Published : 05 Aug 2026, 12:40 PM
গণভোটের আলোকে জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, সকল ‘গণহত্যার’ বিচার নিশ্চিত করা এবং ঢাকার তিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের ‘হামলার’ প্রতিবাদে রাজধানীতে ‘গণজমায়েত’ করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির।
বুধবার সকাল ৯টায় রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই গণজমায়েত হয়। পরে সেখান থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ করে।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক ও বর্তমান নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় শিবিরকর্মীদের অনেকের হাতে পিভিসি পাইপ দেখা যায়।
পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ সমাবেশে বলেন, “৫ অগাস্ট যেদিন আমাদের বিজয় উৎসব পালন করার কথা, সেদিন ছাত্রদলের বিরুদ্ধে আজকে এখানে বক্তব্য দিতে দাঁড়াতে হল—এটা বাংলাদেশের জন্য লজ্জার, বিএনপির জন্য লজ্জার, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আপনার জন্য লজ্জার।”
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “আপনি ছাত্রদলকে সামলান, না হলে ছাত্রলীগ যেমন আওয়ামী লীগের পতন নিশ্চিত করেছে, এই ছাত্রদল তার চেয়ে কম সময়ে আপনার পতন নিশ্চিত করে আপনাকে বাংলাদেশ থেকে আবার বিতাড়িত করতে বাধ্য করবে।”
জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ শাখার আমির ও চাপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের এমপি মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, “ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ যে পথে হেঁটেছিল, ছাত্রদল ও বিএনপি একই পথে যাত্রা শুরু করেছে। ক্যাম্পাসগুলো দখলের যে পরিকল্পনা তারা নিয়েছে, ইসলামী ছাত্রশিবির ছাত্রসমাজকে সাথে নিয়ে ছাত্রদলের যে কোনো ধরনের সন্ত্রাসকে রুখে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।”
জুলাইকে ‘ভুলিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত’ করা হচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষাকে ধূলিসাৎ করার জন্য সরকার এবং ছাত্রদলের পক্ষ থেকে চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। বিএনপির এবং ছাত্রদলের সেই ষড়যন্ত্রকে নস্যাৎ করে দেওয়ার জন্য গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের করতে হবে।”
মঙ্গলবার দুপুরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দুই দফা সংঘর্ষ হয়। পরে ঢাকা কলেজেও এ দুই ছাত্রসংগঠনের মধ্যে মারামারি হয়। এরপর বিকাল ৫টার দিকে বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হন।
জামায়াতে ইসলামির কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল জেনারেল ও সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, “যেসব পুলিশ কর্মকর্তা (হামলায়) সহযোগিতা করছে, আপনারা তাদেরকে চিহ্নিত করুন। তাদেরকে গ্রেপ্তার করুন। আপনারা যদি গ্রেপ্তার না করেন, তাহলে বুঝে নিতে হবে এই হামলার সাথে পুলিশেরও সহযোগী হিসেবে ভূমিকা পালন করছে।”
তিনি বলেন, “শিক্ষাঙ্গনের এই সন্ত্রাস কারোর জন্যই ভালো নয়। আপনারা মনে করছেন শিবিরকে বিদায় করে আপনারা দেশ চালাবেন। হাসিনাও এই পলিসি নিয়েছিল। কিন্তু ছাত্রলীগকে শেষ মুহূর্তে রাজপথে পাওয়া যায় নাই। আপনাদের পরিণতিও তাই হবে। কাজেই এই সন্ত্রাসের পথ থেকে ফিরে আসুন।”
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, “জুলাই বিপ্লবের সবচেয়ে বেশি সুবিধাভোগী বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরেও গণহত্যার বিচার এখন পর্যন্ত দীর্ঘসূত্রতায় ফেলে দিয়েছে। দুই বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরেও মাত্র ছয়টি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে, কোনো মামলার রায় কার্যকর তারা করতে পারে নাই।
“মনে হচ্ছে তারা ক্যাম্পাসগুলোতে আবার হল দখল, গণরুম, গেস্টরুম কালচার ফিরিয়ে আনতে চায়। আমরা বলতে চাই, ছাত্রদলের সন্ত্রাসীদের যদি লাগাম না ধরা হয়, বিএনপি তার টোকাই বাহিনীর লাগাম না ধরে, আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে কোনো ক্যাম্পাসে ১০ মিনিটও দাঁড়াতে পারবা না।”