Published : 17 Oct 2025, 01:40 PM
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে রাষ্ট্র যখন দায়িত্ব নিয়েছে তখন তা নিয়ে কারো ‘শঙ্কার কিছু নেই’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এজেডএম জাহিদ হোসেন।
শুক্রবার সকালে শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
জাহিদ বলেন, “দেশের মানুষ আবু সাঈদ বলেন, মুগ্ধ বলেন গত ১৫ বছর যাবৎ নিরন্তর আন্দোলন করেছে, গুম বলেন, শহীদ বলেন…৩৬ জুলাই যদি আমরা চিন্তা করি এটি হচ্ছে ১৫ বছরে ধারাবাহিক আন্দোলনের সর্বশেষ পর্যায়…। এখানে ছাত্র-জনতার মিলিত গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচার পালিয়ে গেছে, পদত্যাগ করেছে। দেশের মানুষ উন্মুখ হয়ে আছে জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের দিকে…জুলাই সনদে কি আছে, জুলাই সনদে কারা যাচ্ছে, কারা যাচ্ছে না এবং জুলাই সদন কিভাবে বাস্তবায়িত হবে।
“সর্বশেষ রাষ্ট্র যখন দায়িত্ব নেয় কোনো একটি সনদ বা কোনো একটি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য সেখানে এটি নিয়ে আমার মনে হয় না কোনো ধরনের মানুষের কারো মনে কোনো ভীতি অথবা শঙ্কা থাকার কারণ আছে যে, এটি ভবিষ্যতে বাস্তবায়ন হবে না।”
বিকাল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্র সংস্কারের অংশ হিসেবে চূড়ান্ত হওয়া জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর সই করার অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে।
এতে উপস্থিত থাকবেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসসহ রাজনৈতিক দলের নেতা ও আমন্ত্রিত অতিথিরা।
সনদের স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ঐকমত্য কমিশনের চেয়ারম্যান ও প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুস।
জাহিদ বলেন, “এখন তো জাতীয় সংসদ নেই তারপরেও কিন্তু প্রেসিডেন্সিয়াল অর্ডারে অনেক অর্ডার জারি হচ্ছে যেগুলো আগামী সংসদে রেটিফিকেশনের প্রয়োজন আছে।”
বেলা ১১টায় ডিপ্লোমা অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডি-ম্যাব) নতুন আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক শহিদুল্লাহ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে নেতাদের নিয়ে নিয়ে জিয়াউর রহমানের কবরে ফুল দিয়েছেন অধ্যাপক জাহিদ। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি।
জুলাই সনদে এনসিপির স্বাক্ষর না করার সিদ্ধান্তের বিষয়টি কীভাবে দেখছেন জানতে চাইলে জাহিদ বলেন, “আমরা লক্ষ্য করেছি দীর্ঘ প্রায় ৮ মাস যাবৎ জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশন তারা তাদের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন এক্সারসাইজ করেছেন, মতামত গ্রহণ করেছেন এবং আজকে চূড়ান্ত পর্যায়ে বিকালে প্রধান উপদেষ্টা মহোদয়ের আমন্ত্রণে সেখানে সকল রাজনৈতিক দল এবং পেশাজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেনি, বিভিন্ন দেশি-বিদেশি ব্যক্তিবর্গ সেখানে অংশগ্রহণ করবেন।”
“আমরা পত্রিকায় দেখলাম যে, ফেইসবুকে দেখলাম যে, একটি দল (এনসিপি) অংশ গ্রহণ করবে না বলে উনারা বলেছেন, উনারা ওটাও বলেছেন, পরবর্তীকালে আবার যখন ডাকা হবে সেগুলোর মধ্যে যাবেন এবং যদি উনারা মনে করেন, সনদে স্বাক্ষর করবেন তাহলে স্বাক্ষর করবেন। উনারা একদম আসছে না ঘটনাটা তা না। উনাদের মধ্যে কোনো জিনিস চাওয়া এবং প্রাপ্তি, দাবি এবং বাস্তবতার নিরিখে বনছে না। রাজনৈতিক দল হিসেবে উনারা যে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে।”
খালেদা জিয়ার অবস্থা 'স্থিতিশীল’
এক প্রশ্নের জবাবে জাহিদ জানান, এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসনের স্বান্থ্যের বিভিন্ন পরীক্ষাগুলো শেষ হলে মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্তে শিগগিরই বাসায় ফিরবেন তিনি।
“এখন ম্যাডামের অবস্থা সার্বিকভাবে স্থিতিশীল। যে অবস্থায় উনি হাসপাতালে গিয়েছিলেন তার চেয়ে অনেকটা স্থিতিশীল অবস্থায় আছে।”
স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বুধরাত রাতে হাসপাতালে ভর্তি হন খালেদা জিয়া।
এর আগে গত ২৮ আগস্ট রাতে একই হাসপাতালে কয়েকটি পরীক্ষার জন্য গিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন। সেদিন রাতেই তিনি বাসায় ফিরেছিলেন।
৭৯ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘদি থেকে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন।