২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬ আশ্বিন ১৪৩৩

জ্বালানি সংকট কেন ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করুন: জামায়াতকে রিজভী

“জনগণের স্বার্থ না দেখে কোন উদ্দেশ্য নিয়ে লংমার্চ করেছেন,” প্রশ্ন তোলেন রিজভী।

জ্বালানি সংকট কেন ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করুন: জামায়াতকে রিজভী

রাজধানীর নয়া পল্টনে সোমবার সমাবেশের পর মিছিল করেন বিএনপি নেতারা।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 21 Sep 2026, 10:21 PM

Updated : 21 Sep 2026, 10:21 PM

দেশে জ্বালানি সংকট নিয়ে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর উদ্দেশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘এই সংকট বিএনপির সংকট না, তারেক রহমানের না’।

তিনি বলেছেন, “আপনারা ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করুন, জিজ্ঞেস করুন যারা মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে জড়িত তাদের।”

সোমবার নয়া পল্টনে ঢাকার মহানগর দক্ষিণ বিএনপির এক সমাবেশে কথা বলছিলেন রিজভী। জ্বালানি সংকট নিরসনসহ আট দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের ঢাকা থেকে রংপুরের লংমার্চ নিয়েও সেখানে প্রশ্ন তোলেন এ বিএনপি নেতা।

তিনি বলেন, “আপনারা আট দফা নিয়ে নাকি লং মার্চ করছেন। কেন জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি হয়েছে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে...; অনেক কথা এনেছেন।

“আরে ভাই আপনারা কি বুঝতে পারেন না, বড় বড় তো কথা বলছেন, তো আপনারা যে রংপুরে গেলেন লংমার্চ নিয়ে। যমুনা ব্রিজের টোল রিপোর্ট হচ্ছে সাড়ে ৪০০ গাড়ি নিয়ে গেছেন আপনারা। এই সাড়ে ৪০০ গাড়ির জ্বালানি কত লেগেছে। যখন জ্বালানির জন্য ন্যাশনাল গ্রিডে বিদ্যুৎ দেওয়া যাচ্ছে না, এই জ্বালানির জন্য অনেক কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। আপনারা কীসের জন্য, কীসের জন্য, কী এমন জরুরি প্রয়োজন ছিল, সাড়ে ৪০০ গাড়িয়ে লং মার্চ করলেন?”

রিজভী বলেন, “ওটাতে কি জ্বালানি তেল নষ্ট হয়নি? ওইটা যদি ন্যাশনাল গ্রিডে কাজে লাগানো যেত, বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যেত, তাহলেও তো জনগণের উপকার হত।

“জনগণের স্বার্থ না দেখে কোন উদ্দেশ্য নিয়ে, কীসের উদ্দেশ্য নিয়ে লংমার্চ করেছেন।”

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নৈরাজ্য ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অভিযোগ তুলে এর প্রতিবাদে সমাবেশ আয়োজন করে ঢাকার মহানগর দক্ষিণ বিএনপি। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালামসহ বিএনপি নেতাকর্মীরা সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে বিরোধী দলকে নিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, “বিরোধী দল কর্মসূচি করছে, করুক আপত্তি নাই। গণতন্ত্রে পার্লামেন্টের ভেতরে বাইরে কথা বলা যায়, তাতে কারও কোনো অসুবিধা হয় না। সেই গণতন্ত্র এখন বিদ্যমান, বিরাজমান। সেই গণতন্ত্র নিয়ে আপনারা সুবিধা নিয়ে কর্মসূচি করুন।”

এনসিপির নেতাদের ইঙ্গিত করে রিজভী বলেন, “যে সমস্ত ছেলেপেলেরা এখন নেতা হচ্ছে, হোক, তাতেও আপত্তি নাই। কিন্তু হুমকি দিচ্ছেন, ধমকি দিচ্ছেন। অশোভন কথা বলছেন, মিথ্যা কথা বলছেন, অপ্রচার করছেন। ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করছেন প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারকে। এইটা ভাই কোন রুচি, কোন শিক্ষা।

“আপনারা না ইসলামের নামে রাজনীতি করেন, এটা কোন শিক্ষা?”

বিরোধী দলকে নিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের কথা এক জায়গায়, আপত্তি এক জায়গায়। আপনারা হুংকার দিচ্ছেন এক দফার কথা বলে। আপনাদের এক দফার কথা শুনে গলি দিয়ে পালাব, নাকি প্রাচীরের ওই পাড়ে লাফ দেব?

“আমরা চুপচাপ চকলেট খেতে থাকব, এটা ভাবার কারণ নাই।”

রাজধানীসহ বিভিন্ন জায়গায় যানবাহনে অগ্নিসংযোগ, হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা নিয়ে রিজভী বলেন, “এটা কি শুধু পলাতক ফ্যাসিস্টরা। মানুষ বলছে, নতুন নতুন দোসর তৈরি হয়েছে, ফ্যাসিস্টদের সঙ্গে মিলিত হয়েছে।

“জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান দুর্নীতির প্রতিবাদে বক্তৃতা করছেন, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বক্তব্য দিচ্ছেন, লংমার্চ করছেন। অনুরোধ করব আমির সাহেবকে, গতকাল (রোববার) রাতে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন যারা ভাঙচুর করল, তাদের প্রতিবাদে লং মার্চ করুন। ওই ছেলেরা সোনালি ছেলেরা, রূপালি ছেলেরা কারা। ওরা তো আপনার ছেলে। ওরা মাস্তানি করেছে, তার প্রতিবাদে আপনি লংমার্চ করুন।

“তাহলেই বুঝবো আপনি সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে আছেন। নাহলে বুঝব ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চাচ্ছেন। ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করা যাবে না।”

সমাবেশ শেষে রুহুল কবির রিজভীসহ বিএনপি নেতারা বিক্ষোভ মিছিল করেন।