বাংলাদেশির মৃত্যু: স্বাস্থ্য নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

গত বছর মোট ৪৩ জনের মৃত্যু হলেও, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই সেই সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে।

মালদ্বীপে ছয় মাসে ৪৫ বাংলাদেশির মৃত্যু: স্বাস্থ্য নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

রাজধানী মালের এক বাজার এলাকায় প্রবাসী শ্রমিকদের দেখা যাচ্ছে, ছবি: অ্যাটল টাইমস/মুজায়্যিন নাজিম।

কে এম ওমর ফারুক, মালদ্বীপ থেকে

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 25 Oct 2026, 03:52 PM

Updated : 25 Oct 2026, 04:43 PM

মালদ্বীপে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বিভিন্ন কারণে ৪৫ জন প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে, যা গত বছরের পুরো সময়ের পরিসংখ্যানকেও ছাড়িয়ে গেছে।

দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাই কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কর্মক্ষম বয়সের প্রবাসীদের এই ধারাবাহিক মৃত্যুর ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

মিশনের প্রথম সচিব ও দূতালয় প্রধান মো. মোতাসেম বিল্লাহ বলেন, “মালদ্বীপে গত বছর ৪৩ জন প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু হলেও, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই সেই সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে মৃত্যুর পরিসংখ্যান।”

তিনি জানান, ছয় মাসে মৃত ৪৫ জনের মধ্যে ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে হৃদরোগে, ৮ জন মারা গেছেন কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় এবং দুজন আত্মহত্যা করেছেন। নিহতদের অধিকাংশেরই বয়স ২৫ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে।

মৃতদের মধ্যে ৩৫ জন বৈধভাবে কর্মরত থাকলেও বাকি ১০ জন অবৈধভাবে বসবাস করছিলেন। নিয়মমাফিক ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়ন এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর সহযোগিতায় তাদের মরদেহ দেশে পাঠানো হয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ার পর্যটননির্ভর এই দেশে লাখেরও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি নানা পেশায় নিয়োজিত থাকলেও তাদের কর্মপরিবেশ, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। মালদ্বীপের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও নির্মাণ খাতে কর্মরত প্রবাসীদের অনেককেই দীর্ঘ সময় কাজ করতে হয়। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে সকাল ৮টায় শুরু হওয়া কর্মদিবস রাত ১১টা পর্যন্ত গড়ায়।

দীর্ঘ সময় শ্রম দেওয়ার পরও তুলনামূলক কম বেতন পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এর ওপর জীবনযাত্রার ব্যয়, ব্যক্তিগত খরচ এবং দেশে পরিবারের কাছে অর্থ পাঠানোর চাপ প্রবাসীদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে বলে অভিযোগ রয়েছে।

মালদ্বীপে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশি চিকিৎসক ইশরাত জাহান আলো বলেন, “অনিরাপদ কর্মপরিবেশ, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, ঋণের বোঝা, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব এবং দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ প্রবাসীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি মারাত্মকভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে।”

আরেক বাংলাদেশি চিকিৎসক সাদিয়া হক বলেন, “বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগের মতো সমস্যাগুলো প্রাথমিক পর্যায়ে উপসর্গহীন থাকায় নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অভাবে তা অনেক সময় প্রাণঘাতী রূপ নিচ্ছে।”

প্রবাসীদের সুস্থতা ও নিরাপত্তার জন্য কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষাবিধি মেনে চলা, পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার ওপর জোর দিয়েছেন এই দুই চিকিৎসক।

পাশাপাশি, ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় নিয়োজিত কর্মীদের নিরাপত্তাসামগ্রী ব্যবহার, অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং আর্থিক সংকটের কারণে চিকিৎসাসেবা বঞ্চিত অবৈধ প্রবাসীদের হাই কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগের আহ্বান জানিয়েছেন দূতালয় প্রধান মো. মোতাসেম বিল্লাহ।