১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

কোভিড তহবিলের অর্থ আত্মসাৎ: নিউ ইয়র্কে ৯ বাংলাদেশির ‘দোষ স্বীকার’

ভুয়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কর্মচারী তালিকা ও ভাড়া বকেয়ার জাল কাগজপত্র দেখিয়ে ২২ লাখ ডলার আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।

কোভিড তহবিলের অর্থ আত্মসাৎ: নিউ ইয়র্কে ৯ বাংলাদেশির ‘দোষ স্বীকার’
নিউ ইয়র্কের কুইন্স সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ।

নিউইয়র্ক প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 16 Feb 2026, 07:53 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:58 PM

কোভিড মহামারীর সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সহায়তায় দেওয়া অর্থ আত্মসাতের মামলায় নিউ ইয়র্কে ৯ বাংলাদেশি ‘দোষ স্বীকার’ করেছেন।

নিউ ইয়র্কের কুইন্স সুপ্রিম কোর্টে মামলার পর তারা আত্মসমর্পণ করে জামিন নিয়ে সমুদয় অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছেন।

নিউ ইয়র্ক স্টেট মহাপরিদর্শক (অপরাধ-তদন্ত) লুসি ল্যাং ও কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মেলিন্ডা ক্যাটজ বলছেন, আসামিরা এখন জেল-জরিমানার অপেক্ষায়।

কোভিড ত্রাণ-তহবিলের অর্থ ভুয়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জাল কাগজের পাশাপাশি ভুয়া কর্মচারী তালিকা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ভাড়া বকেয়ার জাল কাগজপত্র দেখিয়ে ২২ লাখ ডলার আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় ‘দোষ স্বীকার’ করেছেন কুইন্সের মাহবুব মালিক (৪১), জ্যামাইকার তোফায়েল আহমেদ (৫০), এলমহার্স্টের মোহাম্মদ ইউসূফ (৪৫), জ্যাকসন হাইটসের মোহাম্মদ আশরাফ চৌধুরী খোকন (৬৮), কুইন্সের জ্যামাইকার জাকির এইচ চৌধুরী (৫৯), জ্যামাইকা হিলসে্র মোহাম্মদ খান (৪৯), লং আইল্যান্ডের নাসাউ কাউন্টির নিউ হাইড পার্কের নাদিম শেখ (৫৬), ফ্র্যামিংডেলের তানভির মিলন (৫৫) ও সাফোক কাউন্টির জুনেদ খান (৫৬)।

মাহবুব মালিককে শাস্তি হিসেবে তিন বছর কর্তৃপক্ষের নজরদারিতে থাকতে হবে। এই সময়ে নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে গেলে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে। ‘দোষ স্বীকার’ করায় অন্যরাও লঘু শাস্তি পেতে যাচ্ছেন।

কোভিড মহামারীর সময় নিউ ইয়র্কের সবকিছু বন্ধ হয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়ে। নাজুক পরিস্থিতিতে পড়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ঘুরে দাঁড়াতে ফেডারেল সরকার অর্থ বরাদ্দ দেয়। ‘নিউ ইয়র্ক স্টেট অ্যাম্পায়ার ডেভেলপমেন্ট প্যান্ডামিক স্মল বিজনেস রিকভারি গ্র্যান্ট প্রোগ্রাম’ এর আওতায় বরাদ্দের সেই অর্থ তখন নিউ ইয়র্ক সিটির শতশত প্রবাসীও নেন।

পরে ট্যাক্স রিটার্নে অনুদানের সেই অর্থ ব্যয়ের তথ্য কেউই দেননি। যেসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে অর্থ নেন, সেগুলোরও কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি ট্যাক্স রিটার্নে।

নিউ ইয়র্ক স্টেট মহাপরিদর্শকের অফিস বলছে, কয়েক লাখ ব্যবসায়ী নিয়েছেন বিপুল অর্থ। এর মধ্যে হাজারখানেক বাংলাদেশিও রয়েছেন, যাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। এই তদন্ত হচ্ছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে।

এর বাইরে মহামারীর সময়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া ‘পে-চেক প্রটেকশন প্রোগ্রাম’ (পিপিপি) এর আওতায় ৫০ লাখ থেকে দেড় কোটি ডলার পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে। নিয়মমাফিক যারা অর্থ ব্যয় করেছেন, তাদের সেই অর্থ ফেরত দিতে হচ্ছে না। তবে যারা ভুয়া প্রতিষ্ঠান, কর্মচারী ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বকেয়ার জাল কাগজপত্র দেখিয়ে অর্থ নিয়েছেন, তারাই তদন্তে ফেঁষে যাচ্ছেন।

প্রতারকদের মধ্যে ইতিমধ্যে মিশিগান, শিকাগো, লস এঞ্জেলেস, মেরিল্যান্ড, নিউজার্সি, পেনসিলভানিয়া, ম্যাসাচুসেটস ও টেক্সাসে দুই শতাধিক ব্যক্তিকে বিভিন্ন মেয়াদে জেল-জরিমানা করা হয়েছে। অন্তত দুই ডজন প্রবাসী রয়েছেন দণ্ডপাওয়াদের মধ্যে।