১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

আওয়ামী লীগের সম্পদ বাজেয়াপ্তের দাবি এনসিপির

আছে ১৪ দলীয় জোটের শরিকদের নিষিদ্ধ করার দাবিও।

আওয়ামী লীগের সম্পদ বাজেয়াপ্তের দাবি এনসিপির
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় সোমবার রাতে রাজধানীর বাংলা মোটরে প্রেস ব্রিফিংয়ে আসেন এনসিপি নেতারা। ছবি: ভিডিও থেকে

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 13 May 2025, 02:52 AM

Updated : 26 Aug 2026, 12:42 PM

রাজনৈতিক নিবন্ধন স্থগিতের পাশাপাশি সব ধরনের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ হয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগের সম্পদ বাজেয়াপ্তের দাবি তুলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। 

এনসিপির নেতারা বলছেন, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিকদের সম্পদও বাজেয়াপ্ত করতে হবে। নিষিদ্ধ করতে হবে তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডও।

আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন জারির পর সোমবার রাত ৮টার দিকে বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ের নিচে এক ব্রিফিংয়ে এসব দাবি তুলে ধরেন তারা।

এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, “গত ৫ অগাস্ট বাংলাদেশের জনগণ ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সম্পর্কে যে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, সেটাকে আইনে রূপ দিতে আমরা সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছিলাম। গণহত্যার দায়ে আজ আওয়ামী লীগের বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত এসেছে, আমরা ইতিবাচকভাবে দেখছি। 

“কিন্তু এখনও আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মা ও দোসরদের বিচার দৃশ্যমান দেখি নাই। সরকারের কাছে আমরা দাবি জানাই, পরিপত্র অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের যেখানেই পাবে, পুলিশ গ্রেপ্তার করবে।”

নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্তদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার দাবি তুলে আখতার বলেন, “গত ১৬টা বছর ধরে দেশের মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে যে ফ্যাসিবাদ তৈরি করেছিল, যে ক্যাপিটাল তৈরি করেছিল, জনগণের সম্পদগুলোকে বিদেশে পাচার করেছিল, পাতানো নির্বাচনগুলোতে আওয়ামী লীগ এবং তাদের যেসব দোসর অংশগ্রহণ করেছিল, তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে দেশের কল্যাণে ব্যয় করতে হবে।

“আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এখন যে ঢিমেতালে চলছে, তা আওয়ামী লীগের বিচার করার সক্ষমতা রাখে না। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে সক্ষম করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে অন্তর্বর্তী সরকারকে আহ্বান জানাই।”

জুলাই ঘোষণাপত্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সরকার যে ৩০ কার্যদিবসের কথা বলছে, সেটা যদি ৩১ কার্যদিবসে যায়, তাহলে বাংলাদেশের জনগণ আবার রাজপথে নেমে আসবে।”

জুলাই ঘোষণাপত্র প্রসঙ্গে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “এখনও যারা সচিবালয়ে, স্কুলে, কলেজ, ইউনিভার্সিটিতে, ক্যান্টনমেন্টে বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মা হিসাবে কাজ করে যাচ্ছে, মুজিববাদী আদর্শের কাজ করে যাচ্ছে, তাদেরকে শেষবারের মতো হুঁশিয়ার করে দিতে চাই। আপনাদের বোধদয় হওয়া উচিত; যারা শহীদ হয়েছে, তাদের রক্তের দিকে তাকানো উচিত। আপানারা বাংলাদেশে বসবাস করতে চাইলে মুজিববাদী আদর্শ ছেড়ে জনগণের কাতারে নেমে আসতে হবে।” 

রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে নাসীর বলেন. “যারা ৫ অগাস্টে একসঙ্গে গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছিল, আজ রাজনৈতিক কারণে দেশের চেয়ে দল বড় হয়ে গেছে, আমরা তাদেরকে বলব, হুঁশে ফিরে আসুন। আওয়ামী লীগের যে অবস্থা হয়েছে, আমরা চাই না বাংলাদেশে আর কারো এ অবস্থা হোক। 

“সব রাজনৈতিক দলকে বলব, সরকার জুলাই ঘোষণাপত্রের যে উদ্যোগ নিয়েছে, তাড়াতাড়ি সেখানে সই করে মানুষের হাতে জুলাই ঘোষণাপত্র বুঝিয়ে দিন। আর না হয় স্পষ্ট করে ঘোষণা করুণ, আমরা জুলাই ঘোষণাপত্র চাই না। সেটা জনতার কাছে বলুন, তাহলে জনতার আদালতে আপনাদের বিচার হবে।”

আওয়ামী লীগের জোটসঙ্গী ১৪ দলের বিচারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “গত ১৫ বছর এই সরকারের সঙ্গে ১৪ দল নামক একটা ভূত চেপে বসেছিল, যারা ভোট ডাকাতি করেছিল। আওয়ামী লীগের লুটপাটের মধ্যে তারাও অংশীদার ছিল। 

“আওয়ামী লীগ যে হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিল, তারা একই হত্যাকাণ্ডের কলাবরেটর ছিল। আমরা নির্বাচন কমিশনকে বলব, জনতা নির্বাচন কমিশনের দিকে আসার আগে দ্রুত ১৪ দলকে নিষিদ্ধ করুণ। যদি তা না করেন, তাহলে জনতা যেভাবে যমুনার দিকে মার্চ করেছে, আগামীতে সেভাবে নির্বাচন কমিশনের দিকে মার্চ করবে।” 

সাংস্কৃতিক অঙ্গণে আওয়ামী লীগের সমর্থকদেরও হুঁশিয়ার করে নাসীরুদ্দীন বলেন, “গত ১৫ বছরে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে কলকাতা ও দিল্লির কিছু ফ্যাসিস্ট চেপে বসেছিল। তারা ইসলামিক পিপলদের জঙ্গি বানিয়ে নাটক-সিনেমার মধ্য দিয়ে মানুষের সঙ্গে গাদ্দারি করেছিল এদেরকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। ইন্টেরিম সরকার যদি বিচার করতে না পারে, তাহলে জনতার আদালতে আমরা বিচার করব।”

তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগকে উৎখাত করতে হলে বাহাত্তরের মুজিববাদি সংবিধান চিরতরে মুছে দিতে হবে। গণঅভ্যুত্থানের জনতার রক্তের প্রতিটি ফোটা, কৃষক, শ্রমিক, মজুর, কুলি- প্রতিটি মানুষের রক্তের দাগ দিয়ে আমরা আরেকটি সংবিধান রচনা করতে চাই। 

“আমরা এমেন্ডমেন্ড খেলা চাই না, গণপরিষদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সেই সংবিধান হবে। রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিকভাবে মুজিববাদি শক্তিকে পরাভূত করার জন্য ছাত্রজনতা সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে সজাগ থাকতে হবে,” বলেন নাসীর। 

এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন বলেন, “আমরা মনে করি বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদী কাঠামোকে ট্যাকেল করার জন্য এ পরিপত্র খুব প্রয়োজন ছিল।  আওয়ামী লীগের যেসব দোসর এখনও দেশে আছে, তারা আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে, তাদের বাড়িঘরে, এমনকি বাবা-মার ওপরেও হামলা চালিয়েছে। আওয়ামী লীগের দোসর ও নেতাদের সম্পত্তিগুলো এখনও অক্ষত রয়েছে। আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের দখল একদিনেই নিঃশেষ হওয়ার নয়।

“পরিপত্র জারির মাধ্যমে আমর সফল হয়েছি। কিন্তু জুলাই ঘোষণাপত্র এখনও জরি হয় নাই। জুলাই ঘোষণাপত্রের জন্য আমাদের আরও মাঠে থাকার প্রয়োজন আছে। ট্রাইব্যুনালকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ট্রাইব্যুনালে বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। আমরা এই দিকে তীক্ষ্ম নজর রাখছি।”

 সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা বলেন, “আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে যে ফ্যাসিবাদী কাঠামো তৈরি করেছিল, সেটা নির্মূলের একটা প্রথম ধাপ আজ দেখেছি। আওয়ামী লীগের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। ফ্যাসিবাদী কাঠামো বিলোপ করা অনেক লম্বা সময়ের কাজ। সেজন্য জনগণের সহযোগিতা আমাদের প্রয়োজন। 

ব্রিফিংয়ে এনসিপি নেতাদের মধ্যে সালেহউদ্দিন সিফাত ও সাইফ মোস্তাফিজও উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

‘নিষিদ্ধ’ আওয়ামী লীগের নিবন্ধনও স্থগিত

আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধে কার কী প্রতিক্রিয়া