Published : 20 Aug 2026, 08:07 PM
নব নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়ে এক গুচ্ছ প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেছেন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অলি আহমদ।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ভোটের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর এক বিবৃতিতে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট অলি আহমদ।
আগে থেকে অনুমিত এই ভোটের ফলে ২৫৫ জন সংসদ সদস্যের সমর্থন পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল। অলি আহমদের বাক্সে পড়েছে ১১ দলীয় জোটের ৮৮ ভোট।
নির্বাচনে ভোটার ছিলেন ৩৪৯ জন। বিএনপি, জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট এবং স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট ৬ সংসদ সদস্য ভোট দেননি।
রাষ্ট্রপতি ফখরুলের কাছে নিজের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে অভিনন্দন বার্তায় অলি আহমদ বলেন, “জাতির এই সন্ধিক্ষণে রাষ্ট্রপতি হিসেবে আপনার প্রতিটি সিদ্ধান্ত দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি, গণতান্ত্রিক চর্চা ও জনগণের আস্থার ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে। ব্যক্তি, দল ও গোষ্ঠীগত বিবেচনার ঊর্ধ্বে থেকে দেশ ও নাগরিকদের বৃহত্তর স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবেন- এ প্রত্যাশা করি।”
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে হওয়া গণভোটের রায় বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নতুন রাষ্ট্রপতির ভূমিকাকে বিশেষভাবে জোর দেওয়ার কথা তুলে ধরেন তিনি। অলি আহমদ বলেন, “বিশেষত, গণভোটে জনগণ রাষ্ট্রীয় সংস্কারের পক্ষে যে রায় দিয়েছে, তার প্রতি সম্মান, জবাবদিহি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় সংলাপের প্রশ্নে আপনার নিরপেক্ষ ও সক্রিয় অবস্থান দেশবাসী প্রত্যাশা করে।”
অতীতে মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক সংগ্রামের কথা স্মরণ করে অলি আহমদ বলেন, “রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন হলেও জনগণের অধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, জবাবদিহিতা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার সংগ্রাম শেষ হয় না। রাষ্ট্রীয় পদ বা নির্বাচনী ফলাফলের ঊর্ধ্বে দেশ ও জনগণের প্রতি আমার দীর্ঘদিনের অঙ্গীকার অবিচল থাকবে।
“আপনার দায়িত্ব পালন হোক সততা, নিরপেক্ষতা, ন্যায়বোধ এবং জাতীয় স্বার্থের প্রতি অবিচল অঙ্গীকারে। আপনি সমগ্র জাতির ঐক্য, মর্যাদা ও আস্থার প্রতীক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন, এই প্রত্যাশা রাখি।”
এক সময় মির্জা ফখরুলের সঙ্গে একই দল বিএনপি থাকা অলি আহমদ বলেন, “দীর্ঘ রাজনৈতিক সহযাত্রায় আমরা উভয়ে প্রায় সময় একসাথে দায়িত্ব পালন করেছি। সুতরাং গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, নাগরিক অধিকার ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে আমাদের বিশ্বাস ও অঙ্গীকার অভিন্ন।”
পরাজয় জেনেও ভোটে কেন, যে যুক্তি অলির
সাড়ে তিন দশক পর ফের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেখল বাংলাদেশ। যদিও দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে ভোট দেওয়ার সুযোগ না থাকায় নির্বাচনের ফল ছিল আগে থেকে অনুমিত।
এর আগে সাতটি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একজন করে প্রার্থী থাকায়, তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। এবার প্রতিদ্বন্দ্বী দুজন হওয়ায় নিয়ম রক্ষার ভোটের আয়োজন করা হয় বৃহস্পতিবার।
১৯৯১ সালের পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন থাকার কথা তুলে ধরে এলডিপি প্রধান বলেন, “এই গুরুত্বপূর্ণ পদে বিকল্প নেতৃত্ব, অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি জাতীয় সংসদ ও জনগণের সামনে বিবেচিত হওয়ার সুযোগ ছিল না।
“পয়ত্রিশ বছর পর এবারের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অন্তত সেই সীমাবদ্ধতা থেকে বের হয়েছে। ১১ দলীয় ঐক্য আমাকে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করে এই গণতান্ত্রিক পরিসর সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তার জন্য জোটের নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।
“এবারের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভবিষ্যতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেবল ক্ষমতাসীন দলের সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনে সীমাবদ্ধ না রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। কারণ এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ফল ও দায় কোনো ব্যক্তি বা দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; তা দেশ ও জনগণের জীবনে প্রতিফলিত হয়। সময়ের সাথে সাথে ইতিহাসও সংশ্লিষ্ট সকলের ভূমিকা মূল্যায়ন করে।”