Published : 07 Aug 2026, 01:58 AM
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নয়া দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ বাংলাদেশের জাতীয় মর্যাদার প্রতি ভারত ‘চরম অসম্মান’ ও ‘ঔদ্ধত্য’ দেখিয়েছে বলে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
চব্বিশের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সামনের সারির ছাত্রনেতাদের দলটি বৃহস্পতিবার রাতে সংবাদ সম্মেলন করে দুই বছর ধরে ভারতে অবস্থান করা শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়া নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে।
রাজধানীর বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলের যুগ্ম সদস্য সচিব ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক সেলের ইনচার্জ আলাউদ্দীন মোহাম্মদ দলের অবস্থান তুলে ধরে বক্তব্য দেন বলে রাতে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সংবাদ সম্মেলনে থাকলেও দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেনসহ অন্যান্য শীর্ষনেতা ছিলেন না।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীর দিনে শেখ হাসিনাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় নয়া দিল্লি তার বাংলাদেশ নীতি আবারো স্পষ্ট করেছে যে, তারা বাংলাদেশের বা বাংলাদেশের জনগণের সাথে নয়, তারা তাদের তাবেদার আওয়ামী লীগের সাথে সম্পর্ক দিয়েই বাংলাদেশকে দেখতে চায়।”
চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে বুধবার নয়া দিল্লিতে সাউথ এশিয়া ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি সাউথ এশিয়া) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অডিও কলে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। তিনি সেখানে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নেরও উত্তর দেন।
তাকে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলার সুযোগ দেওয়ায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার এনসিপির সংবাদ সম্মেলনে আলাউদ্দীন মোহাম্মদ বলেন, “শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, বাংলাদেশের রায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত এবং মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত একজন আসামি। দেশের ইতিহাসের এক গৌরবময় ও শোকস্মারক দিনে মিথ্যা, বিভ্রান্তি ও বিদ্বেষ ছড়ানোর সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে নয়া দিল্লি বাংলাদেশের জনগণের ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষা, গণতান্ত্রিক চেতনা এবং জাতীয় মর্যাদার প্রতি চরম অসম্মান ও ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করেছে।”
তিনি উভয় দেশের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও সুস্থ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার স্বার্থে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের কাছে দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এনসিপি মনে করে, শেখ হাসিনাকে ঘিরে যেকোনো নীতি বা সিদ্ধান্ত গ্রহণে ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা এবং বাংলাদেশের জনগণের অনুভূতির প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করা আবশ্যক।
এনসিপি বলেছে, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পুনর্গঠনের লক্ষ্যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে এনসিপি বিশ্বাস করে, প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে ‘ফ্যাসিবাদী’ ব্যবস্থার স্থায়ী অবসান নিশ্চিত করতে হবে।
দলটি বলেছে, দেশের সার্বভৌমত্ব বিনষ্টকারী ও জনগণের বিরুদ্ধে সংঘটিত গুরুতর অপরাধের জন্য দায়ী কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে যথাযথ জবাবদিহিতা ও বিচার নিশ্চিত না করে পুনরায় রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তনের কোনো সুযোগ দেওয়া চলবে না।
আর পড়ুন-
শেখ হাসিনাকে ভারত কেন এই সুযোগ দিল: বিবিসি বাংলাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী