Published : 18 Aug 2016, 08:52 PM
পুরানো খবর:
কুমিল্লায় সুবিদ আলীর কুশপুত্তলিকা দাহপুরানো খবর:
জিয়াকে ‘প্রথম রাষ্ট্রপতি’ বললেন আ. লীগ এমপিএই নিয়ে আলোচনার মধ্যে বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারে ‘জরুরি’ এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, “আমি যদি জিয়াউর রহমানকে প্রথম রাষ্ট্রপতি বলে থাকি, তা যদি কেউ প্রমাণ করতে পারেন, আমি রাজনীতি থেকে পদত্যাগ করব, ইনশাল্লাহ।”
একদিন আগেই সংসদ ভবনে সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির বৈঠকে আওয়ামী লীগের এই সংসদ সদস্য বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াকে ‘প্রথম রাষ্ট্রপতি’ বলেছিলেন বলে কমিটির একাধিক সদস্য জানান।
তার বক্তব্য নিয়ে কমিটির বৈঠকে বিতর্ক হয়েছিল বলেও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের জিজ্ঞাসায় স্বীকার করেছিলেন কমিটির সভাপতি সাবেক ডেপুটি স্পিকার শওকত আলী।
কমিটির সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রকাশিত স্মরণিকাতে জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের ‘প্রথম রাষ্ট্রপতি’ উল্লেখ করা নিয়ে আলোচনার সময় সুবিদ আলী ওই কথা বলেছিলেন।
“আলোচনার এ পর্যায়ে ইউজিসির চেয়ারম্যান কিছু বলার আগেই সুবিদ আলী বলে ওঠেন, জিয়াই বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি। এটা তিনি তার বইতেও লিখেছেন।”
তারেক রহমান গত বছর তার বাবা জিয়াকে বাংলাদেশের ‘প্রথম রাষ্ট্রপতি’ বলার পর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। বিতর্কিত ওই বক্তব্যের পর তার বক্তব্য-বিবৃতি প্রচারে আদালতের নিষেধাজ্ঞাও আসে।
আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মানিক বলেন, “তখন আমি বলেছি বিএনপি যে সেটেলড ইস্যু নিয়ে বিতর্ক করতে চায়, আপনিও (সুবিদ) যদি সেই একই বিষয় নিয়ে কথা তোলেন তাহলে কী দাঁড়াল?”
সংবাদ সম্মেলনে সুবিদ আলী বলেন, তিনি বলেছিলেন, কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করার সময় জিয়া নিজেকে রাষ্ট্রপতি বলেছিলেন, যে ভুল পরে শোধরানো হয়। ওই কথাটিই সংসদীয় কমিটির বৈঠকে বলেছিলেন তিনি।
“ঘটনা হচ্ছে, জিয়াউর রহমান বেতার ভাষণে ভুল করে হেড অব স্টেট ঘোষণা বলে ফেলছে। তারপরে এমআর খান (এ কে খান) সাহেব ঠিক করে... আসলে হয়েছে কী বলতে গিয়ে বলে ফেলেছে। ইনটেনশনাল না। আমার বইতে আছে।”
সুবিদ আলী ভূঁইয়ার বই ‘মুক্তিযুদ্ধে নয় মাস’ থেকে
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অন্যতম সংগঠন প্রয়াত বেলাল মোহাম্মদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জিয়ার ‘রাষ্ট্রপতি’ হিসেবে ঘোষণার প্রচারটি উড়িয়ে দিয়েছিলেন।
সুবিদ আলী দাবি করেন, গণমাধ্যমে তাকে নিয়ে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’, ‘মিথ্যা’ ও ‘বানোয়াট’ খবর প্রকাশ হয়েছে।
সংসদীয় কমিটির সদস্যদের উদ্ধৃত করে বুধবার ওই সংবাদ প্রকাশের আগে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের পক্ষ থেকে সুবিদ আলীকে কয়েক বার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।
সংসদীয় কমিটির সদস্যরাই এই কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন বলে সাংবাদিকরা তুলে ধরলে সুবিদ আলী বলেন, “সেটা কে কী বলেছে, আমি কিছু জানি না। আই অ্যাম ভেরি সারপ্রাইজড। আমি কী বলতাম। যে এটা করছে সে না বুইঝা করছে।”
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্ন করতে থাকলে এক পর্যায়ে কিছুটা খেই হারিয়ে ফেলেন সাবেক সামরিক কর্মকর্তা সুবিদ আলী।
একাত্তরে কুমিরা যুদ্ধের কথা একাধিকবার বলছিলেন তিনি। সাংবাদিকরা তাকে বর্তমান সময়ে আনতে বার বার প্রশ্ন করতে থাকলে এক পর্যায়ে তার ছেলে কুমিল্লার দাউদকান্দির উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী তাকে উঠে যেতে অনুরোধ করেন।
সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির সদস্য সুবিদ আলী বর্তমান সংসদে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি।
একাত্তরে জিয়ার সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া সুবিদ আলী সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) ছিলেন খালেদা জিয়ার প্রধানমন্ত্রী থাকার সময়।
সামরিক বাহিনীর চাকরি ছাড়ার পর তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি) থেকে এনিয়ে দ্বিতীয়বার সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছেন। নবম সংসদে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ছিলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সুবিদ আলী বুধবার কমিটির বৈঠকে আলোচনার বর্ণনা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে সুবিদ আলী ভূঁইয়া
“একজন মাননীয় সংসদ সদস্য সরাসরি আমাকে প্রশ্ন করেন ‘আপনি কি তাহলে বলতে চান জিয়াই প্রথম রাষ্ট্রপতি?’ আমি তাকে পাল্টা প্রশ্ন করি ‘জিয়া কি তার জীবদ্দশায় কখনও রাষ্ট্রপতিকে হিসেবে দাবি করেছিলেন? এটা তো বিএনপির পলিটিক্যাল বক্তব্য। জিয়া তো দাবি করেননি।”
“আমি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে চাই, আমি জিয়াউর রহমানকে প্রথম রাষ্ট্রপতি কখনও বলি নাই। আমার বক্তব্যের কোনো পর্যায়েই এই ধরনের উদ্ধৃতি ছিল না।”
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “জিয়াকে প্রথম রাষ্ট্রপতি বলব কেন? আমি ক্লু পাচ্ছি না। জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি কীভাবে হয়? তখন তো সরকারই হয়নি।
“এই বিতর্কের মাধ্যমে আমাকে এবং আমার দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে হেয় প্রতিপন্ন ও বিতর্কিত করা হয়েছে, যার মাধ্যমে বিএনপি ও জামায়াতকে মিথ্যা ইস্যু তৈরি করে দেওয়া হয়েছে।”
‘মিথ্যা’ তথ্য দেওয়ার জন্য কারও বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেবেন কি না- জানতে চাইলে সুবিদ আলী বলেন, “যে যা বলুক। কে আমার সম্পর্কে কী বলল, আমি জানি না। না জেনে বলতে পারছি না। গণমাধ্যম যদি দিয়ে থাকে না জেনে দিছে। আমার খাইয়া কাজ নেই যে ব্যবস্থা নেব। রাজনীতি করলে অনেক কথা হয়।”
নিজের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “একজন জীবিত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে কেউ অ্যাওয়ার্ড পায়, তবে সেটা আমি। কিন্তু পাই নাই। বাংলাদেশে অনেক কিছুই ঘটে।”
নিজের এলাকায় বিএনপির প্রভাবশালী নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন তার বিরুদ্ধে ১৪টি মামলা দিয়েছে জানিয়ে সুবিদ আলী বলেন, “আমি এমপি হওয়ার পর বলেছি তার অপরাধ ক্ষমা করে দিলাম। একটা কেসও দেয়নি।”