৩ বছর পর ক্লাসে ফিরলো নিউ ইয়র্কের স্কুল-শিক্ষার্থীরা

মহামারীতে স্বাস্থ্যবিধির প্রায় পুরোটাই উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে শিক্ষার্থীদের জন্য। তবে শিক্ষক-কর্মচারী এবং অভিভাবকদের জন্য নিরাপদ দূরত্বে মাস্ক পরিধানের দুর্বল বিধিও জারি রয়েছে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 9 Sept 2022, 05:56 AM
Updated : 9 Sept 2022, 05:56 AM

করোনাভাইরাস মহামারীতে ভার্চুয়াল ক্লাস চলার তিন বছর পর এবার শ্রেণিকক্ষে ফিরলো যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের স্কুল-শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার অঙ্গরাজ্যের ১ হাজার ৮৫১ স্কুলের সাড়ে ১০ লাখ শিক্ষার্থী নতুন ক্লাস শুরু করে। আনন্দ উচ্ছ্বাস দেখা গেছে প্রবাসী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মাঝেও।

মহামারীতে স্বাস্থ্যবিধির প্রায় পুরোটাই উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে শিক্ষার্থীদের জন্য। তবে শিক্ষক-কর্মচারী এবং অভিভাবকদের জন্য নিরাপদ দূরত্বে মাস্ক পরিধানের দুর্বল বিধিও জারি রয়েছে।

ওইদিন সকালটি ছিল যেন একেবারেই আলাদা, উৎফুল্ল শিশু-কিশোররা ক্লাসে প্রবেশ করে। অভিভাবকের বড় একটি অংশ মাস্ক পরে থাকলেও শিক্ষার্থীরা ছিল স্বাভাবিক, তিন বছর আগের মতো।

অনেক স্কুলের মূল প্রবেশপথে ‘ওয়েলকাম ব্যাক’ লেখা দেখেন অভিভাবক আর শিক্ষার্থীরা। রং-বেরংয়ের বেলুনে সাজানো হয় গোটা এলাকা।

বাংলাদেশি অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটসের পিএস ৬৯, এলমহার্স্টের পিএস ৮৯-সহ জ্যামাইকা, ওজোনপার্ক, এস্টোরিয়া, ব্রুকলিন, ব্রঙ্কসের সব স্কুল প্রাঙ্গনে নতুন পোশাকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে হাজার হাজার অভিভাবকের উপস্থিতি দেখা যায়।

সিটি স্বাস্থ্য দপ্তর এবং মেয়র অফিস থেকে জানানো হয়েছে যে, আগের মতো পিসিআর টেস্টেরও প্রয়োজন নেই শিক্ষার্থী কিংবা অভিভাবকের, তবে শিক্ষকদের মধ্যে যারা করোনাভাইরাস পজিটিভ হয়েছিলেন তাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

‘ইউনাইটেড ফেডারেশন অব টিচার্স’ এর প্রেসিডেন্ট মাইকেল মালগ্রিউ এ প্রসঙ্গে বলেন, “এবছরটি হচ্ছে সবার জন্য শিক্ষণীয়। গত ৩ শিক্ষাবর্ষে ক্লাস করানো সম্ভব হয়নি শ্রেণিকক্ষে। তেমন একটি পরিস্থিতি থেকে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরানোর অভিযাত্রায় সবাইকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।”

সন্তান আলিশা খানকে স্কুলে পৌঁছে দেওয়ার অভিজ্ঞতা জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের যুগ্ম সম্পাদক আলিম খান আকাশ এবং নির্বাহী সদস্য নুরুন্নাহার খান নিশা বলেন, “সবাইকে উৎফুল্ল দেখে খুব ভালো লাগছে। এভাবে মহামারী ভীতি দূরে সরিয়ে সবাইকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে হবে।”

এদিকে স্কুলের শতাধিক শিক্ষকের ওপর পরিচালিত এক জরিপে জানা গেছে, ভার্চুয়ালি ক্লাস নেওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী ‘সঠিক জ্ঞানার্জনে সক্ষম হয়নি’, অনেকে পিছিয়ে পড়েছে। পহেলা সেপ্টেম্বর জাতীয়ভিত্তিক একটি টেস্টের ফলাফলে দেখা গেছে, করোনাভাইরাসে আগের চেয়ে অনেক পিছিয়ে পড়েছে শিক্ষার্থীরা।

ব্রুকলিনের পিএস ২৪৩ এবং পিএস ২৬২ এর সমাজকর্মী এ্যারোন ওরলি বলেন, “ব্যাপারটি আমাকে বিস্মিত করেছে। পঞ্চম গ্রেডের শিক্ষার্থীরা তাদের রিডিং নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় রয়েছে। রাইটিং এবং বাক্য গঠনেও স্বাচ্ছন্দবোধ করেনি ওই টেস্টে। এটা খুবই হতাশার ব্যাপার।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক