১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

আশ্রয়প্রার্থীদের প্রায় ২ লাখ পর্যটন ও ব্যবসায়িক ভিসা বাতিল করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

এই পদক্ষেপের তথ্য শীর্ষস্থানীয় মার্কিন গণমাধ্যমে আসার পর প্রবাসী বাংলাদেশিদের বড় একটি অংশে দুশ্চিন্তার ছায়া পড়েছে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 25 Aug 2026, 06:14 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:54 PM

পর্যটন ও ব্যবসায়িক ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে আশ্রয়ের আবেদন করা বা গ্রিনকার্ড পেয়ে যাওয়া বিদেশিদের ভিসা পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন এমন বিদেশি নাগরিকদের ‘বি১’ ও ‘বি২’ ব্যবসা এবং পর্যটন ভিসা পর্যালোচনার ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। 

এই প্রক্রিয়ায় কার্যকর হলে দেশটিতে আশ্রয়প্রার্থীদের প্রায় দুই লাখ ভিসা বাতিলের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তেমনটি হলে সেটি হবে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একবারে সবচেয়ে বড় গণভিসা বাতিলের ঘটনা। 

এই পদক্ষেপের তথ্য শীর্ষস্থানীয় মার্কিন গণমাধ্যমে আসার পর প্রবাসী বাংলাদেশিদের বড় একটি অংশেও দুশ্চিন্তার ছায়া পড়েছে। কারণ, বিভিন্ন সময় বি১ এবং বি২ ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর বাংলাদেশিদের বড় একটি অংশ ফিরে না গিয়ে আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে সেখানে গ্রিনকার্ড পেয়েছেন এবং নাগরিকত্বও গ্রহণ করেছেন। 

আবার বেশ কয়েক হাজার আশ্রয়ের আবেদন ঝুলে থাকায় থাকলেও ওয়ার্ক পারমিট পেয়ে দিনাতিপাত করছেন বাংলাদেশিদের অনেকে।

স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ অগাস্ট মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট এক বিবৃতিতে বলেছেন, ২০১৬ সাল থেকে যারা ট্যুরিস্ট/বিজনেস ভিসায় যুক্তরাষ্ট্র এসে গ্রিনকার্ড পেয়েছেন অথবা আশ্রয়ের আবেদন করেছেন, সেগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শিগগিরই এ ধরনের ‘অনৈতিক ও প্রতারণার’ আশ্রয় নেওয়া বিদেশিদের ভিসা, গ্রিনকার্ড বা ওয়ার্ক পারমিট বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হবে। এ ধরনের পরিস্থিতির শিকার হতে পারেন দুই লক্ষাধিক বিদেশি।

টমি পিগট বিবৃতিতে বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নেতৃত্বে আমরা এটা পরিস্কারভাবে জানিয়ে দিতে চাই, ভিসা পাওয়াটা একটি সুযোগ, অধিকার নয়। নন-ইমিগ্র্যান্ট (ট্যুরিস্ট/বিজনেস) ভিসায় স্বল্প সময়ের জন্যে যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর যারা আশ্রয়ের আবেদন করেছেন স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্যে, তাদের চিহ্নিত করতে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে পররাষ্ট্র দপ্তর কাজ শুরু করেছে। কারণ এ ধরনের ভিসা ইস্যু করা হয় তাদের জন্যে, যারা নির্দিষ্ট সময়ের পর নিজ দেশে ফিরতে আগ্রহী।”  

বার্তা সংস্থা এপির খবরে বলা হয়, এর আওতায় ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ইস্যু করা বি১ ও বি২ ভিসাগুলো পর্যালোচনায় আসতে পারে। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ভিসা বাতিলের কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাউকে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে না। এর বদলে আশ্রয়ের আবেদন থাকা অধিকাংশ ব্যক্তিকে একটি ভিন্ন ‘ইমিগ্রেশন ক্যাটাগরিতে’ স্থানান্তরিত করা হবে। এর ফলে তাদের ভিসার বিজনেস বা ট্যুরিস্ট মর্যাদাটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে উঠে যাবে।

এর আগে গত সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক্সে এক পোস্টে মার্কিন উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ পর্যটন বা ব্যবসার কথা বলে যুক্তরাষ্ট্রে এসে থেকে যাওয়া বা আশ্রয়ের আবেদন করা ব্যক্তিদের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি লেখেন, “যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ ভুয়া বা মিথ্যা আশ্রয় আবেদনের বিষয়ে বিরক্ত। ইমিগ্রেশন আইনকে ফাঁকি দেওয়ার কোনো উপায় হিসেবে আশ্রয় পাওয়ার সুযোগটি তৈরি হয়নি।”