Published : 03 Jan 2026, 08:01 PM
নিজের প্রস্তাবক ও সমর্থককে ‘প্রকাশ্যে অপহরণের’ অভিযোগ করে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।
শনিবার রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, “শনিবার সকালে আমার প্রস্তাবক ও সমর্থকসহ দলীয় নেতাকর্মীরা চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মনোনয়ন বাছাই প্রক্রিয়া অংশগ্রহণ করতে গেলে, আমার নির্বাচনি এলাকা চট্টগ্রাম -৫ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মীর হেলালের সমর্থকরা বাধা দেয় ও নাজেহাল করে।
“তাৎক্ষণিক আমি কোতোয়ালি থানাকে অবহিত করলে, কোতোয়ালি থানা পুলিশ আমার প্রস্তাবক ওসমর্থককারীকে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে প্রবেশে সহযোগিতা করে। কিন্তু পুলিশ চলে যাওয়া মাত্র জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে তাদেরকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়। যদিও পুলিশ পরবর্তীতে তাদেরকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।”
এদিন চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
তার আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন তার মনোনয়নপত্র বাতিলের কারণ হিসেবে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দলীয় মনোনয়নের যে চিঠি দিয়েছেন সেটির স্বাক্ষরে গড়মিল থাকার কথা বলেছেন।
এরপর রাজধানীতে নিজ বাসভবনে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসে ‘সুষ্ঠু নির্বাচন’ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।
তিনি বলেন, “আমরা বারবার বলেছি, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না করলে ও সবার জন্য সমান সুবিধা তৈরি না হলে কোনোভাবেই দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্ভব নয়।”
সংবাদ সম্মেলনে তার এসব বক্তব্য দলের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তুলে ধরা হয়।
কর্মীদের অপহরণের বিষয়ে আনিসুল ইসলামের অভিযোগ প্রত্যাখান করেছেন চট্টগ্রাম ৫ আসনের প্রার্থী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।
তিনি বলেন, “তার (আনিসুল ইসলাম) অভিযোগ ভিত্তিহীন। সরকারকে বেকাদায় ফেলতে এবং ভিকটিম সাজতে তিনি এ ধরনের নাটক করছেন। এটা উনার স্বভাব।
“দলীয় মনোনয়নপত্র জাল করার কারণে ওনার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এটা এমন না যে উনি বা ওনার কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত না থাকায় বাতিল হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে আমি বা আমার দলের কেউ সম্পৃক্ত নই।”
ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ আনিসুলের
নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই তার দলীয় কর্মীদের ‘নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে’ অভিযোগ করে আনিসুল ইসলাম বলেন, “১৯ ডিসেম্বর তারা আমার গ্রামের বাড়ি আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে। ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিনও আমার কর্মী সমর্থকদের ভয়-ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছিল। আর আজকে মীর হেলাল সাহেবের সমর্থকরা আমার প্রস্তাবক ও সমর্থককারীকে অপহরণ করে।”
জুলাই আন্দোলনের পর দেশে ‘গণতান্ত্রিক পরিবেশ স্বাভাবিক হওয়ার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার’ প্রত্যাশা থাকলেও ‘সে পরিবেশ এখনো দৃশ্যমান নয়’ বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, “আমরা বারবার বলেছিলাম, আমাদের নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছিল, তা যদি প্রত্যাহার করা না হয়, তাহলে আমাদের প্রতিপক্ষ সে মামলাকে কাজে লাগিয়ে আমাদের হয়রানি করবে। বর্তমানে সে মিথ্যা মামলা ব্যবহার করে আমাদের হয়রানি করা হচ্ছে ।”
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির ওই অংশের মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, “চট্টগ্রামে আমাদের জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের আর্তনাদ শুনে, আমি গভীরভাবে ব্যথীত হয়েছি। আমার কাছে মনে হয়, সরকার সম্পূর্ণরূপে নিরপেক্ষতা হারিয়েছেন।”
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সব দলের সমান অধিকার থাকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “কিন্তু বাস্তবতা আজ ভিন্ন। আমার কাছে প্রতীয়মান হয়, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, তিনি একটি লাইন ড্র করেছেন। তার পেছনের শক্তির সন্ধানে, আমি যা দেখি, তার এই শক্তি, অপব্যবহার করা উচিত না।”
প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেন ‘বিপথগামী’ হচ্ছেন, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
জাতীয় পার্টির ওই অংশের সিনিয়র কোচেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশীদ, নির্বাহী চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চুন্নু, কোচেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, শাহিদুর রহমান টেপা, মোস্তফা আল মাহমুদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত মাসরুর মাওলা, প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া, মো. আরিফুর রহমান খান, সরদার শাজাহান, ফখরুল আহসান, শাহাজাদা নূরুল ইসলাম ওমর সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।