১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ইসলামী আন্দোলনের অনুষ্ঠানে নারী সাংবাদিকদের ‘পর্দা করে’ আসতে হবে: ফয়জুল করিম

“লং মার্চ করছে সরকারের বিরুদ্ধে, আবার বলে, সরকারের প্রতি আন্তরিক। তাহলে কেন এত তেল পোড়ালাম, মানুষকে ভোগালাম,” বিরোধীদলের প্রসঙ্গে বলেন তিনি।

বিডিনিউজ২৪

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 10 Sep 2026, 05:49 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:57 AM

ইসলামী আন্দোলনের অনুষ্ঠানে নারী সাংবাদিকদের ‘পর্দা করে’ আসার কথা বলেছেন দলটির দ্বিতীয় শীর্ষনেতা সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম।

বৃহস্পতিবার দলের এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “পর্দা করে আসবে, পর্দা করে আসবে...। আমি শরিয়ত মানি, আমাকে শরিয়ত মানার সুযোগ করে দিতে হবে।”

এদিন দুপুরে পুরানা পল্টনে নিজেদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘হেবা আইনের বিতর্কিত সংশোধন প্রসঙ্গে শরিয়াহ ও আমাদের অবস্থান’ শিরোনামে এ সংবাদ সম্মেলন ডাকে ইসলামী আন্দোলন। এতে দলের মহাসচিব গাজী আতাউর রহমানসহ বেশ কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে নারী সংবাদকর্মীরা সামনে বসবেন, নাকি পেছনে বসবেন, সেই প্রশ্নের সূত্র ধরে ‘পর্দা করার’ প্রসঙ্গ তোলেন ফয়জুল করিম, যিনি দলে ‘শায়েখ চরমোনাই’ নামে পরিচিত।

‘পর্দা করার’ প্রসঙ্গ ওঠায় এক সাংবাদিক বলেন, “আপনাদের দলের নেতা তো নারীদের সঙ্গে টকশো করতে যান!”

জবাবে ফয়জুল করিম বলেন, “না, না, এটা ঠিক না।”

তখন সাংবাদিক বলেন, “আপনাদের মহাসচিবসহ অনেকে টকশো করেছেন।”

ফয়জুল করিমের উত্তর ছিল, “এ তথ্যটাও ঠিক না; মহাসচিব করেন নাই। একটা করছিল; আমরা বাধা দিয়েছি।

“আমার কথা হইলো, আমার কোনো বোন যদি আসে, শরিয়তসম্মতভাবে আসবে...। আমরা সেটাকে বাধা দিচ্ছি না। আমার কোনো বোন যদি শরিয়তসম্মতভাবে সাংবাদিকতা করেন, আমরা বাধা দিচ্ছি না কিন্তু।”

তিনি আরও বলেন, “যারা শরিয়তকে মানেন, আমার বোনটারও উচিৎ, তাদেরকে শরিয়ত মানার ব্যবস্থা করে দেওয়া।

“আমার বোনের অবশ্যই উচিৎ না যে, আমি শরিয়ত মানি না, আপনাকে মানতে দেব না।”

এসময় দেশের সকল শরিয়তবিরোধী আইন রদ করে দেওয়ার আহ্বান জানান ফয়জুল করিম।

‘লং মার্চের যৌক্তিকতা কোথায়?’

৬ দফা দাবিতে গত শনিবার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত লং মার্চ করে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। 

সংবাদ সম্মেলনে তাদের এ কর্মসূচিকে দ্বিমুখী নীতি হিসেবে তুলে ধরেন ফয়জুল করিম।

তিনি বলেন, “সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়, বিরোধী দল কী করে, আর কী বলে, এটার মধ্যে বিতর্ক। লং মার্চ করছে সরকারের বিরুদ্ধে, আবার বলতেছে, সরকারের প্রতি আন্তরিক।

“তাহলে এত তেল কেন পোড়ালাম, কেন মানুষের ভোগান্তি করলাম, কেন লং মার্চ করলাম। একটা লং মার্চের স্বার্থকতা কী?”

সরকারের বিরুদ্ধে ইসলামী আন্দোলন কেন কর্মসূচি দিচ্ছে না, সেই প্রশ্নে তিনি বলেন, “কেন দিচ্ছি না? কারণ আমরা সরকারকে আরও সময় দিব। যেহেতু সরকার বলেছে, ‘সংকট সৃষ্ট, সমস্যা সমাধানে একটু সময় লাগবে’। এজন্য আমরা সমস্যা সমাধানের চাপও দিয়েছি এবং সময় নেওয়ার কথা বলেছি, যে আপনি সময় নেন।

“কিন্তু বিরোধী দল সেই সময় দিতে পারে নাই। তাদের লং মার্চের স্বার্থকতা বিলীন হয়ে গেছে।”

শুক্রবার বিক্ষোভ

সংবাদ সম্মেলনে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) আইন-২০২৬’ আরও পর্যালোচনার দাবি জানান ফয়জুল করিম।

এ দাবিতে শুক্রবার সব বিভাগীয় শহরে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করে তিনি বলেন, “আমরা সরকারের সদিচ্ছার প্রতি সুধারণা রাখছি। সম্ভবত গভীরভাবে না ভেবেই আইনটি আনা হয়েছে। সেজন্য সরকারকে বলব, আইনটি নিয়ে অধিকতর পর্যালোচনা করুন। 

“উলামায়ে কেরাম ও আইনবিদদের সাথে পরামর্শ করুন। প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনুন। কিন্তু সমস্যা সমাধানের নামে কোন অবস্থাতেই শরীয়াহ অমান্য করা যাবে না।”