Published : 18 Aug 2026, 11:11 PM
বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে দুই-আড়াই ঘণ্টা বসে থাকার পর বক্তব্য দিতে এসে বিএনপির রাজনীতিক নজরুল ইসলাম খান বললেন, “আমার কষ্ট লেখার মতো কেউ নেই।”
মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক মারুফ কামাল খানের লেখা ‘রাজনীতির সদরে-অন্দরে’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে এসেছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য, যিনি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টার দায়িত্বেও আছেন।
‘সূচীপত্র’ প্রকাশনা থেকে বের হওয়া গ্রন্থটির নানা দিক তুলে ধরে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘‘অনেক রাজনীতিক আছেন, যাদেরকে আমরা ভুলে যেতে বসেছি। কিন্তু তাদের যথেষ্ট অবদান ছিল বাংলাদেশের রাজনীতি পুনর্গঠন এবং বাংলাদেশের রাজনীতিকে শক্তিশালী করার বিষয়ে। একটা একটা করে নাম বললে অনেক নাম হয়ে যাবে… আপনারা বইটা পড়েন।
‘‘যাদেরকে ভুলে যাওয়া হয়েছিল কিংবা যাদেরকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছিল, মারুফ কামাল খান তাদেরকে সামনে নিয়ে এসেছেন একজন লেখক হিসাবে।”
মারুফ কামালের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “অনুসন্ধিৎসু একজন…কী বলব? ইতিহাসবিদ তো না, কিন্তু ইতিহাস লেখা হয়ে গেছে। এটা শুধু সাংবাদিকতার অনুসন্ধিৎসুতা না, সাংবাদিক এবং একজন সচেতন রাজনৈতিক কর্মীর দুটো মিলিয়ে যে অনুভূতিটা হয়, সেখান থেকে এটা হয়েছে। আমার ধারণা, এই বইটা কালোত্তীর্ণ হবে, ইনশাআল্লাহ।”
দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে প্রকাশনা অনুষ্ঠানে অতিথিদের বক্তব্য শোনার পর ডায়াসে আসেন নজরুল ইসলাম খান।
তিনি বলেন, ‘‘বিদায়ের প্রাক্কালে প্রস্ফুটিত হওয়া চাপা ফুলের কষ্ট ধারণ করে কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত লিখেছিলেন, ‘আমারে ফুটিতে হলো বসন্তের অন্তিম নিশ্বাসে।’
“দুই-আড়াই ঘণ্টা বসে সবার শেষে আপনাদের সামনে আমাকে দাঁড়াতে হয়েছে। আমার কষ্ট আর কেউ লেখার মতো নেই; যদি মারুফ কামাল না লেখে।”
তিনি বলেন, ‘‘এই অপেক্ষা ছিল আনন্দের, এই অপেক্ষা এক ধরনের গৌরবেরও।”
বইটা পড়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘আমার কাছে মনে হয়েছে যে, এর মধ্যেও বোঝার এবং শেখার বিষয় আছে। বেশ কিছু তথ্য আছে, আমি পড়েছি, যেটা আমি আগে নিজেও জানতাম না।
“যেমন এক জায়গায় উনি বলেছেন, সোহরাওয়ার্দী সাহেব এই শাহবাগে একটা অনুষ্ঠানে এসেছেন এবং তার সঙ্গে একজন অভিনেত্রী, খুব উদীয়মান তরুণী অভিনেত্রী, তার কাছাকাছি কোনো জায়গা নাই… এ সময়ে শেখ সাহেব এলেন এবং এটাতে উনি খুব অনেক কষ্ট পেলেন এবং বলতেছিলেন আরকি, যে নেতা না হয়ে অভিনেতা হলে বোধহয় ভালো হতো।”
‘‘সোহরাওয়ার্দী সাহেব তাকে বললেন, ‘তুই আবার নেতা হইলি কবে?’ এই বইটা না পড়া পর্যন্ত এ ধরনের আরও অনেক বিষয় আছে, যেটা আপনারা জানতে পারবেন না।”
তিনি বলেন, ‘‘আমি বিশ্বাস করি, এসব বিষয় জানার আগ্রহ আছে আপনাদের। আমরা তো জেনারেলি জানি তার সম্পর্কে। আমার কাছে খুব একটা নতুন বিষয় মনে হয়েছে। এদেশের রাজনীতিতে যারা নন্দিত, তাদের কথা বলার অনেক লোক আছে।
“কিন্তু যারা যেকোনো কারণেই হোক কিছুটা নিন্দিত…মারুফ কামাল খানের বইটা আপনি পড়লে বুঝবেন যে ওইসব মানুষের জীবনের রাজনীতির কিছু ভালো দিক তিনি তুলে ধরেছেন এখানে।”
তিনি বলেন, ‘‘অনেকগুলোর বিষয় আছে এখানে। আমরা বহু রাজনীতিবিদ সম্পর্কে অনেক কথা জানি, অনেক কথা জানি না। ওসমানী সাহেবের দুইটা কুকুর ছিল…একটার নাম ছিল ‘ফিল্ড মার্শাল’, আরেকটার নাম ছিল ‘ইন্দিরা’।
“এর মধ্যে যে ব্যঙ্গটা, এটা অনুভব করার একটা চিন্তা থাকা দরকার। পাকিস্তান আমলে ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান এবং পরবর্তী পর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক হওয়ার পরেও তিনি তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে কী ধারণা পোষণ করতেন।”
অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, সাবেক তথ্য মন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আ ল ম ফজলুর রহমান, যুগান্তর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, খালেদা জিয়ার সহকারী প্রেস সচিবের দায়িত্ব পালন করা আশিক ইসলাম, ‘সূচীপত্রের’ প্রকাশক সাঈদ বারী ও আবিষ্কার প্রকাশক দেলোয়ার হাসান বক্তব্য রাখেন।