১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩ কার্তিক ১৪৩৩

রাস্তায় নামা ছাড়া বিকল্প নেই: ফখরুল

সরকার হটানোর আন্দোলনে ‘জোটবদ্ধ’ হয়ে রাস্তায় নামা ছাড়া ‘কোনো বিকল্প নেই’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 29 Aug 2021, 06:36 PM

Updated : 02 Aug 2022, 06:16 PM

রোববার এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “দেশে একটা দানবীয় শক্তি, ওরা আমাদের সব কিছু তছনছ করে দিচ্ছে। আজকে সত্যিকার অর্থেই ফ্যাসিবাদী যে একটা রাষ্ট্র তৈরি করেছে, তারা যার মূল লক্ষ্য, তা হচ্ছে তারা একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

“ আমাদের ভবিষ্যত বংশধরদের যদি আমরা সত্যিকার অর্থে একটা স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ দিতে চাই, তাহলে আমাদের সকলকে জোটবদ্ধ হতে হবে, ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমাদের কোনো বিকল্প নেই এখন রাস্তায় নেমে আসা ছাড়া।”

আর সেজন্য কেবল বিএনপি বা বিরোধী দল নয়, ‘সবাইকে’ রাজপথে নেমে আসতে হবে বলে মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব।

তিনি বলেন, “আজকে যারা এখানে আছেন সুধীজন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আছেন, সংবাদসেবীরা আছেন, প্রত্যেকেই আক্রান্ত হচ্ছেন। কেউ বাদ পড়ছেন না। সুতরাং সবাইকে নেমে আসতে হবে।”

জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে ‘শত নাগরিক জাতীয় কমিটির’ উদ্যোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রয়াত অধ্যাপক খন্দকার মুস্তাহিদুর রহমানের স্মরণে এই আলোচনা সভা হয়।

গত ২০ আগস্ট কোভিডে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত এই অধ্যাপক।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন শত নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব কবি আবদুল হাই শিকদার।

রোববার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্র দলের মিছিলে সরকার সমর্থক ছাত্র সংগঠনের ‘হামলার’ অভিযোগ তুলে ধরে  মির্জা ফখরুল বলেন, “আজকে সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের ছেলেরা তাদের একজন সহকর্মীর মুক্তির জন্য শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করতে গেছে। সেইখানে ছাত্র লীগের সন্ত্রাসীরা পুলিশ সহকারে তাদের ওপর নির্মমভাবে আঘাত করেছে, অত্যাচার করেছে, নির্যাতন করেছে।”

কিছুদিন আগে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণে বিএনপির নবগঠিত কমিটির নেতাকর্মীরা জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা জানাতে গেলে সেখানে পুলিশের সঙ্গে সংঘাতের কথাও ফখরুল বলেন।

প্রয়াত খন্দকার মুস্তাফিজুর রহমানের বর্ণাঢ্য শিক্ষা ও কর্মজীবন তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব অনুষ্ঠানে বলেন, “মুস্তাহিদুর রহমানকে হারিয়ে শুধু পরিবার নয়, আমরা যারা বন্ধু-সহকর্মী-শুভানুধ্যায়ী শুধু তারা নয়, গোটা জাতির জন্য শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। এই শূন্যতা সহজে পুরণ হবার নয়। মুস্তাহিদুর রহমানরা সব সময় জন্মায় না। আজকে এমন এক সময় সে চলে গেল, যখন তাকে আমাদের দরকার ছিল। আসুন আমরা তার জন্য দোয়া করি, যেন তার বেহেশত নসিব হয়।”

ফখরুল বলেন, “দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন সফল করতে পারলেই তার আত্মা শান্তি পাবে। আসুন সেই লক্ষ্যে আমরা সকলে কাজ করি।”

অধ্যাপক আনোয়ারুল্লাহ চৌধুরীর  সভাপতিত্বে ও সাংবাদিক আমিরুল ইসলাম কাগজী ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আনম এহছানুল হক মিলন, অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম, অধ্যাপক লুতফর রহমান, অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, অধ্যাপক শামসুল আলম, অধ্যাপক কামরুল আহসান, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এম এ আজিজ, এলাহী নেওয়াজ খান, বাকের হোসাইন, সৈয়দ আবদাল আহমেদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ ও প্রয়াত খন্দকার মুস্তাহিদুর রহমানের ছেলে খন্দকার আশফাকুর রহমান আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন।