১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

পুলিশের বিরুদ্ধে সমাবেশে ‘হামলার’ অভিযোগ তুলে জাপা বলছে, ‘অশনি সংকেত’

“একটি রাজনৈতিক দল তার অফিসের সামনে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে যাবে এবং পুলিশ সেখানে বাধা দেবে, এটা নব্য ফ্যাসিবাদের একটি আবির্ভাব,” বলেন তিনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 11 Oct 2025, 09:48 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:27 PM

ঢাকার কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে কর্মী সমাবেশ পণ্ড হয়ে যাওয়ার পর পুলিশের বিরুদ্ধে ‘হামলার’ অভিযোগ তুলেছে দলটি।

শনিবার বেলা সাড়ে ৩টার পর দলটির সমাবেশ ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পর পুলিশ লাঠিপেটার পাশাপাশি কাঁদুনে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

এর পরে সংবাদ সম্মেলনে এসে জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী পুলিশের বিরুদ্ধে ‘অতিরিক্ত বল’ প্রয়োগের অভিযোগ তোলেন। 

এ ঘটনা রাজনীতির জন্য অশনি সংকেত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

যদিও ঘটনার পর পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার মো. মাসুদ আলম বলেছেন, “তারা (জাতীয় পার্টি) পুরো সড়ক বন্ধ করে সমাবেশ করছিল। প্রথমে তাদের সড়ক ছেড়ে একপাশে সমাবেশ করতে বলা হয়েছিল, কিন্তু তারা না শুনে সমাবেশ চালিয়ে যেতে থাকে।”

সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদুনে গ্যাস ছোড়ার বিষয়টিও স্বীকার করেন তিনি।

তবে জাতীয় পার্টির মহাসচিব বলেন, “আমরা এ বিষয়ে পুলিশকে অবহিত করেছিলাম। এটি সত্য, পুলিশের কাছ থেকে আমরা কোনো ‘ফরমাল’ অনুমতি পাইনি। 

“কিন্তু বাংলাদেশের প্রত্যেকটি পার্টি, তার অফিসের সামনে মিটিং হয় এবং আমাদের সমাবেশটি ছিল সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।” 

জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, “সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ একটি কর্মসূচিতে পুলিশ অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করেছে। অসংখ্য মানুষ ছিল, পদদলিত হতে পারতেন, এক্ষেত্রে আমি মনে করি পুলিশ সম্পূর্ণ দায়িত্বজ্ঞানহীন একটি আচরণ করেছে।

“একটি রাজনৈতিক দল তার অফিসের সামনে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে যাবে এবং পুলিশ সেখানে বাধা দেবে, এটা নব্য ফ্যাসিবাদের একটি আবির্ভাব।” 

পুলিশের ‘হামলায়’ তাদের ২০ জন আহত ও ৮ জন আটকের কথা জানিয়ে শামীম পাটোয়ারী বলেন, “আহত অনেকের সেলাই পড়েছে, অনেকের রক্ত ঝরেছে। পুলিশ যখন দেখলো এখানে অনেক লোকেরা সমাগম হয়েছে, সেখানে সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়া অত্যন্ত অপেশাদার আচরণ, অনেকে পদদলিত হয়ে মারা যেতে পারতো।” 

পুলিশের বিরুদ্ধে সমাবেশের চেয়ার ভাঙচুরের অভিযোগ তুলে জাতীয় পার্টির সাবেক এই এমপি বলেন, “কীসের আক্রোশে পুলিশ এটি করলো, আমরা জানি না। পুরো ব্যাপারটার মধ্যে গভীর ষড়যন্ত্র দেখতে পাচ্ছি।” 

তিনি বলেন, “একটি মহল জাতীয় পার্টিকে দাবিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। সেই মহলের উসকানিতে, সেই মহলের নির্দেশে, আজকে এই কাজটি করা হয়েছে। আমরা মনে করি, এটা গণতন্ত্রের জন্য খারাপ এবং দুঃখের দিন। একটি গণতান্ত্রিক শান্তিপূর্ণ সমাবেশে সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিকভাবে শক্তি প্রয়োগ করা হয়েছে। 

“রাজনীতি মানেই বহুমত, বহু দল থাকবে, সকলে রাজনীতিতে বিচরণ করবে। আপনি যখন একটি দলকে জোর করে দাবিয়ে রাখার চেষ্টা করবেন, এটা অগণতান্ত্রিক, অসাংবিধানিক এবং আইনের শাসনের পরিপন্থি।”

আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। 

কিন্তু এ ধরনের পরিবেশে দেশে ভোট হবে, এমনটি মনে করেন না জাতীয় পার্টির মহাসচিব।

শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে অশান্ত করে তোলা হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, “দেশ কি সংকটের মধ্যে যাচ্ছে? এখন দেশের শান্তির সময়ে অশান্তি তৈরি করা হচ্ছে এবং এই অশান্তি তৈরি করার মাধ্যমে সমগ্র নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা তীব্রভাবে হোঁচট খাচ্ছে। এই ষড়যন্ত্রে অনেকেই ফাঁদে পা দিচ্ছে।

“এই মুহূর্তে নির্বাচনের কোনো ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ অবশ্যই নাই, কারণ যারা অফিসের সামনে মিটিং করে তাদেরকে পুলিশ বাধা দেয়। সুতরাং এই সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন করা অসম্ভব কঠিন।” 

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আলমগীর শিকদার লোটন, রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, ইকবাল হোসেন তাপস, ভাইস চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দিন হেলাল, কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান মিরু।