১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

আওয়ামী বুদ্ধিজীবীরা হামলার পক্ষে মদদ দিচ্ছে: এনসিপির আদীব

“মিডিয়া, আমলা, প্রশাসনের সব ক্ষেত্রে খুনি হাসিনার প্রেতাত্মারা বসে রয়েছে,” বলেন এনসিপি নেতা আদীব।

আওয়ামী বুদ্ধিজীবীরা হামলার পক্ষে মদদ দিচ্ছে: এনসিপির আদীব
ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে শুক্রবার বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে এনসিপি।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 18 Jul 2025, 10:07 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:24 PM

গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপির) কর্মসূচিতে হামলার পক্ষে ‘আওয়ামী বুদ্ধিজীবীরা মদদ দিচ্ছে’ বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব।

তিনি বলেছেন, “মার্চ টু গোপালগঞ্জ নাম দেওয়াতেই নাকি উস্কানি হয়ে গেছে। বাংলাদেশের যেকোনো জেলায় উপজেলায় যেকোনো দল তারা সমাবেশ করতে পারে, এটা তার সাংবিধানিক অধিকার, সেটা যে নামেই হোক না কেন।

“সন্ত্রাসবাদী আওয়ামী লীগের এই হামলার পক্ষে সম্মতি উৎপাদন করে যারা মদদ দিচ্ছেন, তারা সুস্পষ্টভাবে আওয়ামী লীগের গণহত্যার উস্কানিদাতা।”

শুক্রবার ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এনসিপির বিক্ষোভ সমাবেশে এ কথা বলেন আদীব।

তিনি বলেন, “ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ চলে গেলেও রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে এখনও তাদের দোসররা দৃশ্যমান। মিডিয়া, আমলা, প্রশাসনের সব ক্ষেত্রে খুনি হাসিনার প্রেতাত্মারা বসে রয়েছে। নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য প্রতিটি স্তর থেকে ফ্যাসিস্টের দোসরদের সরিয়ে ফেলতে হবে।”

গোপালগঞ্জে সম্প্রতি এনসিপিরি পদযাত্রা ও সমাবেশের কর্মসূচিতে হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকায় অবস্থানরত দলটির নেতারা বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচি করছেন। এর অংশ হিসেবে শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে।

গোপালগঞ্জে হামলার ঘটনায় ‘ভারতের সম্পৃক্ততার’ অভিযোগ তুলে আদীব বলেন, “প্রতিবেশী রাষ্ট্র সন্ত্রাসবাদী সংগঠন আওয়ামী লীগের প্রধানকে তার রাজধানীতে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করছে। তারই ধারাবাহিকতায় গোপালগঞ্জে গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্বকে হত্যার উদ্দেশ্যে যে সশস্ত্র হামলা হয়েছে। এর পেছেনেও ভারতের হাত রয়েছে। এই ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ করার পাঁয়তারা করছে।

“ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তারা গোপালগঞ্জের বিষয় তারা পর্যবেক্ষণ করছেন। আমরা বলব আপনারা কী পর্যবেক্ষণ করবেন? এই হামলা ও অগ্নেয়াস্ত্রের সঙ্গে আপনারা জড়িত কিনা, সেটাই বরং তদন্ত করা উচিত।”

সমাবেশে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সমন্বয়কারী নিজাম উদ্দিন বলেন, “মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৩২টি জেলা সফরের পর এনসিপি গোপালগঞ্জ গিয়েছিল। কিন্তু সেখানে নিষিদ্ধ সংগঠনের গুপ্ত বাহিনী অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। এতে প্রমাণ হয় ৫ অগাস্টের পর এখনও পুরোপুরি ফ্যাসিস্টমুক্ত বাংলাদেশ আমরা গড়তে পারিনি। যেই প্রশাসন বিপ্লবের সৈনিকদেরকে একটা পদযাত্রায় নিরাপত্তা দিতে পারে না, সেই প্রশাসন কী করে একটি অবাধ, নিরপেক্ষে জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন করবে? এটা বাংলাদেশের মানুষ বিশ্বাস করে না।”

গোপালগঞ্জ থেকে দেশে ‘গৃহযুদ্ধ বাঁধানোর নকশা’ করা হচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “নিষিদ্ধ ঘোষিত পতিত স্বৈরাচারের যত ক্যাডার বাহিনী আছে, যত অগ্নেয়াস্ত্রের গ্যাং আছে, সবাইকে গোপালগঞ্জে সংগঠিত করে সেখান থেকে পুরো বাংলাদেশে একটি গৃহযুদ্ধ পরিচালনা করার নীল নকশা আঁকা হচ্ছে।

“জুলাই যোদ্ধাদেরকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়ে প্রশাসন তার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। আমরা সতর্ক করছি, জুলাই যোদ্ধাদের গায়ে একটা আঁচড় লাগলে বিপ্লবীরা বাংলাদেশে আরেকটা জুলাই রচনা করে দেবে।”

এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক এসএম শাহরিয়ার বলেন, “২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর শিবিরকে হত্যা করার বৈধতা দেয়। শিবির হইলেই তাকে হত্যা করা যায় এমন ন্যারেটিভ তারা প্রতিষ্ঠা করেছিল। পরবর্তীতে যে কাউকে হত্যা করতে হলে তারা আগে শিবির ট্যাগ দিয়ে নিত।

“এখন বিএনপির নেতৃত্বেও আমাদের গোপালগঞ্জ সফর নিয়ে এমন একটি প্রশ্ন তুলছে। তারা প্রশ্ন তুলছে আমরা কেন গোপালগঞ্জে গেলাম। গোপালগঞ্জ কি বাংলাদেশের বাইরের কোনো অংশ? একমাস ধরে গোপালগঞ্জে অস্ত্র ঠুকলো, প্রশাসন ঠেকাইতে পারলো না। এখন সেই প্রশ্ন না তুলে আমাদের দিকে আঙুল তোলা হচ্ছে। পদযাত্রাকে ইংরেজিতে কেন ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ বললাম সেই প্রশ্নও তোলা হচ্ছে। আরে মিয়া, তোমরা ভার্সিটি চেন, বিশ্ববিদ্যালয় চেন না। পদযাত্রা বোঝ, মার্চ বোঝ না। রাজনীতিবিদরা এত মুর্খ তা তো আগে জানতাম না।”

এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক আলী নাসের খান বলেন, “জাতীয় নাগরিক পার্টি গোপালগঞ্জ গিয়েছে দেশ গড়ার ঐক্যের ডাক দিতে। গোপালগঞ্জে আমরা যুদ্ধ করতে যাই নাই। যেকোনো রাজনৈতিক দল, যেকোনো সংঘের সভা-সেমিনার করার নাগরিক অধিকার রয়েছে।

“কিন্তু গোপালগঞ্জে আমরা দেখেছি, গোয়েন্দা ব্যর্থতা, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্লিপ্ততার কারণে জুলাই অভ্যুত্থানের নায়কদের ওপরে হামলা হয়েছে। দিল্লি থেকে হাসিনার নির্দেশে অভ্যুত্থানের নায়কদের খুন করার জন্য সব প্রস্তুতি নিয়ে তারা হামলা চালিয়েছিল। যেসব সরকারি কর্মচারী হামলা ঠেকানোর ব্যর্থতার জন্য দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে অনতিবিলম্বে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। হামলাকারী আওয়ামী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করতে হবে।”

এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব আকরাম হোসেন, কেন্দ্রীয় সংগঠক ইমরান ইমন, এনসিপি নেতা মোস্তাক আহমেদ শিশির, সাইফুল্লাহ হায়দার, সর্দার আমিরুল ইসলাম, খান মোহাম্মদ মোরছালীন বক্তব্য দেন।