Published : 22 Feb 2026, 06:59 PM
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে পরিকল্পিতভাবে জাতীয় পার্টিকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন দলটির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী।
তিনি বলেছেন, "আমাদের ভোট কমানো হয়েছে। কমানোটা দুটি পরিকল্পনার অংশ ছিল। একটা হলো, আমাদের তৃতীয় করা হবে। আরেকটা হচ্ছে, যদি কখনো উচ্চকক্ষ হয়, আনুপাতিক ভোটে আমরা যেন একটি আসনও না পাই।”
রোববাবর বিকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে দলের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে এসে এসব অভিযোগ তোলেন পাটোয়ারী।
অর্ন্তবর্তী সরকারের বিরুদ্ধে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, "তাদের নির্দেশনায় প্রশাসন নির্বাচনে কারচুপি করেছে। জাতীয় পার্টিকে তাকে শক্তিশালী আসনগুলোতে তৃতীয় করা হয়েছে; জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, জাতীয় পার্টি জন্য যা বিস্ময়কর।
“তারপরও তারেক রহমান ও নতুন সরকারকে আমরা অভিনন্দন জানাই। নতুন সরকার প্রতিহিংসা পরিহার করে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি করবে, আমরা এটাই প্রত্যাশা করি।"
তিনি বলেন, "দেশের অসংখ্য কেন্দ্রে জাতীয় পার্টিকে শূন্য ভোট দেখানো হয়েছে। কেন্দ্রভিত্তিক রেজাল্টে ঘসাভাজা দেখেছি আমরা। ঘসাভাজা করা একটি কাগজ আমাদের কাছে এসেছিল।"
তিনি বলেন, "এজেন্টকে ভয়ভীতি ও প্রলোভন দেখিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এজেন্টদের কাছ থেকে আগে সই নেওয়া হয়েছে। ব্যাপকভাবে ভোটের আগে ভোট কেনা হয়েছে। প্রশাসন এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নেয়নি।”
গণভোটে সবচেয়ে বেশি কারচুপি হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, "সবচেয়ে কুলষিত হচ্ছে গণভোট। গণভোটের ৭৩ লাখ বাতিল ভোট হয়েছে, একটি ভোটে ৭৩ লাখ বাতিল ভোট কীভাবে হয়।”
একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েন জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা।
শহীদ মিনারে যাওয়ার পর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) একটি ইউনিটের নেতাকর্মীদের ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগানের মুখে ফুল ও ব্যানার রেখেই শহীদ মিনার এলাকা ত্যাগ করতে হয়ে তাদের।
সংবাদ সম্মেলনে এ প্রসঙ্গও তোলেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সন্মেলনে অন্যদের মধ্যে অতিরিক্ত মহাসচিব রেজাউল ভূঁইয়া, প্রেসিডিয়াম সদস্য আলমগীর শিকদার লোটন, ইমরান হোসেন মিয়া, মঈনুর রাব্বী রুম্মান, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য খলিলুর রহমান খলিল, জাহিদুর রহমান জাহিদ, ভাইস চেয়ারম্যান আখতার হোসেন, আব্দুস সোবহান ও হেলাল উদ্দিন।