১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

জামায়াতকে ‘কাগুজে বাঘ’ বললেন মান্না

“এই সাড়ে পাঁচ মাসে উনি জনগণের সামনে তার বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছেন; নতুন রাজনীতির একটা স্টাইল তৈরি করেছেন,” তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন তিনি।

জামায়াতকে ‘কাগুজে বাঘ’ বললেন মান্না
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 05 Aug 2026, 01:00 AM

Updated : 11 Sep 2026, 03:47 PM

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে দলটিকে ‘কাগুজে বাঘ’ বলে বর্ণনা করেছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না।

তিনি বলেছেন, “বাংলাদেশে এখন দল বলতে তো বিএনপি। বিরোধীদল আছে কিছু? সংসদে বিরোধীদল আছে। কিন্তু সেই বিরোধীদল আবার খুব হিসাব করে পায়ে পায়ে হাঁটে।

“তারা অনেক জায়গাতেই আছে সবসময় প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে বেড়ায়। আবার বাইরে গিয়ে বিরাট আন্দোলন করবার ভয়ও দেখায়। ওরা আসলে কাগুজে বাঘ, কামড়াতে পারবে না।”

রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মঙ্গলবার বিকালে বিএনপির আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

মান্না বলেন, “ওরা (জামায়াতে ইসলামী) অনেকগুলো বছর অনেকভাবে নিজস্ব কৃত অপরাধের জন্য যে জীবনযাপন করেছে, সেই জীবনে আর ফিরে যেতে চায় না। যারা অন্তত ছয় মাস আগে প্রকাশ্যে জনগণের সামনে এসে নিজেদের কথা বলতে পারেনি। তারা এখন সংসদের মধ্যে বসে সংসদের নেতাসহ সমস্ত সংসদ সদস্যদের ব্যাপারে কথা বলতে পারে। এই আরামদায়ক জায়গা ছাড়তে চাইবে না।

“তারা মনে করবে, বরঞ্চ বিএনপির নামে যে সমস্ত দোষ-ত্রুটি বলা হচ্ছে, অপবাদ হচ্ছে এই যে চাঁদাবাজির কথা বলে দখলদারিত্বের কথা বলে, গায়ের জোরের কথা বলে, বাড়াবাড়ির কথা বলে; এইটা যদি চলতে থাকে পাঁচ বছর পরে আমরাই জিতব, বিএনপি জিতবে না।”

তিনি বলেন, “জামায়াতের নেতারা যা মনে করে আমি তাই বললাম। আমার সঙ্গে জামায়াতের নেতাদের খুব খাতির। আমি যতদিন জেলে ছিলাম জামায়াতের নেতারা আবার তাড়াতাড়ি বিস্কুট এগিয়ে দেয়, সাহায্য করে। প্রচুর কথা হয়েছে তাদের সঙ্গে। এখনো কথা বলেন। তারা মনে করেন এইরকম যদি চলতে থাকে পাঁচ বছর পরে আমরাই জিতব।”

‘ভালোভাবে চালাতে পারলে পরের ৫ বছরও প্রতিদ্বন্দ্বী নেই’

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি বলেন, “আমি মাহমুদুর রহমান মান্না এদিকেও নাই ওদিকেও নাই, আমি পজিশনেও নাই অপজিশনেও নাই। নিশ্চিতভাবে আমি মনে করি, আমি চাই বা না চাই জনাব তারেক রহমান আগামী পাঁচ বছর এই দেশ চালাবে।”

এসময় বিএনপি নেতাকর্মীরা করতালি দিলে মান্না বলেন, “এত হাততালি দিচ্ছেন কেন? আমি চাইলেই কি আর না চাইলে কি? পাঁচ বছরের জন্য তো নির্বাচিত হয়েছেন। আমি মনে করি, মোটামুটি পাঁচ বছর যদি ভালোভাবে উনি চালাতে পারেন, তাহলে পরের পাঁচ বছরেও তার প্রতিদ্বন্দী নাই। অতএব কেউ যদি এখানে বক্তৃতায় বলেন আপনার উপরে নির্ভর করছে আগামী দিনের ভবিষ্যৎ, তাহলে উনি তেলবাজি করছেন এটা আমি ভাবি না।”

তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে মান্না বলেন, “বাংলাদেশের তেলবাজি একটা বিরাট ব্যবসা। নেতারা তেলবাজি করে, কর্মীরা তেলবাজি করে, মানুষ পর্যন্ত তেল দেওয়া শিখে গেছে। তবে আমি যেটা বলি, এটা তেলের কথা নয়। এটা হচ্ছে বাস্তব।

“আমি তারেক রহমানকে যতখানি চিনি এবং এই সাড়ে পাঁচ মাসে ক্ষমতা চালাবার মধ্যে দিয়ে উনি জনগণের সামনে তার বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছেন। নতুন রাজনীতির একটা স্টাইল তৈরি করেছেন।”

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে ও প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় জুলাইয়ের যুগপৎ আন্দোলনের শরিক নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণফোরামের সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, গণসংহতি আন্দোলনের জুনায়েদ সাকি, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মুফতি মহিউদ্দিন ইকরাম ও ভাসানী জনশক্তি পার্টির সভাপতি শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু বক্তব্য রাখেন।

মহানগর উত্তর বিএনপির আমিনুল হক, দক্ষিণ বিএনপির রফিকুল আলম মজনু, যুবদলের সভাপতি এম মোনায়েম মুন্না, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানী, কৃষক দলের সভাপতি হাসান জাফির তুহিন ও ছাত্রদলের সভাপতি রকিবুল ইসলাম রাকিবও বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, এজেডএম জাহিদ হোসেন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।