Published : 13 Nov 2025, 08:37 PM
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে জুলাই সনদ নিয়ে যে গণভোট হবে, তাকে ‘গোঁজামিল’ ও ‘অগ্রহণযোগ্য’ হিসেবে অভিহিত করেছে বাংলাদেশ জাসদ।
সংবিধান সংস্কারে জাতীয় সংসদে আলোচনার আগে গণভোট করার কোনো প্রয়োজনীয়তাও দেখছে না দলটি।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া ও সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান এক বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া জানান।
বিবৃতিতে তারা বলেন, "জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনাতে যেসব বিষয়ে সব দল একমত হয়েছে, সেগুলোই জাতীয় সনদ। এর বাইরে কোনো বিষয় সরকার যদি চাপিয়ে দিতে চায়, সেটা অনৈক্যকে অমীমাংসেয় করে তুলবে।
“সংবিধান সংস্কারের জন্য জাতীয় সংসদে আলোচনার আগে গণভোট অপ্রয়োজনীয়। তারপরও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে সর্বসম্মত প্রস্তাবগুলোতে গণভোট নেওয়া যেতে পারে, কিন্তু এ গণভোট দ্বারা সংবিধান পরিবর্তন করা যাবে না।”
বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য গণভোট এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ফেব্রুয়ারিতে একই দিনে আয়োজন করা হবে।
তার এ ঘোষণা আসার আগে এদিন জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশে সই করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
বাংলাদেশ জাসদ বলছে, “সংবিধান বিদ্যমান থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রপতির আদেশ জারি করা সংবিধানসম্মত নয় বলেই আমরা মনে করি। প্রয়োজনীয় অধ্যাদেশ দ্বারা গণভোট জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একই সময়ে হতে পারে। জাতীয় সংসদকে নতুন নামে অভিহিত করা ও ‘দ্বৈত স্বত্ত্বা’ দেওয়া সংবিধানবিরোধী।
“কতিপয় দলের অবাস্তব দাবিকে জুলাই সনদ বলে চালিয়ে দেওয়া গণতান্ত্রিক মানসিকতার পরিচায়ক নয়।”
বিবৃতিতে বলা হয়, “গণভোটের জন্য যেভাবে চারটি প্রশ্নের প্রস্তাব করা হয়েছে, তাতে গণভোটকে হাসি-ঠাট্টার বিষয়ে পরিণত করা হয়েছে।
“আমরা যথাসময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান আয়োজনকে স্বাগত জানাই। কিন্তু গোঁজামিলে ভরা গণভোটকে গ্রহণ করতে পারছি না। নির্বাচন কমিশন আর দেরি না করে জাতীয় সংসদের তফসিল ঘোষণা করবেন, জাতি সেটাই আশা করে।"