যুগপৎ আন্দোলনে রাজি গণফোরামও বিএনপি

গণফোরাম নেতা মোস্তফা মোহসিন মন্টু বলেন, “অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বিএনপির জাতীয় নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করেছি এবং ঐক্যমত্যে পৌঁছেছি।”

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 2 August 2022, 05:22 PM
Updated : 2 August 2022, 05:22 PM

সরকার পতনের যুগপৎ আন্দোলনে গণফোরাম (একাংশ) ও বিএনপি ঐকমত্যে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার বিকালে মোস্তফা মোহসিন মন্টুর নেতৃত্বাধীন গণফোরামের সঙ্গে দলটির আরামবাগের ইডেন গার্ডেনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দেড় ঘণ্টার সংলাপ শেষে তিনি এ কথা জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, “গণফোরামের সাথে আলোচনা করে আমাদের এই বিশ্বাস জন্মেছে যে, সকল রাজনৈতিক দলগুলো একমত হবে যে, ভয়াবহ দানবীয় যে সরকার আছে- যারা আমাদের সকল অর্জনকে ধ্বংস করে দিচ্ছে, তাকে সরিয়ে আমরা জনগণের একটি সরকার প্রতিষ্ঠা করব এবং একটা পার্লামেন্ট তৈরি করব- এই ব্যাপারে আমরা একমত হয়েছি। এই বিষয়ে আমরা যুগপৎ আন্দোলন করার ব্যাপারেও একমত হয়েছি সকল রাজনৈতিক দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে।”

বিএনপি মহাসচিব জানান বৈঠকে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, ৩৫ লাখ নেতাকর্মীর মামলা প্রত্যাহার, নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আলাপ হয়েছে।

এছাড়া সব দলের মতামতের ভিত্তিতে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করে সেই কমিশনের পরিচালনায় সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য এবং অংশগ্রহণমূলক একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়ে আলোচনা হয়।

তিনি বলেন, “সেই নির্বাচনের পরে আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের জাতীয় সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে দেশে যে অব্যবস্থা রয়েছে, প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করা হয়েছে সেই প্রতিষ্ঠানগুলোকে তৈরি করার ব্যাপারে অর্থাৎ রাষ্ট্রকে সংস্কার করার জন্য একটা প্রস্তাবও আমরা দিয়েছি।”

অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় ঐক্যমত্য হয়েছে বলে জানান গণফোরামের মোস্তফা মোহসিন মন্টু।

তিনি বলেন, “চলমান এই যে বিশৃঙ্খলা, জাতীয় পর্যায়ে আমরা দুইটি নির্বাচন দেখেছি ২০১৪ ও ২০১৮ সালে। এই দুইটি নির্বাচন জাতির কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। আমি বিশ্বাস করি, এই সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না।

অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানান গণফোরামের একাংশের নেতা।

“এই নির্বাচনটা জনগণের স্বার্থে, মুক্তিযুদ্ধ এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের যে চেতনার কথা আমরা বলি সেই চেতনাটা বাস্তবায়নে আমরা কাজ করে যাব। এ বিষয়ে সকলে ঐক্যমত্যে পৌঁছেছি, আমাদের মধ্যে দ্বিমত নেই।”

সংলাপে যোগ দিতে বিকাল ৪টায় বিএনপি মহাসচিব ৪ সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে গণফোরামের কার্যালয়ে আসেন।

প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল ম্ঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী ও মিডিয়া সেলের সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন।

সংলাপে গণফোরামের সভাপতি মোস্তফা মোহসিন মন্টু ৮ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন নির্বাহী সহসভাপতি অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, অ্যাডভোকেট মহসিন রশিদ, মহিউদ্দিন আব্দুল কাদের, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সভাপতি পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট আনসার খান ও অ্যাডভোকেট ফজলুল হক সরকার ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব খান ফারুক।

সরকার বিরোধী আন্দোলনে বৃহত্তর প্ল্যাটফর্ম গড়তে তুলতে বিএনপি গত ২৪ মে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু করে। এই পর্যন্ত ১৮ টি দলের সাথে সংলাপ শেষ করেছে তারা।

এগুলো হচ্ছে- আ স ম আবদুর রবের জেএসডি, মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্য, সাইফুল হকের বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও জোনায়েদ সাকির গণসংহতি আন্দোলন।

২০ দলীয় জোটের শরিকদের মধ্যে বিএনপি যাদের সাথে এই পর্যন্ত সংলাপ করেছে সেগুলো হলো- জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), ইসলামী ঐক্যজোট, লেবার পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), জাতীয় দল, মুসলিম লীগ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, সাম্যবাদী দল, ডেমোক্রেটিক দল (ডিএল), ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি), ইসলামিক পার্টি, পিপলস লীগ ও ন্যাপ-ভাসানী।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক