Published : 25 Jun 2026, 11:56 PM
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবৈধ অভিবাসনকে উৎসাহিত করা এবং গ্রিসের আইন ও নিরাপত্তা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে এক বাংলাদেশি যুবকের রেসিডেন্স পারমিট বাতিল করে তাকে বহিষ্কারের নির্দেশ দিয়েছে গ্রিক সরকার।
অভিযুক্ত যুবকের নাম মো. হাসান, বাড়ি বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলায়। তিনি গত ৩-৪ বছর ধরে গ্রিসে বসবাস করছিলেন।
সম্প্রতি গ্রিসের ঐতিহাসিক শহর নাফপ্লিও থেকে হাসানের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। সেখানে তাকে বলতে শোনা যায়, “আমরা নাফপ্লিওতে কাজের জন্য আছি। যাদের কাগজপত্র নেই, তাদের চিন্তার কারণ নেই। এখানে ৫০ বছর থাকলেও পুলিশ আসবে না।”
তার এই বক্তব্য গ্রিসের জাতীয় টেলিভিশন ও শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্রগুলোতে প্রচার হলে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
গ্রিসের অভিবাসন ও আশ্রয় বিষয়ক মন্ত্রী থানোস প্লেভরিস এ ঘটনাকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সরকারি এক বার্তায় তিনি জানান, অভিযুক্তকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে ‘নতুন অভিবাসন কোড’ অনুযায়ী আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, “এই ধরনের ভিডিও মানবপাচারকারী চক্রের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যারা বৈধভাবে থাকার সুযোগ পেয়েও দেশের আইনকে উপহাস করে, তাদের গ্রিসে থাকার অধিকার নেই।”
গ্রিক সংবাদপত্র ‘দিমোক্রাতিয়া’-র এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং একটি সুপরিকল্পিত ডিজিটাল প্রচারণার অংশ।”
প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত ১৬ মাসে প্রায় ৬ হাজার বাংলাদেশি গ্রিসে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন, যার বিপরীতে মাত্র ১১০ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে দালাল ও পাচারকারী চক্র টিকটক, ইনস্টাগ্রাম ও টেলিগ্রাম ব্যবহার করে অবৈধ রুট ও মিথ্যে আশার ‘বিজ্ঞাপন’ দিচ্ছে। এমনকি এই লেনদেনে অবৈধ ‘হাভালা’ পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
ঘটনাটি গ্রিসে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যেও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। প্রবাসীরা বলছেন, মুষ্টিমেয় কিছু টিকটকারের সস্তা জনপ্রিয়তার নেশায় ১০ হাজারেরও বেশি বৈধতা পাওয়া বাংলাদেশিসহ পুরো কমিউনিটির সম্মান ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসন এখন প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষিখামারগুলোতে কড়াকড়ি শুরু করলে সাধারণ শ্রমজীবী প্রবাসীরা বিপাকে পড়তে পারেন।
গ্রিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, হাসানের এই বহিষ্কারাদেশ আসলে অবৈধ অভিবাসন ও উসকানিমূলক প্রচারণার বিরুদ্ধে সরকারের একটি সতর্কবার্তা।