প্রধানমন্ত্রীর সফর ‘ভালো’ হয়েছে বলে বিএনপির ‘মন খারাপ’: তথ্যমন্ত্রী

“উনাদের কাজ তো বিভ্রান্তি ছড়ানো। সেটি নিয়েই তারা ব্যস্ত আছেন।”

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 11 Sept 2022, 05:40 PM
Updated : 11 Sept 2022, 05:40 PM

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে বিএনপির ঈর্ষাতুর বলে দাবি করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, “প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর অত্যন্ত সফল ও সন্তোষজনক হয়েছে এবং দুই দেশের সরকার তা ব্যক্ত করেছেন। বিএনপির এতে মন খারাপ হয়েছে। সেকারণে উনারা এখন আবোল তাবোল বকছেন।

“কেন এত ভালো সফর হল, সেজন্য বিএনপির মির্জা ফখরুল সাহেবদের মন খুবই খারাপ। উনাদের কাজ তো বিভ্রান্তি ছড়ানো। সেটি নিয়েই তারা ব্যস্ত আছেন। অথচ ভারতে গিয়ে বেগম খালেদা জিয়া গঙ্গার পানির কথা বলতে ভুলেই গিয়েছিলেন। যে দলের নেত্রী ভারতে গিয়ে বাংলাদেশের পানি হিস্যার কথা ভুলে যায়, তারা আবার এগুলো নিয়ে কথা বলে কোন মুখে।”

তিস্তা চুক্তির বিষয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের কোনো আপত্তি দেখছেন না জানিয়ে হাছান মাহমুদ আশা প্রকাশ করেন, অচিরেই এই জটিলতার অবসান হবে।

“তিস্তা চুক্তির ব্যাপারে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের কোনো ধরনের আপত্তি নেই। কিন্তু ভারতের বিধি-বিধান অনুযায়ী সেখানে রাজ্য সরকারের একটি অনুমোদন লাগে। রাজ্যের পক্ষ থেকে যেহেতু আপত্তি আছে, সে কারণে এটি এতদিন ধরে এগোয়নি, তবে এটি নিয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে। আশা করছি নিশ্চয়ই খুব শিগগিরই এটির সমাধান হবে।”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে ট্রানজিটের সুরাহা হওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন তথ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর অত্যন্ত সফল এবং ফলপ্রসূ হয়েছে। এই সফরে অনেকগুলো চুক্তি এবং সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। সবচেয়ে বড় অর্জন হচ্ছে ভারতের স্থলভাগ ব্যবহার করে বিনা শুল্কে তৃতীয় দেশে পণ্য রপ্তানির সুযোগ। এটির জন্য আমরা বহু বছর ধরে চেষ্টা করে এসেছি।

“এখন বাংলাদেশ চট্টগ্রাম এবং মংলা বন্দর দিয়ে ভারতের স্থলভাগের উপর দিয়ে নেপাল এবং ভুটানের সাথে পণ্য আমদানি এবং রপ্তানি করতে পারবে। এটি একটি বড় অর্জন।”

শেখ হাসিনা সরকার ভারতের কাছ থেকে সবকিছু আদায় করেছেন দাবি করে হাছান মাহমুদ বলেন, “আন্তর্জাতিক সালিশ আদালতে মামলা করে আমরা ভারতের কাছ থেকে সমুদ্রসীমা আদায় করেছি। চুক্তি হওয়ার ৪০ বছর পরও আমাদের ছিটমহলের যে দাবি আদায় হচ্ছিল না, সেটি প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই আমরা করতে সক্ষম হয়েছি। ২০টি পণ্য ছাড়া বাংলাদেশের সমস্ত পণ্য রপ্তানিতে ভারত শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়েছে, যেগুলো অন্য কেউ আদায় করতে পারেনি। আর কুশিয়ারা নদীর পানি নিয়েও আমাদের পক্ষে যে চুক্তি হয়েছে সেটি একটি বড় অর্জন।”

এর আগে জাতীয় প্রেসক্লাবের উদ্যান উপকমিটি আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

প্রেস ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ ও উদ্যান উপকমিটির সভাপতি শাহেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালাম আজাদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, বিএফইউজের সাবেক মহাসচিব আব্দুল জলিল ভূঁইয়া, সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম রতন, রহমান মুস্তাফিজ উপস্থিত ছিলেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক