Published : 04 Feb 2026, 06:57 PM
নিষিদ্ধ হয়ে নির্বাচনের বাইরে থাকা আওয়ামী লীগের ভোট কোন দল কতটা পেতে পারে, সেই প্রশ্নে বিএনপির এগিয়ে থাকার কথা বলেছে দুটি জরিপকারি সংস্থা।
তাদের ভাষ্য, বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগের ৪৮ শতাংশ ভোটার ধানের শীষ বেছে নিতে পারেন।
বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘আনকাভারিং দ্য পাবলিক পালস: আ নেশনওয়াইড সার্ভে’ শীর্ষক জরিপে এ আভাস দেওয়া হয়।
বেসরকারি সংস্থা— কমিউনিকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিআরএফ) ও বাংলাদেশ ইলেকশন অ্যান্ড পাবলিক ওপিনিয়ন স্টাডিজ (বিইপিওএস) যৌথভাবে জরিপটি করেছে।
অনুষ্ঠানের পর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “আওয়ামী লীগ ভোটারদের প্রায় অর্ধেক (৪৮ শতাংশ) এখন বিএনপিকে সমর্থন করছেন।“
জরিপে বলা হয়, ২০০৮ সালের পর যারা ভোটার হয়েছেন, তাদের এক-তৃতীয়াংশের বেশি (৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ) বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীকে পছন্দ করছেন।
পর্যায়ক্রমিক দৈব নমুনায়ন (স্ট্রাটিফাইড র্যান্ডম স্যাম্পলিং) করে গত ২০ নভেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে দুই ধাপে মাঠপর্যায়ে ১১ হাজার ৩৮ জন ভোটারের উপরে জরিপটি চালানো হয়।
জরিপের ফল তুলে ধরে এদিন সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করা হয়; যেখানে ফল তুলে ধরেন গবেষক এবং সিআরএফের স্ট্র্যাটেজিক কো-অরডিনেটর জাকারিয়া পলাশ।
বিশেষজ্ঞ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব রিডিংয়ের অর্থনীতি বিভাগের ‘ভিজিটিং প্রফেসর’ এম. নিয়াজ আসাদুল্লাহ এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. সাহাবুল হক।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৯০ শতাংশের বেশি ভোটার জানিয়েছেন যে তারা ভোট দিতে চান। মাত্র প্রায় ৮ শতাংশ ভোটার এখনো অনিশ্চিত বা ভোটে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন না। লিঙ্গ, বয়স, শিক্ষা বা বসবাসের স্থানভেদে এই প্রবণতায় খুব বেশি পার্থক্য দেখা যায় না।
জরিপে ৬৭ দশমিক ৩ শতাংশ ভোটার দুর্নীতিকে ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ’ বিষয় হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। অন্যদিকে ধর্মের বিষয়কে সবার সামনে এনেছেন ৩৫ দশমিক ৯ শতাংশ ভোটার।
ফলে দেখা যায়, বেশির ভাগ ভোটারই তাদের ভোটের সিদ্ধান্তে প্রার্থীকে গুরুত্ব দেন; সেটা কখনো এককভাবে, কখনো দলের সঙ্গে মিলিয়ে।
এর মধ্যে ৩০ দশমিক ২ শতাংশ শুধুমাত্র প্রার্থীকে ভিত্তি করে ভোট দেওয়ার কথা বলেছেন এবং ৩৩ দশমিক ২ শতাংশ ভোটার প্রার্থী ও দল—উভয় বিষয়ই বিবেচনায় নিচ্ছেন।
১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।