Published : 11 Sep 2026, 07:20 PM
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে দুই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে কর্মস্থলের নিরাপত্তা সম্পর্কিত প্রশিক্ষণ না দিয়েই মোটা অংকের অর্থ নিয়ে শত শত জাল সনদ বিক্রির প্রমান পেয়েছে স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা।
নিউ ইয়র্ক সিটির কুইন্স থেকে গত মঙ্গলবার তাদের গ্রেপ্তার করে ব্রুকলিন সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি ড্যানি চুনের এজলাসে তোলা হয়। পরে আদালত তাদের জামিন দেয়।
ওই দুই বাংলাদেশি হলেন জ্যামাইকার বাসিন্দা লুৎফর রহমান ও হাওয়ার্ড বিচের বাসিন্দা মোহাম্মদ তুষার।
তাদের আবার আগামী ৪ নভেম্বর আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে তথ্য দিয়েছেন ব্রুকলিন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি এরিক গঞ্জালেজ ও নিউ ইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব ইনভেস্টিগেশন কমিশনার নাদিয়া আই সিহাটা।
এরিক গঞ্জালেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজের পূর্বশর্ত স্টেট প্রশাসন নির্ধারিত প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর সনদ নেওয়া। এ দায়িত্ব সম্পাদনের জন্যে বাংলাদেশি লুৎফুর রহমান এবং মোহাম্মদ তুষার কুইন্সের ১৪৬-০৪ হিলসাইড এভিনিউ এবং ব্রুকলিন ৫২৯ ম্যাকডোনাল্ড এভিনিউতে ‘রেডকোড ইনক’ নামে দুটি অফিস খোলেন।
“এ অফিস থেকে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে পেশা শুরুর জন্যে ‘দ্য অক্যুপেশনাল সেইফটি এন্ড হেলথ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা ওএসএইচএ’ প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা। কিন্তু তারা প্রশিক্ষণ ছাড়াই শত শত মানুষকে সনদ দিয়েছেন বলে তদন্তে উদঘাটিত হয়। এভাবে জাল সনদের বিনিময়ে মাথাপিছু ৫০০ ডলার করে নেওয়ার প্রমাণ পেয়েছেন তদন্তকারীরা।”
নির্মাণকাজ চলার স্থানে শ্রমিকসহ সবার নিরাপত্তার প্রশ্নে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই বর্ণনা করে এরিক গঞ্জালেন বলেন, “দুই ব্যক্তি প্রশিক্ষণের ন্যূনতম প্রক্রিয়া অবলম্বন না করেই সনদ ইস্যু করেছেন। এমন অপকর্মে লিপ্ত থাকায় লুৎফুর রহমান ও তার সহযোগী মোহাম্মদ তুষারকে অবশ্যই কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।”
ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির তথ্যানুযায়ী, গত বছরের ২২ এপ্রিল থেকে এ বছরের ১৬ জুলাই পর্যন্ত লুৎফর ও তুষারের বিরুদ্ধে তদন্ত চালানো হয়। তদন্তকারীরা নির্মান শ্রমিকের ছদ্মবেশে ‘রেডকোড ইনক’ এর অফিসে যান। সে সময় লুৎফর ও তুষার ৫০০ ডলার পেলেই একেকজনকে ডিপার্টমেন্ট অব বিল্ডিংয়ের প্রশিক্ষণ সনদ এবং সাইট সেইফটি ট্রেনিং (এসএসটি) সনদ দিতে সম্মত হন।
এ জন্যে কারও কোনো ক্লাস বা প্রশিক্ষণের প্রয়োজন নেই বলেও বর্ণনা করা হয়। কারণ হিসেবে লুৎফর ও তুষার বলেন, তারা ব্যাক ডেটে প্রশিক্ষণ দেওয়ার যাবতীয় কাগজ তৈরি রেখেছেন। এরপর তারা জাল সনদ এবং ওএএসএইচএ কার্ড দেন।
এর আগে নিউ ইয়র্কে গত কয়েক বছরে কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় বেশ কজন বাংলাদেশিসহ অর্ধ শতাধিক নির্মাণ শ্রমিক নিহত এবং আহত হয়েছেন। তারা প্রত্যেকেই ওএসএইএ কার্ডধারী এবং এসএসটি সনদধারী হলেও ক্ষতিপূরণের মামলার সময় তার সত্যতা মেলেনি।
অর্থাৎ প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ছাড়াই হয়ত তারা সনদ পেয়েছিলেন বলে পুলিশের তদন্তে উঠে আসে।