১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট মামলা

আইনজীবী ইউনুস আলী আকন্দ বলেন, “রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের প্রস্তাবক ও সমর্থকের স্বাক্ষর প্রয়োজন হওয়ায় সাধারণ নাগরিকের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই। এতে জনগণের সাংবিধানিক অধিকার খর্ব হয়েছে।”

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 13 Aug 2026, 12:31 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:50 PM

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে একটি রিট মামলা হয়েছে, যেখানে  আগামী ২০ আগস্টের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন স্থগিত চাওয়া হয়েছে।

আইনজীবী ইউনুস আলী আকন্দ বুধবার এই রিট করার কথা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন। 

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কেন অবৈধ ঘোষণা ও স্থগিত করা হবে না, সে বিষয়ে রুল চাওয়া হয়েছে আর আবেদনে। সেখানে আইন সচিব ও মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।

জাতীয় সংসদে কোনো সদস্য নিজের দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তাকে বলা হয় ‘ফ্লোর ক্রসিং’। অগ্রসর গণতন্ত্রের অনেক দেশেই এমপিদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ আছে। কিন্তু বাংলাদেশে এখনও সেই সুযোগ আটকে আছে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে।

ওই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি যদি ওই দল থেকে পদত্যাগ করেন বা সংসদে ওই দলের বিপক্ষে ভোট দেন, তাহলে সংসদে তার আসন শূন্য হবে।

ইউনুস আলী আকন্দ এর আগেও এ বিষয়ে রিট আবেদন করেছিলেন। তিনি জানান, ষোড়শ সংশোধনী মামলার রায়ের আলোকে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী একটি রুল দিয়েছিলেন। তবে বেঞ্চের দ্বিতীয় বিচারক ভিন্নমত পোষণ করেন। পরে বিষয়টি তৃতীয় বেঞ্চে গেলে ওই বেঞ্চও রুল না দিয়ে রিট আবেদন সরাসরি খারিজ করে দেয়।

ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেননি জানিয়ে ইউনুস আলী আকন্দ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “হাই কোর্টের নিয়ম অনুযায়ী কোনো রিট সরাসরি খারিজ হলে নতুন গ্রাউন্ডে আবার রিট করা যায়। সেই নতুন গ্রাউন্ডেই এবার ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।”

তিনি বলেন, “রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের প্রস্তাবক ও সমর্থকের স্বাক্ষর প্রয়োজন হওয়ায় সাধারণ নাগরিকের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই। এতে জনগণের সাংবিধানিক অধিকার খর্ব হয়েছে।”

রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চাওয়ার কথা জানিয়ে এ আইনজীবী বলেন, “আর্টিকেল ৭০ কেন সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক হবে না—এই মর্মে আমি রুল চেয়েছি। এবং যে নির্বাচন তফসিল সেটা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না—এই মর্মে রুল চেয়েছি এবং রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আমি নির্বাচন তফসিল স্থগিত চেয়েছি।”

সংবিধানের ৭০ ও ৬৫ অনুচ্ছেদ এবং প্রস্তাবনায় থাকা গণতান্ত্রিক চেতনার সঙ্গে ৭০ অনুচ্ছেদ ‘সাংঘর্ষিক’ বলে দাবি করেন ইউনুস আলী আকন্দ।

তিনি বলেন, “গণতান্ত্রিক যে ধারা বা স্পিরিট—সেটা আর্টিকেল ৭০ খর্ব করে। তাই বাংলাদেশের যে সংবিধান—‘অব দ্য পিপল, বাই দ্য পিপল, ফর দ্য পিপল’—এই সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক আর্টিকেল ৭০। এজন্য আমি এই রিটটি করেছি।”

রিট আবেদনটি বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে মেনশন করবেন বলে জানান এই আইনজীবী।